বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১০:২৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের দাফন সম্পন্ন খোয়াই নদীর বাঁধ পরিদর্শনে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আজাদ ॥ হবিগঞ্জ যেন কোনো বন্যায় প্লাবিত না হয় তার জন্য প্রকল্প গ্রহন করা হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ নবীগঞ্জে মেরামতের ৩ মাসেই রাস্তার বেহাল দশা নবীগঞ্জ পৌরসভায় কোটি টাকার সরকারি যানবাহন অযত্নে নষ্ট নবীগঞ্জে মাঠ থেকে মরদেহ উদ্ধার ॥ হত্যার অভিযোগ চুনারুঘাটে চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও ভূমির অধিকারের দাবিতে মানববন্ধন সাংবাদিক বদরুল আলমের পিতার ইন্তেকাল ॥ শোক হবিগঞ্জে সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের অভিযান ॥ টাকা ও মোবাইল উদ্ধার চুনারুঘাট আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতির গণসংযোগ

বাহুবলে যাতায়াত বিড়ম্বনায় শিক্ষার্থীরা

  • আপডেট টাইম বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০১৫
  • ৫৮০ বা পড়া হয়েছে

বাহুবল প্রতিনিধি ॥ ঘড়ির কাটায় বিকেল সাড়ে ৪টা। স্কুল, কলেজ, মাদরাসা সবে ছুটি হয়েছে। বাহুবল বাজারের একপ্রান্তে দোকানপাঠের ছায়ায় দাঁড়িয়ে বাহনের জন্য অপেক্ষার প্রহর গুণছে শ’দুয়েক ছাত্রছাত্রী। অনেকক্ষণ পর একটি যাত্রীবাহী লেগুনা গাড়ি মিরপুর বাজারের দিক থেকে এসে থামলো। ১১ সিটের এ লেগুনা গাড়িকে দেখেই এগিয়ে গেল অপেক্ষমান ছাত্রছাত্রীরা। শুরু হলো ধাক্কাধাক্কি, কার আগে কে গাড়িতে উঠবে। শেষ পর্যন্ত খালি সিটে ৫ জন এবং বাম্পারে ঝুঁলে ৩ জন বাড়ির পথে যাত্রা করলো। আটকা পড়া অবশিষ্টদের পরবর্তী লেগুনার জন্য অপেক্ষার প্রহর গুণা শুরু হলো। কখন যে এসব ছাত্রছাত্রীর বাড়ি ফেরা হবে, কারো জানা নেই। হয়তো কারো কারো বাড়ি ফিরতে সন্ধ্যাও গাড়িয়ে যাবে। পরদিন আবার তাদের স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার ক্লাশ ধরার জন্য পথে নামতে হবে সেই সাতসকালে। এভাবেই গত ১০/১১ দিন ধরে চলছে এ অঞ্চলের শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি। আসা-যাওয়ার এরূপ বিড়ম্বনা স্থানীয় স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায় ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি কমে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ নিয়ে স্থানীয় ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের দুশ্চিন্তার অন্তঃ না থাকলেও কর্তৃপক্ষের যেন কোন ভাবনা নেই। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বাহুবল বাজারে যানবাহনের অপেক্ষায় থাকা শিক্ষার্থীদের সাথে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। এ সময় শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার বিকল্প যানবাহনের ব্যবস্থা না করেই হাঠৎ করে মহাসড়কে অটোরিকশা বন্ধ করে দিয়েছে। এতে বাহুবল উপজেলার শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতে ব্যাপক দুর্ভোগ নেমে এসেছে। ফেরদৌসী নামে এক স্কুল ছাত্রী জানায়, তার বাড়ি সদর থেকে ৫ কিলোমিটার উত্তর দিকে একটি গ্রামে। সদরে প্রাইভেট পড়ার জন্য তাকে সকাল ৭টায় আসতে হয়। সে লক্ষে তাকে ভোর বেলা বাড়ি থেকে বের হতে হয় এবং স্কুলের ক্লাশ শেষ করে যানবাহনের দুর্ভোগ মুখাবেলা করে বাড়ি ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। ফলে রাতে আর তার দ্বারা পড়ালেখা করা সম্ভব হয় না। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী সমাপনী পরীক্ষায় তাকে ফল বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হবে বলেই তার আশঙ্কা। কথা হয় ফয়সল নামে এক কলেজ ছাত্রের সাথে। সে জানায়, বাহুবল উপজেলা সদরে ২টি হাইস্কুল ও একটি কলেজ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কয়েক সহস্র শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। ওইসব গ্রাম থেকে বাহুবল সদরে আসতে মহাসড়কের বিকল্প কোন পথ নেই। আবার সিএনজি চালিত অটোরিকশা ছাড়া কোন যানবাহনও নেই। অটোরিকশা বন্ধ করে দেয়ার পর মিরপুর বাজার থেকে দ্বিগাম্বর বাজার পর্যন্ত দু’একটি লেগুনা চলাচল করলেও তা পর্যাপ্ত নয়। ফলে যানবাহনের অভাবে আমরা নিয়মিত স্কুল, কলেজে আসা-যাওয়া করতে পারছি না। ফলে এখানকার শিক্ষার্থীদের ক্লাশ গ্রহণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কামরুল নামে এক শিক্ষার্থী জানায়, তাদের সামনে ২য় সাময়িক পরীক্ষা আসন্ন। এ সময় যাতায়াত বিড়ম্বনার কারণে নিয়মিত স্কুলে আসা-যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে পরীক্ষার প্রস্তুতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ওইসব শিক্ষার্থীরা আরো অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা সদর থেকে যাতায়াতের পরিবহনের সংখ্যা কম থাকায় অসাধুরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। এ নিয়ে প্রায়ই যাত্রী ও লেগুনার চালক-হেলপারের মাঝে বাকবিতন্ডা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com