শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৫৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
হবিগঞ্জের ১৭১ শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ ॥ স্থবির হয়ে পড়েছে শিল্পাঞ্চল ॥ ছাঁটাই আতঙ্কে ১ লাখ ৫০ হাজার শ্রমিক চুনারুঘাটে ১২ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার হবিগঞ্জ সদর ও ডিবি পুলিশের মোবিলাইজেশন ড্রিল উপলক্ষে মহড়া শহরের ব্যাক রোডে পৌরসভার পানি সরবরাহের পাইপ লাইন স্থাপনের কাজ শুরু শায়েস্তাগঞ্জে পুলিশের বিশেষ মহড়া অনুষ্ঠিত সৈয়দ কামাল উদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে হুইপ জি কে গউছের শোক প্রকাশ শায়েস্তাগঞ্জে ছাত্র-জনতার উপর হামলার ঘটনায় আ.লীগ নেতা মানিক গ্রেফতার আনোয়ারপুরে সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার বানিয়াচঙ্গে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ নিয়ে তুলকালাম কান্ড হবিগঞ্জ শহরে “পূবালী ব্যাংক পিএলসি” টাউন মসজিদ রোড শাখার উদ্যোগে “ক্যাশলেস ক্যাম্পেইন ও র‌্যালী” অনুষ্ঠিত

হবিগঞ্জের ১৭১ শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ ॥ স্থবির হয়ে পড়েছে শিল্পাঞ্চল ॥ ছাঁটাই আতঙ্কে ১ লাখ ৫০ হাজার শ্রমিক

  • আপডেট টাইম শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ০ বা পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ উৎপাদন বন্ধ থাকায় কারখানায় অলস সময় কাটাচ্ছেন শ্রমিকরা। এতে ছাঁটাই আতঙ্ক তাড়া করছে হবিগঞ্জে শিল্প এলাকায়। তৃতীয় দিনের মতো গ্যাস সরবরাহ না থাকায় বন্ধ আছে শিল্পকারখানাগুলোর উৎপাদন। প্রায় সবগুলো কারখানাতেই অলস সময় কাটাচ্ছেন শ্রমিকরা। অনেক কারখানায় শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় শ্রমিকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ছাঁটাই আতঙ্ক। উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কারখানার খরচ চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন শিল্প মালিকরা। প্রতিদিন লোকসান গুনতে হচ্ছে হাজার কোটি টাকা।
স্কয়ার ডেনিম লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাজেদ হোসেন জানান, এখনো (শুক্রবার বিকেল ৩টা) পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ করা হয়নি একেবারে শূন্য। মেশিন, বিদ্যুৎ সবকিছু বন্ধ। বেশি সময় বন্ধ থাকলে মেশিনগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। হবিগঞ্জে ১৭১ শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ। তিনি বলেন, একটি লাইনে দৈনিক তাদের গ্যাসের চাহিদা ১ লাখ ২ হাজার ৫৯৭ কিউবিক মিটার এবং অপর লাইনে চাহিদা ৮৬ হাজার ২৮ কিউবিক মিটার। কিন্তু তিনদিন হতে চলেছে কোনো গ্যাস নেই।
এসএম স্পিনিংয়ের মহাব্যবস্থাপক মো. আবুল বাশার বলেন, ‘প্রতিমাসে আমাদের ১০ লাখ ৩৫ হাজার ঘনমিটার গ্যাস প্রয়োজন। সে হিসেবে দৈনিক প্রয়োজন ৩৪ হাজার ৫০০ ঘনমিটার। গতকাল সকালে ৬০ শতাংশ গ্যাস দিয়েছে। কিন্তু দুপুর ১২টায় হঠাৎ সরবরাহ ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। এ অবস্থায় মেশিন চালানো অত্যন্ত কঠিন। বারবার বিদ্যুৎ যাওয়া আসা করলে মেশিনও বিকল হয়ে যেতে পারে। এগুলো অত্যাধুনিক মেশিন নষ্ট হলে মেরামত করাও কঠিন।’
তিনি বলেন, ‘প্রতিনিয়ত ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে। আমরা যারা শিল্পে কাজ করি, তারাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। মালিকপক্ষ কতদিন লোকসান গুনবে। এভাবে চলতে থাকলে একসময় মানুষ চাকরি হারাবে।’ সামিটের এলএনজি সরবরাহ বন্ধ, গ্যাস সংকট আরও তীব্র হওয়ার শঙ্কা।
এরইমধ্যে ১৩ শতাংশ রপ্তানি কমে গেছে বলে জানান এসএম স্পিনিংয়ের এই মহাব্যবস্থাপক। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন কোম্পানির অর্ডার বাতিল হচ্ছে। আসলে দেড়লাখ শ্রমিকতো শুধু দেড়লাখ নয়, এরসঙ্গে আরও অনেকে জড়িত। যদি প্রত্যেকের সঙ্গে পাঁচজন করে ধরি, তবে সাড়ে সাত লাখ মানুষের ভাগ্য শিল্পের সঙ্গে জড়িত। সুতার সঙ্গে কাপড়ের সম্পর্ক। কাপড় যারা তৈরি করেন তারা রপ্তানি না করতে পারলে সুতা নেবেন না।’
সায়হাম গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. রেজাউল হক জানান, গতকাল শুক্রবার তারা একেবারেই গ্যাস পাননি। তবে কোনো শ্রমিককে ছুটি দেওয়া হয়নি। গ্যাস সরবরাহ শুরু হলে যেন মেশিন চালু করতে পারেন, সেই আশায় আছেন।
তিনি বলেন, ‘গ্যাস না থাকা বা বারবার আসা যাওয়ার কারণে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কিছু যন্ত্র আছে যেগুলো আসলে মেরামতযোগ্য নয়। এগুলো নতুন এনে লাগাতে হয়।’
এটি সরকারকে বিব্রত করতে কোনো ষড়যন্ত্র কি-না’ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হতে পারে। এটি নিশ্চিত করে বলা যাবে না। হয়তো সরকারকে সাবোটেজ করার জন্য কেউ এমনটি করতেও পারে।
পূর্ণ সক্ষমতায় ফেরাতে এলএনজি টার্মিনাল ফের পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হবে।
একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ফরাস দেবনাথ জাগো নিউজকে জানান, কয়েক দিন ধরে গ্যাসের চাপ কম থাকায় ঠিকমতো উৎপাদন করা যাচ্ছিল না। এখন পুরোপুরি গ্যাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কারখানায় কাজও বন্ধ রয়েছে। কারখানা বন্ধ থাকায় শ্রমিক-কর্মচারীরা কর্মস্থলে এসে অলস সময় পার করছেন। এভাবে দীর্ঘদিন চলতে থাকলে তাদের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে পড়বে। সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানান তিনি।
কয়েক দিন ধরে গ্যাসের চাপ কম থাকায় ঠিকমতো উৎপাদন করা যাচ্ছিল না। এখন পুরোপুরি গ্যাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কারখানায় কাজও বন্ধ রয়েছে। কারখানা বন্ধ থাকায় শ্রমিক-কর্মচারীরা কর্মস্থলে এসে অলস সময় পার করছেন। এভাবে দীর্ঘদিন চলতে থাকলে তাদের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে পড়বে। শুধু শিল্পমালিক বা কর্মকর্তারা নয়, গ্যাস সংকটে উদ্বিগ্ন শ্রমিকরাও।
শেফালী বেগম নামের একজন শ্রমিক জানান, গ্যাস সংকটের কারণে কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা খুবই দুশ্চিন্তায় আছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না গ্যাস, বিপাকে চালক-যাত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন কাজ করে সংসার চালাই। কারখানা বন্ধ থাকলে আমাদের কাজ নেই, আয়ও নেই। কতদিন এভাবে চলবে, সেটিও জানি না। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে আমাদের মতো শ্রমিকদের পরিবার সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়বে।’
সিলেট জোন শিল্প পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিল্লুল রায় জাগো নিউজকে জানান, হবিগঞ্জ জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে ১৭১টি শিল্পকারখানা রয়েছে। এগুলোর নিরাপত্তা বিধানে তারা অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন।
‘কোনো উন্নতি নেই, আগের মতোই আছে’ সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক মো. রুহুল করিম চৌধুরীর বলেন, সারাদেশের যা অবস্থা আমাদেরও একই অবস্থা। কোনো উন্নতি নেই, আগের মতোই আছে। গতরাতে (বৃহস্পতিবার) কিছুটা পেয়েছিলাম। কিন্তু কিছু সময় পরই আবার আগের মতো বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা শুনেছিলাম ১৫ আগস্ট থেকে ঠিক হবে। কিন্তু অফিসিয়ালি আমাদের কিছু জানানো হয়নি। আমরা শুধু বিতরণ করি। গ্যাসের নিয়ন্ত্রণ করে সব পেট্রোবাংলা।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই হবিগঞ্জ জেলায় শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। ২০ দিন ধরে সংকট থাকলেও সরবরাহ ছিল সামান্য। কিন্তু গত বুধবার (১২ আগস্ট) থেকে পুরোপুরিই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে জেলার ১৭১টি শিল্পকারখানার প্রায় সবগুলোতেই। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন দেড় লক্ষাধিক শ্রমিক। কারখানা বন্ধ থাকায় প্রতিদিন ক্ষতি হচ্ছে শত শত কোটি টাকা, যার বেশিরভাগই রপ্তানি আয়। একের পর এক বাতিল হচ্ছে বৈদেশিক অর্ডার। দৈনিক খরচ চালানো নিয়ে এখন অনেক কারখানা হিমশিম খাচ্ছে। তবে গ্যাস কর্তৃপক্ষ বলছে, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই গ্যাস সরবরাহ ঠিক হয়ে যাবে।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com