মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
চাকুরীর ক্ষেত্রে মেধার কোন বিকল্প নেই-জিকে গউছ অলিপুরে র‌্যাবের অভিযানে ৮ কেজি গাঁজাসহ আটক ২ মাধবপুরে ডাকাতি ঘটনায় মূল হোতাসহ ৭ ডাকাত কারাগারে হবিগঞ্জের সাবেক ডিসিসহ ৩২ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে মাধবপুরে ব্যবসায়ীর ১৪ গরুসহ পিকআপ ছিনতাই যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণীতে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করলেন নবীগঞ্জের কৃতি শিক্ষার্থী সাবিয়া চৌধুরী চুনারুঘাট শাহজীবাজার রাবান বাগান কর্মকর্তাদের উপর হামলার অভিযোগে মামলা দায়ের ॥ গ্রেপ্তার হয়নি কেউ হবিগঞ্জ কারাগার পরিদর্শনে আজ যাচ্ছেন প্রতিনিধিদল মাধবপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত বাহুবলে ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

মাধবপুরে অতিবৃষ্টিতে সবজি চাষে বিপর্যয় ॥ লাখ লাখ টাকার ক্ষতি

  • আপডেট টাইম সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬
  • ৩ বা পড়া হয়েছে

মাধবপুর প্রতিনিধি ॥ টানা বর্ষণ, জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ি ঢলের কারণে মাধবপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সবজি চাষে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে। অতিবৃষ্টিতে শত শত একর জমির শসা, করলা, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, লাউ, কুমড়া, টমেটো, বরবটি ও অন্যান্য মৌসুমি সবজির খেত নষ্ট হয়ে গেছে। এতে উপজেলার শতাধিক কৃষক লাখ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন। উৎপাদন ব্যয় তো দূরের কথা, অনেকেই এখন মূলধন ফেরত পাওয়া নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন।
উপজেলার শাহজাহানপুর, জগদীশপুর, ধর্মঘর, বহরা, বাঘাসুরা, চৌমুহনীসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ সবজির জমিতে এখনও পানি জমে রয়েছে। দীর্ঘদিন জমিতে পানি জমে থাকায় গাছের গোড়া পচে যাচ্ছে, পাতাগুলো হলুদ হয়ে শুকিয়ে ঝরে পড়ছে। অনেক গাছে ফুল ও কাঁচা ফল থাকলেও সেগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে কৃষকদের কয়েক মাসের শ্রম ও বিনিয়োগ এক নিমিষেই পানিতে ভেসে গেছে।
কৃষকদের ভাষ্য, চলতি মৌসুমে বর্ষাকালে সবজির ভালো দাম পাওয়ার আশায় তারা ব্যাংক ও বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আবাদ করেছিলেন। কিন্তু টানা বৃষ্টি তাদের সব পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছে। এখন অনেকেই ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
শাহজাহানপুর ইউনিয়নের কৃষক জামাল মিয়া বলেন, “অনেক আশা নিয়ে শসা ও চিচিঙ্গার আবাদ করেছিলাম। কিন্তু কয়েক দিনের বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে সব গাছ নষ্ট হয়ে গেছে। এ বছরের মতো এত দীর্ঘ সময় বৃষ্টি আগে দেখিনি। প্রায় ২০ দিন সূর্যের দেখা মেলেনি। এখন রোদ উঠলেও গাছগুলো একে একে মারা যাচ্ছে। আমাদের সব পরিশ্রম বৃথা হয়ে গেল।”
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তাপস দেব জানান, অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে সবজি গাছের শিকড়ে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয়। ফলে গাছ দ্রুত পচে যায় এবং বিভিন্ন ছত্রাক জনিত রোগ ছড়িয়ে পড়ে। সময় মতো জমির পানি নিষ্কাশন করা না গেলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। তবে নতুন করে সবজি আবাদে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
মাধবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজিব সরকার বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন। বন্যা-পরবর্তী সময়ে নতুন করে কৃষকদের প্রণোদনার আওতায় বীজ, সারসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।”

 

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com