শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৩০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
হবিগঞ্জে সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন সবজির দাম বেড়েছে ॥ জনদূর্ভোগ জালালাবাদ এসোসিয়েশনের নির্বাচনে অধ্যাপক কামরুল হাসান সভাপতি ও অ্যাডভোকেট জসিম সম্পাদক নির্বাচিত নবীগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ২২ জনের নাম উল্লেখ করে ৮০ জনের বিরুদ্ধে মামলা আজ বানিয়াচং মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন শহরের বিভিন্ন বাজারে রোগাক্রান্ত গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগ নবীগঞ্জের চোখ হারানো আলিফের পরিবারের পাশে এনসিপি ॥ মায়ের খোঁজ নিলেন নেতৃবৃন্দ মাধবপুরে বিজিবির অভিযানে ৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার বাহুবলের সাটিয়াজুরি বাজারে মাদকের বিরুদ্ধে জনতার প্রতিবাদ সমাবেশ মাধবপুরে মাদ্রাসা ছাত্রী অপহরণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার ভিকটিম উদ্ধার হবিগঞ্জে নাছির উদ্দিন পাটোয়ারী ও সারজিস আলম সহ ১০ এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের

সোনাই নদীর কোটি টাকার সিলিকা বালি লোপাট ॥ প্রশাসনের নীরবতায় উধাও সরকারি রাজস্ব !

  • আপডেট টাইম শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৭৫ বা পড়া হয়েছে

মাধবপুর প্রতিনিধি ॥ ভারত থেকে নেমে আসা সোনাই নদী এখন যেন সিলিকা বালির অবৈধ খনি। মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের নদীপাড় জুড়ে দিন-রাত চলছে কোটি টাকার সিলিকা বালি লুটপাট। থেমে নেই সিন্ডিকেটের বালু তোলার মহোৎসব। প্রশাসন সব দেখেও যেন অদৃশ্য নীরবতার দেয়াল তুলে রেখেছে। আর সেই সুযোগে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী নেতা, ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী প্রশাসনিক কর্মকর্তারা কমিশন বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
চৌমুহনী ইউনিয়নের আলাবক্সপুর, মঙ্গলপুর, অলিপুর, মহব্বতপুর ও হরিণখোলা এলাকায় অন্তত ১৮-২০ টি বিশাল বালুর স্তুপ তৈরি হয়েছে। যেখানে মজুদ রয়েছে ২-৩ লাখ ঘনফুট সিলিকা বালি। বাজারদর অনুযায়ী এই বালুর মূল্য ১.৫-২ কোটি টাকারও বেশি। স্থানীয়দের দাবি, এরই মধ্যে প্রায় লাখ খানেক ঘনফুট বালু বিভিন্ন স্থানে পাচার হয়েছে। যার বাজারদর এক কোটি টাকার বেশি। অথচ এসব বালি জব্দ, তালিকা প্রস্তুত বা খনিজ মন্ত্রণালয়ে তথ্য পাঠানোর কোনো উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর।
নিয়ম অনুযায়ী যেসব বালি উদ্ধার বা নদী থেকে তোলা হয়, তার বিষয়ে ভূমি অফিস বা উপজেলা প্রশাসনকে খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর কথা। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কিছু কর্মকর্তা মোটা অঙ্কের কমিশনের বিনিময়ে বিষয়গুলো ধামাচাপা দিয়ে রেখেছেন। ফলে সরকারি কোষাগার থেকে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারিয়ে যাচ্ছে, আর সিন্ডিকেটের পকেট ভরছে।
স্থানীয় জাহাঙ্গীর মিয়া নামে এক ব্যবসায়ী এসবএই বালি জব্দ ও নিলামের জন্য খনিজ মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করলেও এখনো কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাদের অভিযোগ প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে নীরব রয়েছে। কারণ এ কাজে জড়িত রয়েছে প্রভাবশালী একটি চক্র।
এদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতা সোহেল মাহমুদ সিলিকা বালির এই লুটপাটের কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “সরকারের কোটি টাকা রাজস্ব লোপাট হচ্ছে। অথচ উপজেলা প্রশাসন সব জেনেও অজুহাত দাঁড় করিয়ে বসে আছে। দ্রুত এসব বালু জব্দ করে নিলাম দিলে সরকার বিপুল রাজস্ব পেত। আমি এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করায় আমার বিরুদ্ধে পর্যন্ত মামলা দেওয়া হয়েছে।”
স্থানীয়দের দাবি এভাবে বালি লুটপাটের ফলে নদী ভাঙন, রাস্তা-ঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ও এলাকায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটছে। তারা দ্রুত সিন্ডিকেট চিহ্নিত করে বালুচোরদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
যোগাযোগ করা হলে মাধবপুরের এসিল্যান্ড মজিবুল ইসলাম বলেন, “এসব সিলিকা বালি কি না, আমরা নিশ্চিত নই। তবে কেউ চুরি বা অবৈধভাবে বালি পাচার করলে তথ্য দিলে আমরা জরুরিভিত্তিতে ব্যবস্থা নেই। আমাদের কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সোনাই নদীর বালু লুটপাট নিয়ে এলাকাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com