বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
শহরে চাঁদের হাসি হাসপাতালের ভুল চিকিৎসায় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ॥ গোলাম মোস্তফা রফিক’র মৃত্যু ॥ তদন্ত কমিটি গঠন ॥ আজ মঙ্গলবার ২টায় কেন্দ্রীয় ইদগাহে জানাযা ॥ বিভিন্ন মহলের শোক ১৮২ কোটি টাকার উন্নয়ন গ্রকল্প গ্রহণ হবিগঞ্জে হুইপ জি কে গউছের উদ্যোগে বদলে যাচ্ছে পৌরসভা ও ৩ উপজেলা বিএনপি নেতা গোলাম মোস্তফা রফিকের মৃত্যুতে হুইপ জি কে গউছের শোক প্রধানমন্ত্রী পক্ষ থেকে চা শ্রমিকদের মাঝে ঘরের চাবি প্রদান করেন এমপি ফয়সল বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু-কিশোরদের নিয়ে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত মাধবপুরে কৃষি কাজের ট্রাক্টরে বডি সংযোজন করে বালু-মাটি পরিবহন বাহুবলে মুজতবা আলী স্মৃতি পরিষদের ‘মুজতবাচরিত’ প্রকাশনা উৎসব রেমা-কালেঙ্গায় বন বিভাগের অভিযান ॥ মুলি বাঁশ জব্দ বানিয়াচং সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে পূবালী ব্যাংকের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি লস্করপুর এলাকায় আবারো খোয়াই নদীর বাঁধে ভাঙ্গন

হবিগঞ্জে ‘ওটিপি’র ফাঁদে ফেলে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র ॥ সতর্ক থাকার আহ্বান

  • আপডেট টাইম শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ১১৪ বা পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ হবিগঞ্জে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ব্যাংকে জমা প্রান্তিক মানুষের কষ্টার্জিত টাকা ‘ওটিপি’র ফাঁদে ফেলে হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র। কখনো ব্যাংকের কর্মকর্তা সেজে, কখনো বিকাশ, নগদ, রকেটসহ বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের কাস্টমার কেয়ারের অফিসার পরিচয় দিয়ে অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের মুঠোফোনে কল দেয়। প্রথমে ‘ওটিপি’ পাঠায়। পরে কৌশলী কথাবার্তা বলে ‘ওটিপি’ জেনে নেয়। আর এই ওটিপি ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের সব টাকা প্রতারক তার অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে। জেলার গ্রামাঞ্চলের সহজ-সরল মানুষ এভাবেই প্রতারিত হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। উপায় না পেয়ে প্রতারিত জনগণ আইনের দ্বারস্থ হচ্ছেন, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাচ্ছেন না।
ওটিপির ফাঁদে পড়ে ইতোমধ্যে চুনারুঘাট, শায়েস্তাগঞ্জ, হবিগঞ্জ-নবীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার লোকজন প্রায় অর্ধকোটি টাকা খুইয়েছেন।
নবীগঞ্জ পৌরসভার পূর্ব তিমিরপুর এলাকার জলিখা বেগমের খোয়া গেছে ৪৬ হাজার টাকা। অজ্ঞাতনামা প্রতারক চক্রের সদস্য গত ২০ আগস্ট বিকেলে ০১৩৩৭….৩১ নম্বর থেকে ভুক্তভোগী জলিখা বেগমের মোবাইলে কল দেয়। মোবাইলের ওপাশের ব্যক্তি নিজেকে ব্যাংক কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘ভুক্তভোগীর প্রাইম ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১৫ হাজার টাকা জমা হবে। এ কথা বলে ওই প্রতারক ভুক্তভোগীর মোবাইল নম্বরে পাঠানো ওটিপি কৌশলে নিয়ে নেয়। পরে নিমেষেই জলিখা বেগমের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে থাকা ৪৬ হাজার টাকা উধাও হয়ে যায়। তারপর তিনি নবীগঞ্জ থানায় জিডি করেন। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি।’
গত ১৬ সেপ্টেম্বর শায়েস্তানগর এবি ব্যাংক থেকে প্রতারকচক্র সারোয়ার মিয়া নামের এক গ্রাহকের ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এ ছাড়া জেলা শহরের বাসিন্দা শাহ আলম জানান, গত ৫ আগস্ট অচেনা মোবাইল নম্বর থেকে কল দিয়ে জানায়- বিকাশ রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে। বিকাশ অ্যাকাউন্ট সচল রাখতে হলে ছয় সংখ্যার একটি ওটিপি গেছে, সেটি তাড়াতাড়ি দেওয়ার জন্য। ওটিপি দেওয়া মাত্র তার বিকাশের সব টাকা নিয়ে যায় ওই প্রতারক। তারপর বারবার কল দিলেও প্রতারকের মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। চুনারুঘাট উপজেলার আছিয়া বেগম চলতি মাসের এক তারিখে ওটিপির ফাঁদে পড়েন। তার বিকাশ থেকে ১১ হাজার পাঁচ শ টাকা প্রতারকরা নিয়ে যায়।
ওটিপি ফাঁদ ছাড়াও একটি প্রতারক চক্র সাধারণ মানুষের সরলতাকে কাজে লাগিয়ে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিচ্ছে। চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল সকালে হবিগঞ্জ শহরের নোয়াবাদ এলাকার প্রবাসী বায়জীদ মিয়া সৌদি আরবে গুরুতর অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এ কথা তার ভাই কাওসার মিয়াকে জানায়। পরে কৌশলে তার কাছ থেকে ৪৩ হাজার টাকা নেয় প্রতারক চক্রটি।
এ ছাড়া চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের বদিউজ্জামান খান সড়কের বিকাশ ব্যবসায়ী ইদু মিয়ার কাছ থেকে সার্কেল এএসপির পরিচয় দিয়ে ১ লাখ ৭১ হাজার ৫০০ টাকা হাতিয়ে নেয় একটি চক্র। প্রতারিত দুজন থানায় জিডি করেন। হবিগঞ্জ কোর্টের নারী-শিশু আদালতের পিপি কামাল উদ্দিন আহমেদ সেলিম ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি, শিশু আদালত) হাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে একাধিক চক্র হবিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে ডিজিটাল প্রতারণা করে আসছে। মহিলাদের সবচেয়ে বেশি প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে। বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করে আসছে একাধিক চক্র। এ জন্য ব্যাপক হারে সংশ্লিষ্টদের সচেতনতামূলক প্রচারণা করতে হবে।’ ব্যাংকের ও বিকাশ-নগদের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, কখনোই অফিস থেকে পাসওয়ার্ড কিংবা ওটিপি জানতে চাইবে না। যদি কেউ বলে তাহলে ভেবে নিতে হবে প্রতারণা। তাই সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বলেন, ‘আমরা এই ডিজিটাল প্রতারক চক্রকে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছি। বিকাশে প্রতারণার স্বীকার বেশ কিছু ভুক্তভোগীর টাকা ইতিমধ্যে উদ্ধার করতে সম হয়েছে জেলা পুলিশ। তবে এসব ব্যাপারে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হতে হবে।’

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com