মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:০৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
শহরে চাঁদের হাসি হাসপাতালের ভুল চিকিৎসায় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ॥ গোলাম মোস্তফা রফিক’র মৃত্যু ॥ তদন্ত কমিটি গঠন ॥ আজ মঙ্গলবার ২টায় কেন্দ্রীয় ইদগাহে জানাযা ॥ বিভিন্ন মহলের শোক ১৮২ কোটি টাকার উন্নয়ন গ্রকল্প গ্রহণ হবিগঞ্জে হুইপ জি কে গউছের উদ্যোগে বদলে যাচ্ছে পৌরসভা ও ৩ উপজেলা বিএনপি নেতা গোলাম মোস্তফা রফিকের মৃত্যুতে হুইপ জি কে গউছের শোক প্রধানমন্ত্রী পক্ষ থেকে চা শ্রমিকদের মাঝে ঘরের চাবি প্রদান করেন এমপি ফয়সল বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু-কিশোরদের নিয়ে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত মাধবপুরে কৃষি কাজের ট্রাক্টরে বডি সংযোজন করে বালু-মাটি পরিবহন বাহুবলে মুজতবা আলী স্মৃতি পরিষদের ‘মুজতবাচরিত’ প্রকাশনা উৎসব রেমা-কালেঙ্গায় বন বিভাগের অভিযান ॥ মুলি বাঁশ জব্দ বানিয়াচং সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে পূবালী ব্যাংকের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি লস্করপুর এলাকায় আবারো খোয়াই নদীর বাঁধে ভাঙ্গন

আল্ট্রাসনোগ্রাম ঃ মহিলার পেটে এক সন্তান হলেও সেন্ট্রাল হসপিটালের ডাক্তারের রিপোর্টে ২ সন্তান

  • আপডেট টাইম শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
  • ১২৭১ বা পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ গর্ভবতী এক মহিলাকে পরীক্ষা করানোর জন্য তার স্বজনরা নিয়ে গিয়েছিলেন হবিগঞ্জ শহরের রূপালী ম্যানসনের ২য় তলায় অবস্থিত সেন্ট্রাল হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। সেখানে ডাঃ শর্মিলা মন্ডল রোগীর আলট্রাসনোগ্রাম করেন। আলট্রাসনোগ্রাম করে তিনি রিপোর্ট দেন ওই মহিলার গর্ভে দুইটি সন্তান রয়েছে। তন্মধ্যে একটি সন্তানের অবস্থান ভাল এবং অপরটির অবস্থান উল্টো। এ রিপোর্ট দেখে চোখ চড়কগাছ স্বজনদের। সবাই ঘাবড়ে যান। স্বজনরা রিপোর্ট নিয়ে ছুটে যান এ.কে হাসপাতালের গাইনী চিকিৎসক নাসিমা খানমের কাছে। রিপোর্ট দেখে নাসিমা খানমের সন্দেহ হয়। তিনি এ.কে হাসপাতালে আরেকবার রোগীর আলট্রাসনোগ্রাম করার পরামর্শ দেন। সে অনুযায়ী এ কে হাসপাতালে ডাঃ মোঃ নজরুল ইসলাম কনক পুনরায় আল্ট্রাসনোগ্রাম করেন। এতে ধরা পড়ে রোগীনীর গর্ভে সন্তান দু’টি নয়, একটি এবং সন্তানের অবস্থানও ভাল। এ রিপোর্ট পাওয়ার পর রোগীর স্বজনরা রিপোর্ট নিয়ে ডাঃ শর্মিলার কাছে গিয়ে জানতে চান রিপোর্ট দু’টির কোনটি সঠিক। এ সময় শর্মিলা তার নিজের রিপোর্টই সঠিক বলে দাবী করেন এবং ব্যবস্থাপত্রে লেখা তার বড় পদবী দেখিয়ে বাহাদুরি করেন। চ্যালেঞ্জ করে তিনি বলেন-আমি একজন বড় ডাক্তার, আমার অনেক ডিগ্রি রয়েছে, আমার কখনও ভুল হয় না।
এ বিষয়টি নিয়ে রোগীর স্বজনরা সেন্ট্রাল হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার এর ম্যানেজার অসিম কুমার দেবের সাথে যোগাযোগ করে ঘটনার বিষয়টি অবহিত করেন। এ সময় ম্যানেজার রোগীর আত্মীয় স্বজনের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। তিনি বলেন, আমাদের রিপোর্ট কখনো ভুল হতে পারে না। এক পর্যায়ে তিনি আবারো আট্রাসনোগ্রাম করার জন্য রোগী নিয়ে আসতে বলেন। সে অনুযায়ী গতকাল শুক্রবার ১১টার দিকে রোগীনীকে আট্রাসনোগ্রাম করার জন্য নিয়ে আসা হলে ডাক্তার শর্মিলা নিজে পরীক্ষা না করে সেন্ট্রাল হাসপিটাল এর তত্ত্বাবধানে মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগীনীকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ডাক্তার পরেশ চন্দ্র দেবনাথ পুনরায় আলট্রাসনোগ্রাম করেন। ডাক্তার পরেশ চন্দ্র দেবনাথের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় মহিলার গর্ভে এক সন্তান রয়েছে। মেডিকেয়ার থেকে স্বজনরা এ রিপোর্ট নিয়ে আসার আগেই সেন্ট্রাল হাসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে চম্পট দেন ডাঃ শর্মিলা মন্ডল। পরে সেন্ট্রাল হাসপিটালের ম্যানেজার অসিম কুমার দেব কোন সমাধান না দিয়ে পরদিন (আজ) রোগী ও তার আত্মীয় স্বজনকে হাসপাতালে আসার জন্য বলেন। এ ঘটনা জানতে পেরে ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী সাধারণও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে-ডাঃ শর্মিলা মন্ডল সদর উপজেলার গোপায়া ইউপি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে মেডিকেল অফিসার হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রেও ডাঃ শর্মিলার দায়িত্ব পালন নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। নার্গিস নামে এই রোগীকে এভাবেই বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়েছে। সিভিল সার্জন এ ব্যাপারে কি ব্যবস্থা নেন রোগীর স্বজনরা তা দেখার অপেক্ষায়। অন্যথায় তারা আইনের আশ্রয় নিবেন বলে জানান।
এ ব্যাপারে সেন্ট্রাল হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার এর ম্যানেজার অসিম কুমার দেবের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি হসপিটালের ম্যানেজিং ডাইরেক্টরকে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়া ডাঃ শর্মিলা মন্ডলের মাধ্যমে আলট্রাসনোগ্রাম করানো গতকাল দুপুর থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com