সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
লস্করপুর এলাকায় আবারো খোয়াই নদীর বাঁধে ভাঙ্গন খোয়াই নদীর ভাঙ্গা বাঁধ পরিদর্শন করেছেন হুইপ ॥ বিএনপির রাজনীতি করে জনগণের জন্য-জি কে গউছ শায়েস্তাগঞ্জে পুকুরে শুঁটকি ব্যবসায়ীর ভাসমান লাশ উদ্ধার হবিগঞ্জে পুলিশ কর্মকর্তা ও আনসার কমান্ডার পরিচয়ে এক যুবকের প্রতারণা পুলিশ সুপার বরাবরে অভিযোগ নবীগঞ্জে আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত মাধবপুরে আউশে ফলন ভালো দামে সর্বনাশ ॥ ধান চাষে মুখ ফিরাচ্ছেন কৃষক সততা-স্বচ্ছতার সাথে মানুষের কাজ করে যাচ্ছি-সৈয়দ ফয়সল এমপি বাহুবলে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে সড়ক অবরোধ ॥ যান চলাচল বন্ধ হবিগঞ্জ পৌরসভার কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার সিলেট বিভাগের পরিচালক আশরাফুর রহমান উজ্জ্বলপুর বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকট দুই কক্ষে ৫৭ শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম

মায়ের পূজায় গড়ে উঠবে বিশ্বভ্রাতৃত্ব

  • আপডেট টাইম মঙ্গলবার, ৪ অক্টোবর, ২০২২
  • ৩৬৮ বা পড়া হয়েছে

এডভোকেট নির্মল ভট্টাচার্য্য রিংকু ॥ যে দেবী শরণাগত দীন ও আর্তের পরিত্রাণপরায়ণা এবং সকলের দুঃখ নাশিনীÑতোমাকে প্রণাম। স্বর্গরাজ্যে দেবগণ যখন ভোগসুখে মত্ত হয়ে নিজ নিজ শক্তির প্রভাবে উন্মত্ত ও পরষ্পর বিচ্ছিন্ন তখনই সময় বুঝে অসুরের আক্রমণ নিগ্রহ ও অত্যাচার। বিশেষ করে মহিষাসুরের অত্যাচারের দেবগণ স্বর্গ থেকে বিতাড়িত হয়ে ব্রহ্মার কাছে গিয়ে দেবতারা দুঃখ নিবেদন করলেন। ব্রহ্মা সকল দেবগণকে নিয়ে মহাবিষ্ণুর কাছে গিয়ে দুঃখের কথা নিবেদন করলেন। মহাবিষ্ণু ব্রহ্মাকে বলেলেনÑ‘সকলে মিলে মহাশক্তির আরাধণা করো।’ তখন ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর সহ সকল দেবগণ মহাশক্তির আরাধনা আরম্ভ করলে প্রত্যেক দেবতার অঙ্গ থেকে জ্যোতি বের হতে লাগল। সমস্ত জ্যোতি একত্রিত হয়ে মহাজ্যোতির সৃষ্টি হলে, এই মহাজ্যোতি থেকে দশভূজা মহাশক্তি মহাদেবী ভগবতীর আবির্ভাব।
দেবী ভাগবতে পাই দুত্তজ অসুরের পুত্র কম্ভাসুর ও রম্ভাসুর। রম্ভ অগ্নির আরাধনা করতে লাগল আর ভাই কম্ভ জলে নেমে তপস্যা আরম্ভ করল। দেবরাজ ইন্দ্র কুমীর হয়ে কম্বকে গ্রাস করলেন। এদিকে রম্ভ কঠোর তপস্যা আরম্ভ করল। রম্ভকে বর দিতে দেখা দিলেন সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা। তখন রম্ভ ত্রিভুবন রণজয়ী হতে বর চাইল, ব্রহ্মা সেই বর দিলেন। বর পেয়ে রম্ভাসুর খুবই কামভাবে বিভোর হল। সে বটবৃক্ষের নিচে তপস্যা করছিল সেই বৃক্ষে যদের বাস কিন্তু ষরানিদেরে তার পছন্দ হল না। তখন একটি মহিষের সঙ্গ করল। সেই মহিষটি রম্ভাসুরের কাছে থাকত। কয়েক দিন পরে আরেকটি মহিষ এসে মহিষের সঙ্গ করতে চাইল। সঙ্গ না দেওয়ায় মহিষীর সঙ্গে মহিষের ভীষণ লড়াই হল এবং মহিষীকে বধ করল। তখন একটা মহিষ প্রসব করল-এটাই হল মহিষাসুর।
মহিষী মারা যাবার পর রম্ভাসুর আত্মহত্যার করতে চাইলে ব্রহ্মা এসে রম্ভকে বললেন-‘আত্মহত্যা করে পাপী হোয়ো না।’ এই রম্ভাসুরই রক্তবীজ হল। দেবী ভাগবতে রম্ভপুত্র মহিষাপুর ব্রহ্মার আরাধানা করে বর পেয়ে নারারূপ ধারণ করতে পারত। সে নানা রূপে যুদ্ধ করে দেবগণকে স্বর্গচ্যুত করে স্বর্গ দখল করল। এই অসুর নিধনের জন্যই জননী দশ হস্তে দশ প্রহরণ ধারন করলেন, মৃন্ময়ী মা চিন্ময়ী রূপে প্রতিভাত হলেন। এই ঐক্য শক্তিই অষুর নিধন করে অভয়া বরদারূপে দেখা দিলেন। শরৎকাল এলেই বর্ষার বিদায় মেঘমুক্ত আকাশ, শেফালিকা ফুলের প্রাণমাতানো গন্ধ, স্থলপদ্ম বনে প্রভাতেই মৌমাছির গুঞ্জনÑঅকাশে-বাতাসে শুধু এক বার্তা আসছেÑদূর্গাপূজা। বর্ষার জড়তা ছেড়ে এক নবভাবে জাগরণ সাড়া দেয় বিশেষত হিন্দু বাঙ্গালির জাতীয় উৎসব দুর্গাপূজা।
বসন্তে বাসন্তী পূজা করেছিলেন সুরথ রাজা ও বৈশ্য শরৎকালে অকাল পূজা করে ছিলেন রাবণ বধের জন্য শ্রীরামচন্দ্র। আর এই পূজাই প্রচলিত হল আমাদের দেশে। শ্রীচন্ডীতে সংক্ষেপে এবং ব্রহ্মবৈবর্ত্তে বাসন্তি পূজার কাহিনী বিস্তারিত বর্ণিত আছে। বর্তমান মহীশূর রাজ্যেই মহিষাসুরের রাজত্ব ছিল। ব্রহ্মার বরে মহিষাসুর অমরত্ব পেল, কিন্তু ব্রহ্মা বলেছিলেন- ‘অমর বর দিলাম তবে নারীর হাতে তোমার নিধন।’ তা সে হেসে উড়িয়ে দিল। দেবী ভগবতীর হাতে তাহার মৃত্যু হল। তাতে মহিষাসুর অসুরত্ব ঘুচে একেবারে মাতৃপদে স্থান লাভ করে, সেও ভক্তের পুজা পেয়ে আসছে। আমরা সবাই মিলে মহাশক্তির আরাধানা করি। মায়ের পূজায় গড়ে উঠবে বিশ্বভ্রাতৃত্ব। মায়ের পূজায় ব্রতী হও, শক্তিমান হও। মায়ের পূজায় জীবন-যৌবন অর্পন করÑশক্তির উদ্বোধন কর।
লেখক, আইনজীবি ও সাংবাদিক

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com