লাখাই প্রতিনিধি ॥ শারীরিক প্রতিবন্ধকতা মানুষের চলার পথকে হয়তো কিছুটা শ্লথ করতে পারে, কিন্তু দৃঢ় মনোবল, আত্মবিশ্বাস ও কাজের প্রতি নিখাদ নিষ্ঠা থাকলে তা কখনোই সফলতার অন্তরায় হতে পারে না এই অমোঘ সত্যেরই এক জীবন্ত প্রতীক হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলার ৪ নম্বর বামৈ গ্রামের কৃতি সন্তান স্বপন শীল। জীবনের কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করে তিনি আজ স্থানীয় মানুষের কাছে এক অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব ও কর্মনিষ্ঠার অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে সম্পূর্ণ তুচ্ছ করে গত পাঁচ বছর ধরে তিনি সততা ও একাগ্রতার সঙ্গে মানুষকে নিয়মিত সেবা দিয়ে আসছেন। লাখাই উপজেলার ৪ নম্বর বামৈ ইউনিয়ন পরিষদের ঠিক সামনে, ব্যস্ত বাজারের রাস্তার পাশেই তার প্রতিদিনের কর্মস্থল। প্রতিদিন সকাল হলেই নিজের ছোট্ট কর্মপ্রচেষ্টা নিয়ে সেখানে হাজির হন তিনি। প্রতিকূল পরিবেশ আর শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে পেছনে ফেলে তার এই কর্মব্যস্ত জীবন অনেকের জন্যই এক অনুপ্রেরণার উৎস। ব্যক্তিগত জীবনে স্বপন শীল একাধারে একজন দায়িত্বশীল স্বামী ও আদর্শ পিতা। তার সুখের সংসারে রয়েছে প্রিয় স্ত্রী এবং দুই মেধাবী ছেলে। সন্তানদের মানুষের মতো মানুষ করার স্বপ্ন নিয়ে তিনি নিরলস পরিশ্রম করে গেছেন এবং তাতে অনেকটাই সফল হয়েছেন। তার বড় ছেলে চাকরি করছে, আর ছোট ছেলে স্বাবলম্বী হয়ে একটি সম্মানজনক প্রতিষ্ঠানে অর্থাৎ ‘নগদ’ কোম্পানিতে কর্মজীবন শুরু করে পরিবারের উপার্জনে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। বাবা হিসেবে নিজের সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে তিনি তিল তিল করে সংগ্রাম করে গেছেন। পরিবারের ভরণপোষণ এবং দুই সন্তানের লালন-পালনের এই সুমহান ও ভারী দায়িত্ব একা কাঁধে নিয়েও নিজের পেশাগত কাজকে তিনি কখনো অবহেলা করেননি, বরং কাজকে ভালোবেসে প্রতিনিয়ত সামনে এগিয়ে চলেছেন। প্রতিকূলতাকে জয় করার এই অদম্য স্পৃহা তাকে সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক উঁচুতে স্থান দিয়েছে। স্বপন শীলের চোখে-মুখে এখন একটাই সরল প্রত্যাশা—আগামী দিনগুলোতেও যেন তিনি এভাবেই সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজের পরিশ্রমের উপার্জন দিয়ে হাসিখুশিতে পরিবারটিকে টিকিয়ে রাখতে পারেন এবং মানুষের সেবা করে যেতে পারেন। তার এই সংগ্রামী জীবন প্রমাণ করে যে, মানুষের আসল পরিচয় তার শারীরিক গঠনে নয়, বরং তার কর্মনিষ্ঠা ও মনের জোরে।