শায়েস্তাগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ স্বামীর মৃত্যুর দীর্ঘ ২৫ বছর পেরিয়ে গেলেও ভাগ্যে জোটেনি সরকারি বিধবা ভাতার কার্ড। বয়সের ভারে ন্যুব্জ শরীর, নানা রোগব্যাধি ও আর্থিক অনটনে মানবেতর জীবনযাপন করছেন মোছা. রহিমা খাতুন (৬৪)। অসুস্থতার কারণে আগের মতো কাজ করতে না পারায় ওষুধ কেনা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁকে। রহিমা খাতুন হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব লেঞ্জাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত আব্দুল নুরের স্ত্রী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বামীর মৃত্যুর পর তিন সন্তানকে নিয়ে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে জীবন পার করেছেন রহিমা খাতুন। সন্তানদের লালন-পালন করতে গিয়ে দীর্ঘদিন তাঁকে সংগ্রাম করতে হয়েছে। বর্তমানে মাথা গোঁজার মতো নিজস্ব ভিটা ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো সম্পদ নেই তাঁর। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে দেখা দিয়েছে নানা অসুস্থতা। ফলে দৈনন্দিন জীবনযাপন আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। রহিমা খাতুনের অভিযোগ, সরকারি বিধবা ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে এলাকার জনপ্রতিনিধিরা কয়েকবার তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) কপি ও ছবি নিয়ে গেছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও তিনি কার্ড পাননি। ফলে অসুস্থ শরীর নিয়ে আর্থিক সংকটের মধ্যেই দিন কাটাতে হচ্ছে তাঁকে।
আক্ষেপ প্রকাশ করে রহিমা খাতুন বলেন, “স্বামী মারা যাওয়ার ২৫ বছর পার হয়ে গেছে। অথচ আজ পর্যন্ত আমার ভাগ্যে একটি বিধবা ভাতার কার্ড জোটেনি। কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে এলাকার জনপ্রতিনিধিরা কয়েকবার আমার এনআইডি ও ছবি নিয়ে গেছেন। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। আমি অসুস্থ মানুষ, আগের মতো চলাফেরা করতে পারি না। সরকারি এই ভাতাটুকু পেলে অন্তত ওষুধ কিনে খেতে পারতাম।” এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক মো. আসাদুজ্জামানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমি অবগত নই। পৌরসভা ও সমাজসেবা কার্যালয়ে খোঁজখবর নিয়ে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছি।”
অন্যদিকে, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা শাকিফ ইশমামা চৌধুরী বলেন, “বিধবা ভাতার আবেদনপ্রক্রিয়া অনলাইনভিত্তিক। পৌরসভা কর্তৃপক্ষ এবং যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্যরা আবেদন যাচাই করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।”
দীর্ঘ ২৫ বছরেও বিধবা ভাতার কার্ড না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন রহিমা খাতুন। তাঁর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁর অসহায়ত্ব, আর্থিক সংকট ও শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে দ্রুত বিধবা ভাতার কার্ডের ব্যবস্থা করবে। এতে জীবনের এই পর্যায়ে অন্তত ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে কিছুটা স্বস্তি পাবেন তিনি।