স্টাফ রিপোর্টার ॥ হবিগঞ্জ সদর উপজেলার দিঘলবাগ গ্রামে পূর্বের একটি মামলা তুলে না নেয়ায় বাদিসহ ২ নারীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত সোমবার দিঘলবাগ গ্রামের রমিজ উদ্দিনের মেয়ে শেখ মোছা. কুলসুমা আক্তার বাদি হয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। গত শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুলসুমার বসতবাড়ির উঠানে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগে শাহিদ মিয়া (৪৭), জামাল মিয়া (৩৫), তাহির মিয়া (৫০), ইকবাল মিয়া (৩০), তোফায়েল মিয়া (২৮) ও তানভীর মিয়ার (২৪) নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা একই গ্রামের বাসিন্দা।
অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্তরা ও বাদি একই গ্রামের পাশর্^বর্তী বাসিন্দা। গত ৮ এপ্রিল ইকবাল মিয়া নামে একজন তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় তিনি হবিগঞ্জের বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার জের ধরে অভিযুক্তরা তাঁকে প্রাণে হত্যার ষড়যন্ত্র করে আসছিলেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, ঘটনার দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে ইকবাল মিয়া বাদীনির বাড়ির উঠানে এসে দায়ের করা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেন। এ সময় তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং বাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এর প্রতিবাদ করলে ইকবাল মিয়ার সঙ্গে বাদীনির কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে বাদীনির ওপর হামলা চালান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় কুলসুমাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসা সুলতানা আক্তারের উপর হামলা চালানো হয়। এতে সুলতানা আক্তারও গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন।
এ সময় সুলতানা আক্তারের গলা থেকে আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়া হয়। এছাড়া অভিযুক্তরা কুলসুমার ও সুলতানা আক্তারের শ্লীলতাহানি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁদের চিৎকার শুনে কয়েকজন সাক্ষী এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে সাক্ষীরা আহত কুলসুমা আক্তার ও সুলতানা আক্তারকে হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।
অভিযোগ রয়েছে, তারা হত্যা ও ধর্ষণসহ একাধিক মামলার আসামি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কুলসুমা আক্তার জোর দাবী জানিয়েছেন।