বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৩১ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের দাফন সম্পন্ন খোয়াই নদীর বাঁধ পরিদর্শনে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আজাদ ॥ হবিগঞ্জ যেন কোনো বন্যায় প্লাবিত না হয় তার জন্য প্রকল্প গ্রহন করা হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ নবীগঞ্জে মেরামতের ৩ মাসেই রাস্তার বেহাল দশা নবীগঞ্জ পৌরসভায় কোটি টাকার সরকারি যানবাহন অযত্নে নষ্ট নবীগঞ্জে মাঠ থেকে মরদেহ উদ্ধার ॥ হত্যার অভিযোগ চুনারুঘাটে চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও ভূমির অধিকারের দাবিতে মানববন্ধন সাংবাদিক বদরুল আলমের পিতার ইন্তেকাল ॥ শোক হবিগঞ্জে সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের অভিযান ॥ টাকা ও মোবাইল উদ্ধার চুনারুঘাট আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতির গণসংযোগ

চুনারুঘাটে কৃষকরা হতাশায় নিমজ্জিত বোরো চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন কৃষক

  • আপডেট টাইম সোমবার, ২০ মে, ২০১৯
  • ৬৩৪ বা পড়া হয়েছে

নুরুল আমিন, চুনারুঘাট থেকে ॥ চুনারুঘাটে প্রতিমন ধানের দাম ৩ শ থেকে সাড়ে ৩শ টাকায় বিকি কিনি হচ্ছে। হাত পড়েছে বোরো চাষীর মাথায়। চড়া সুদে ঋণ এনে যারা ধান চাষ করেছিলেন তারা চরম হতাশার সাগড়ে হাবুডুবু খাচ্ছে। সুদখোরেরা বার বার তাগাদা দিচ্ছে সুদে আসলে তাদের টাকা ফেরৎ দেয়ার জন্য। ভর রমজানে সেই কৃষক পরিবারের পেঠের জ্বালা নিবারন করবেন নাকি সুদখোরের পাওনা টাকা পরিশোধ করবেন সে চিন্তায় রাতের ঘুমও হারাম হয়ে গেছে। হাঠ বাজারের ধান ব্যবসায়ীরা পাইকার না পাওয়ায় ধান কেনা বন্ধ করে দিয়েছেন। চুনারুঘাট কৃষি অফিসের দেয়া তথ্যমতে চলতি বোরো মওসুমে চুনারুঘাটে ৯ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষাবাদ হয়েছে। ধানের ফলন ভালো হলেও ধানের দাম হ্রাস পাওয়ায় কৃষকের মনে কোন শান্তি নেই। কৃষক আলী আহম্মদ, মতলিব, চান মিয়া তারা বর্গাচাষী। অন্যের জমিতে নানান শর্তে বোরো ধান লাগিয়েছিলেন এবার। প্রতি বিঘা জমিতে ধান চাষ করতে গিয়ে তার খরচ হয় প্রায় ৬ হাজার টাকা। খরচের সব টাকা যোগাড় করেছিলেন সুদখোর মহাজনের কাছ থেকে। ধান কাটা, মাড়াই করেছিলেন শ্রমিক দিয়ে। প্রতি শ্রমিক ধান কাটতে নিয়েছে বিঘা প্রতি ৮ শ টাকা করে। হালার মেশিন মালিককে দিতে হয়েছে প্রতি ৪ মন ধানে ১ মন করে। সেই শ্রমিকের দেনা পরিশোধ করতে গিয়ে যে পরিমাণ ধান পেয়েছেন প্রায় পুরোটাই চলে গেছে খরচের খাতায়। বাকি রয়ে গেছে মহাজনের ঋণ। কোথা থেকে ঋণ পরিশোধ করা হবে সেই হিসাব মেলাতে গিয়ে চোখে শষ্যফুল দেখছেন কৃষক। কৃষকরা বলেন, এমন কোন জিনিষ অবশিষ্ট নাই যা বিক্রি করে মহাজনের ঋণ শোধ করা যাবে। তাই তারা মহাজনের রক্তচক্ষু দেখা বা হামলা-মামলার ভয়ে আতংকগ্রস্ত অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন। কৃষক মকসুদ আলী বলেন, নিজের জমিতেই বোরো চাষ করেছিলেন এবার। তিনি বলেন, প্রতি বিঘা জমিতে বোরো ধান লাগাতে গিয়ে তার খরচ হয়েছে ৭ হাজার টাকা। প্রতি বিঘা জমি থেকে ধান পেয়েছেন ১৪ থেকে ১৫ মন। প্রতি বিঘা জমিতে যে ধান উৎপাদন হয়েছিল তার প্রায় সবই শ্রমিকের পেছনে খরচ হয়ে গেছে। কেন ধানের দাম কমলো সে হিসেব কেউ মেলাতে পারছেন না। তার মতো অনেকেই বলছেন, আর বোরো ধান করবেন না। ধান ব্যবসায়ী আওয়াল বলেন, রাইস মিল বা চাতালগুলোতে ধান বিক্রি করা যাচ্ছে না। কোন চাতাল মালিক ভেজা ধান নিতে চাইছেন না। তাই নেমে গেছে ধানের দর। অপর দিকে সচেতন নাগরিকরা বলছেন, খাদ্য গোদামগুলোতে চালের মজুদ প্রচুর। চালের আড়তগুলো চালে ঠাসা। ধানের অপর এক ব্যবসায়ী বলেন, শুকনো ধানের দাম ৬ থেকে ৭শ টাকা দরে বেচা কেনা হচ্ছে এখনো। অপর দিকে গ্রামের হাট বাজারের ক্ষুদ্র ধান ব্যবসায়ীরা ধান বিক্রি করতে না পারায় তারা তাদের ব্যবসা প্রতিষ্টানে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন।
এদিকে বাজারে প্রতি কেজি মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৩৮ টাকা। ধান এবং চালের বাজার দরের মাঝে রয়েছে ব্যপক ফারাখ। এদিকে সরকার প্রদত্ত ১০ টাকা কেজির চালের প্রতি উপকারভোগীদের আগ্রহ কমে গেছে। এ চাল কেউ নিতে আগ্রহী না। কারন হিসেবে জানা গেছে, চাল পঁচা, দুর্গন্ধময়। সেই চাল যথারীতি ডিলারের গোদামে আসছে তবে তা রাতের আঁধারেই আবার উধাও হয়ে যাচ্ছে। গত সপ্তাহে চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার পাচারকালে ১শ বস্তা চাল আটক করেছেন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com