বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের দাফন সম্পন্ন খোয়াই নদীর বাঁধ পরিদর্শনে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আজাদ ॥ হবিগঞ্জ যেন কোনো বন্যায় প্লাবিত না হয় তার জন্য প্রকল্প গ্রহন করা হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ নবীগঞ্জে মেরামতের ৩ মাসেই রাস্তার বেহাল দশা নবীগঞ্জ পৌরসভায় কোটি টাকার সরকারি যানবাহন অযত্নে নষ্ট নবীগঞ্জে মাঠ থেকে মরদেহ উদ্ধার ॥ হত্যার অভিযোগ চুনারুঘাটে চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও ভূমির অধিকারের দাবিতে মানববন্ধন সাংবাদিক বদরুল আলমের পিতার ইন্তেকাল ॥ শোক হবিগঞ্জে সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের অভিযান ॥ টাকা ও মোবাইল উদ্ধার চুনারুঘাট আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতির গণসংযোগ

গ্রাম্য দাঙ্গা বনাম-ভিলেজ পলিটিক্স ॥ তকবাজ খানী মিনাট গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনায় মৃত ব্যক্তিরাও মামলার আসামী

  • আপডেট টাইম শুক্রবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭
  • ৭১১ বা পড়া হয়েছে

মখলিছ মিয়া, বানিয়াচং থেকে ॥
তকবাজ খানী ও মিনাট গ্রামে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় ১ জন নিরীহ লোক নিহত হওয়ার পর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলায় মৃত ব্যক্তি ও প্রবাসে অবস্থানকারী বেশ কয়েকজনকে আসামী করায় জনমনে সৃষ্টি হয়েছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া। অনেকেই এটাকে ভিলেজ পলিটিক্স হিসেবে দেখছেন। শুধু তাই নয় এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার কিছু লোক নিজেদের পকেট ভারী করছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া যে বিষয়কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়েছে মামলায় তার বিশদ উল্লেখ না করে অন্য বিষয় প্রাধান্য দিয়ে একটি পক্ষ ফায়দা হাসিল এর চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। অনেকের বক্তব্য এ ঘটনায় গ্রাম্য রোষনালের স্বীকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
খোজ নিয়ে জানা যায়, গত বছরের ৪ ডিসেম্বর বানিয়াচংয়ের আরসি পাড়া মাঠে বয়স্ক লোকদের নিয়ে আয়োজিত আলরাফী ফুটবল টুর্নামেন্টে মিনাট বনাম তকবাজখানী দু’গ্রামের মধ্যে খেলা চলাবস্থায় একটি গোলকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে ভয়াবহ সংঘর্ষের রূপ নেয়। কয়েক ঘন্টা ব্যাপী সংঘর্ষে উভয়পক্ষের শতাধিক লোক আহতও হয়। পুলিশ প্রশাসনসহ বানিয়াচঙ্গের আলেম সমাজের অগ্রণী ভূমিকার কারনে ওই দিনের ভয়াবহ সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রনে আসে। এর মধ্যে গুরুতর আহতবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধাীন তকবাজখানী গ্রামের পক্ষের আক্তার মিয়া নামে এক যুবক মারা যায়। এ নিয়ে বানিয়াচং থানায় নিহত আক্তার মিয়ার পক্ষে তকবাজখানী মহল্লার সর্দার মোঃ মুশফিকুর রহমান বাদী হয়ে ১২০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ১০০/১২৫ জন লোককে আসামী করে একটি হত্যা মামলা (নং-১২,১২/১২/১৬) দায়ের করেন। এ মামলায় সাহাব উদ্দিন, শুনু মিয়া, মঞ্জুর আলী, ইসমাইল মিয়া, আশ্বব আলীকে আসামী করা হয়েছে অথচ এ লোকগুলো অনেক আগেই মারা গেছেন। এছাড়া ৩ থেকে ৪ বছর যাবৎ প্রবাসে অবস্থানকারী হান্নান মিয়া, আকাশ মিয়া, জাবেদ মিয়া, আলা উদ্দিন, আনোয়ার মিয়া, সফিকুর রহমানকেও ওই মামলায় চার্জের আসামী করা হয়েছে। এদিকে আসামীপক্ষও ৬০ জনের নাম উল্লেখ করে পাল্টা একটি কাউন্টার মামলা (নং-১৩,১৫/১২/১৬) দায়ের করে। হত্যা মামলার বাদী মুশফিকুর রহমান সম্প্রতি আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত জামিন নামঞ্জুন করে তাকে জেল হাজতে প্রেরনের নির্দেশ দেন। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে এলাকার লোকজনের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই মন্তব্য করেছেন মুশফিকুর রহমান মামলার বাদী না হয়ে নিহত আক্তার এর পরিবারের কেউ বাদী হলে বিষয়টি অন্যভাবে বিবেচিত হতো। কিন্তু মুশফিকুর রহমান বাদী হওয়াতে অনেকেই এটাকে ভিলেজ পলিটিক্স হিসেবে দেখছেন।
এ বিষয়ে বিশিষ্ট মুরুব্বী আলহাজ্ব মোঃ ফরিদ উল্বার এর সাথে আলাপ হলে তিনি জানান, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে ব্যবহার করা এবং বিশেষ করে পাইকপাড়ার (খাকশ্রী) লোকজনদের আসামী করা খুবই দুঃখজনক। তিনি আরো জানান, ঘটনার দিন বানিয়াচং এর সকল আলেম-ওলামা সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রনে আনতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে ছিলেন এবং সর্বশেষ তাদের ভূমিকার কারনেই এ সংঘর্ষটি নিয়ন্ত্রন আসে। তারাও কি কারনে সংঘর্ষ হয়েছে এ বিষয়ে পুরোপুরো অবগত আছেন। এ নিয়ে যারা ভিলেজ পলিটিক্স করছে সেটা শোভনীয় নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। বানিয়াচংয়ের প্রবীণ মুরুব্বী জাকির উদ্দিন খান মধু মিয়া জানান, প্রকাশ্যে দিবালোকে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনাটি ভিন্নখাতে নেয়ার জন্য নিরপরাধ অনেক মানুষকে আসামী করা হয়েছে এমনকি অনেক মৃত্যু ব্যক্তি মামলার আসামী। মামলায় উল্লেখিত ১নং আসামী পাইকপাড়া গ্রামের মুরুব্বী লোকমান মিয়া ঘটনার দিন চিকিৎসার কাজে বানিয়াচংয়ের বাহিরে ছিলেন এবং তার ছেলে শফিকুর রহমান প্রায় ৩ বছর যাবৎ বাহরাইন এ অবস্থান করে আসছেন। অথচ মামলায় তাদেরকে আসামী করা হয়েছে। শুধু মাত্র ভিলেজ পলিটিক্স এর কারনেই এ ধরনের নোংরামী করা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বজুলুর রহমান জানান, ইতিমধ্যে আমাদের তদন্তে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে। মামলায় অনেক মৃত ব্যক্তিকেও আসামী করা হয়েছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যে ক’জন মৃত্যু ব্যক্তিকে আসামী করা হয়েছে চার্জশীট দাখিল এর সময় তাদের নাম বাদ দেয়া হবে। বানিয়াচংয়ের সচেতন মানুষ মনে করছেন যতদিন পর্যন্ত ভিলেজ পলিটিক্স বন্ধ না হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত গ্রাম্য দাঙ্গা রোধ সম্ভব নয়। আগামী প্রজন্মকে সুন্দর একটি পৃথিবী উপহার দিতে চাইলে আমাদের সমাজপতিদের এসব নোংরা গ্রাম্য রাজনীতি বন্ধ করে সমাজের প্রতি তাদের দায়িত্ববোধ বাড়াতে হবে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com