সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৪৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
অর্থের অভাবে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরছে না দুলনের মরদেহ হবিগঞ্জে এনসিপির দায়েরকৃত মামলায় ছাত্রদলের নেতাদের জামিন লাভ হবিগঞ্জে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাসহ ৯ জনকে আসামী করে ছাত্রদল নেতার মামলা রুজু বাহুবলে শ্যামলী বাসের সাথে সিএনজির সংঘর্ষে নিহত ১ হবিগঞ্জ আদালতে কোর্ট ফি সংকট ॥ ভোগান্তি সুরমা চা বাগানে ৫০ বছরের পুরোনো সেতুতে ভোগান্তি শহরে ভাঙ্গারী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সাড়াশি অভিযান ॥ আটক ১ শায়েস্তাগঞ্জে গরুবাহী পিকআপে ডাকাতি র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ১ বাহুবলে দ্বৈত হত্যা মামলার আরও ১ আসামি নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার চুনারুঘাটে র‌্যাবের অভিযানে ৫২ কেজি গাঁজাসহ আটক ২

মেম্বার বটেন দেবী চাঁদ দাস ! গাছেরও খেলেন, থলেরও কুড়ালেন

  • আপডেট টাইম শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০১৫
  • ৭৯৮ বা পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বানিয়াচং উপজেলার পৈলারকান্দি ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে বসন্তপুর গ্রামের বড়হাটির বাসিন্দাদের চলাচলের জন্য ঘাটলা নির্মানের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার ও তার পুত্রের বিরুদ্ধে। এলজিএসপি থেকে বরাদ্দকৃত ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার মধ্যে নাম মাত্র কাজ দেখিয়ে আত্মসাত করেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেবী চাঁদ দাস ও তার পুত্র রিংকু বাহার দাস। আত্মসাতের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বুধবার সকালে এলজিএসপি’র ডিফও মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল সরজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সম্প্রতি ওই গ্রামের বাসিন্দাদের চলাচলের সুবিধার্থে একটি পাকা ঘাটলা নির্মানের জন্য ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় এলজিএসপি। প্রকল্পের চেয়ারম্যান করা হয় স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেবী চাঁদ দাসকে। তিনি ঘাটলা নির্মানে স্থানীয় সরকার থেকে বরাদ্দের বিষয়টি গোপন রেখে গ্রামবাসীর কাছ থেকে নগদ ৪৭ হাজার ৯শ ৫০ টাকা চাঁদা তুলেন। ওই চাঁদার টাকার সাথে নিজের পকেট থেকে আরো ১০ হাজার ঃ চাঁদা দিয়ে ঘাটলা নির্মান করেন। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী অভিযোগ করলে এলজিএসপি থেকে ডিফও মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল সরজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে টাকা আত্মসাতের সত্যতা পান। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪-১৫ অর্থ বছরের পৈলারকান্দি ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় বসন্তপুর গ্রামে ঘাটলা নির্মানের জন্য ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু ওয়ার্ড মেম্বার দেবী চাঁদ দাস প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে গ্রামবাসীর কাছ থেকে ৪৭ হাজার ৯শ ৫০ টাকা চাঁদা তুলে নিজেদের উদ্যোগে ঘাটলা নির্মাণ করা হবে বলে জানান। আর এলজিএসপি অফিসে রিংকু দাসকে কাগজে কলমে ঠিকাদার সাজিয়ে মাত্র ৬০ হাজার টাকায় কাজ করে বরাদ্দের সিংহভাগ টাকা আত্মসাৎ করেন। এ বিষয়ে বসন্তপুর গ্রামের প্রবীণ মুরুব্বী মোহন লাল দাস, উত্তম দাস ও ঘাটলা নির্মানকারী রাজ মিস্ত্রী গোপী দাস জানান, আমরা এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ৪৭ হাজার ৯শ ৫০ টাকা চাঁদা তুলে মেম্বারের কাছে হস্তান্তর করি এবং মেম্বার নিজের পকেট থেকে একাই ১০ হাজার টাকা দেন ঘাটলা নির্মানের জন্য। এখানে কোন ধরনের সরকারী বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এমন কোনো কিছু আমাদেরকে জানানো হয়নি। তারা অভিযোগ করে বলেন, সরকার যদি ঘাটলা নির্মানের জন্য টাকা বরাদ্দ দিয়ে থাকে তাহলে আমরা এলাকাবাসী কেন চাঁদা দিব। মেম্বার আমাদের সাথে প্রতারণা করে চাঁদা নিয়ে আমাদের টাকা ও সরকারী টাকা আত্মসাত করেছে। আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এছাড়াও দেবী চাঁদ দাসের বিরুদ্ধে বয়স্ক ভাতা, ভুয়া বিধবা সাজিয়ে বিধবা ভাতাসহ বিভন্ন সরকারী টাকা আত্মসাতের একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলেও জানান তারা।  এ ব্যাপারে মেম্বার দেবী চাঁদ দাস জানান, এরকম কোন কিছু হয়নি। যারা অভিযোগ করেছে তারা আমার প্রতিপক্ষের লোকজন।
এ ব্যাপারে এলজিএসপি হবিগঞ্জের ডিফও মাহবুবুর রহমান জানান, আমরা ঘাটলা নির্মান কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে যাওয়ার পর এলাকাবাসী আমাদের কাছে অভিযোগ করেন। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com