স্টাফ রিপোর্টার ॥ চুনারুঘাট পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত মরা (পুরাতন) খোয়াই নদী দীর্ঘদিন ধরে দখলদারদের কবলে থাকলেও এখনো তা দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়নি। নদীটি দখলমুক্ত করতে বিভিন্ন সময়ে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হলেও কার্যকর অগ্রগতি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ও এক হাজার গজ প্রশস্ত মরা খোয়াই নদীটি দীর্ঘদিন ধরে দখল ও ময়লা-আবর্জনায় সংকুচিত হয়ে পড়েছে। নদীর বিভিন্ন অংশে মাটি ভরাট করে বাসাবাড়ি-দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় পৌরবাসী বাসিন্দা ও(প্রথম পৃষ্ঠার পর) প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। এসব অবৈধ দখলদাররা দীর্ঘদিন ধরে পুরাতন নদীর দু’পাশ দখল করে রেখেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এরশাদ সরকারের আমল থেকে নদীটি দখলের প্রবণতা শুরু হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রভাবশালী মহলের কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। একাধিক মন্ত্রী, উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়রের আমলেও নদীটি দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে জানান তারা। সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলীর আমলে মরা খোয়াই নদী দখলমুক্ত করে সেখানে একটি বিনোদন পার্ক নির্মাণের দাবি ওঠে। এ জন্য অর্থ বরাদ্দও দেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়নি। পরে নদীর জায়গা ভরাট করে পুলিশ একাডেমি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেটিও বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। এদিকে দুই বছর পূর্বে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে নদীর বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা আবর্জনা পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু আবারও আগের জায়গায় ফিরে গেছে নদী টি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুধু আবর্জনা পরিষ্কার করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না; নদীর জায়গা চিহ্নিত করে অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। স্থানীয়দের ভাষ্য, রাজনৈতিক নেতা, আমলা ও বিভিন্ন পেশার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একটি অংশ নদীর তীরে মাটি ভরাট করে দোকানপাট ও স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি নদীসংলগ্ন বধ্যভূমিসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোও হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দার ও উদ্যোক্তা মশিউর রহমান খান বলেন, দ্রুত নদীটির সীমানা নির্ধারণ করে অবৈধ দখল উচ্ছেদ, মাটি ও আবর্জনা অপসারণ এবং নদীর জায়গা সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নদীটি পুনরুদ্ধার করে পৌরবাসীর জন্য উন্মুক্ত স্থান হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন তারা। চুনারুঘাট পৌরসভা প্রশাসক গালিব চৌধুরী বলেন, পৌরসভা বর্তমানে সেখানে ময়লা ফেলে না। আবর্জনা না ফেলতে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ডও স্থাপন করা হয়েছে। জনসমাগম স্থলে বর্জ্য ফেলা পরিবেশসম্মত নয়। দ্রুত আবর্জনা অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।