মখলিছ মিয়া, বানিয়াচং প্রতিনিধি ॥ হবিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ইনডোর রোগীদের সরকারি বরাদ্দের খাবার সরবরাহে চরম অনিয়ম, অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। যুগের পর যুগ পার হলেও হাসপাতালটির রোগীদের খাবারের মানের কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন হয়নি বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী রোগীরা।
সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের দুপুরের খাবারের মেন্যুতে দেওয়া হয়েছে আস্ত এবং সম্পূর্ণ খাওয়ার অনুপযোগী শিং মাছ। অসুস্থ শরীরে রোগীদের জন্য যেখানে পুষ্টিকর, সুস্বাদু ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন খাবার নিশ্চিত করা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব, সেখানে এমন দায়সারা ও নিম্নমানের খাবার পরিবেশনকে রোগীদের সাথে এক ধরণের নির্মম তামাশা বলে মন্তব্য করেছেন সচেতন মহল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছর সরকারিভাবে রোগীদের পথ্য ও খাবারের জন্য বিপুল পরিমাণ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হলেও ঠিকাদারি সিন্ডিকেটের জালিয়াতি এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকির অভাবে সাধারণ রোগীরা তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দেশের চিকিৎসা খাতের সামগ্রিক উন্নয়ন দৃশ্যমান হলেও বানিয়াচং হাসপাতালের খাবারের মান এখনো তলানিতেই পড়ে রয়েছে।
চিকিৎসাধীন কয়েকজন রোগী অভিযোগ করে বলেন, বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শামীমা বেগম এর সাথে যোগসাজেশ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করে আসছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্থানীয় জনসাধারণ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি তুলেছেন। একই সাথে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলসহ হাসপাতালের খাবারের মান শতভাগ নিশ্চিত করতে বানিয়াচং উপজেলা প্রশাসন, জেলা সিভিল সার্জন এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।