শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৫ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
ডেপুটি স্পীকার ব্যারিষ্টার কায়সার কামাল ॥ আধুনিক ও মানবিক দেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার শহরে সূর্যমুখী হাসপাতাল ২ লাখ ও মধুমতি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা চুনারুঘাটে পরীক্ষায় দেখে লিখতে বাঁধা দেওয়ায় শিক্ষককে ঘুসি ॥ শিক্ষার্থী বহিষ্কার হবিগঞ্জ ল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খানের স্মরণসভায়-ডেপুটি স্পীকার ॥ কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আইন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টির অবদানে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন মরহুম মতিন খান বাহুবলে অনুমতি ছাড়াই মেলার আয়োজন ॥ প্রশাসনের অভিযানে পণ্ড চুনারুঘাটে ৬১ কেজি গাঁজাসহ ৪ মাদক কারবারী গ্রেফতার চুনারুঘাটের আমতলীতে বন বিভাগের অভিযান ॥ সেগুন-মেহগনিসহ কাঠ জব্দ নবীগঞ্জে ডাকাতি মামলার আসামী শিব্বিরের ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর মাধবপুরে গ্যাসের জন্য চালকদের সড়ক অবরোধ ॥ দুর্ভোগে যাত্রীরা বাহুবলে রান্নাঘরের মেঝে খুঁড়ে বিষধর পদ্ম গোখরা উদ্ধার ॥ সাতছড়িতে অবমুক্ত

হবিগঞ্জের পাঁচ চা বাগানে চলছে কর্মবিরতি ॥ সমাধানের লক্ষণ নেই

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩১ বার পড়া হয়েছে

মাধবপুর প্রতিনিধি ॥ প্রতিদিন সকাল হলেই শ্রমিকদের হাঁকডাকে মুখর হয়ে উঠত চা বাগান। লাইন চৌকিদারের হাঁকডাক, কোথায় কাজ হবে তার ঘোষণা আর কারখানার যন্ত্রপাতির শব্দে সরগরম থাকত বাগান। কিন্তু গত সোমবার থেকে চা বাগানের সেই চিরচেনা রূপ আর নেই। মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া, চুনারুঘাটের লালচান্দ ও দেউন্দি এবং মৌলভীবাজারের মিরতিংগা চা বাগানে বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা। সাপ্তাহিক মজুরি না পেয়ে কাজে যোগ না দিয়ে কর্মবিরতি পালন করছেন শ্রমিকেরা। গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বকেয়া মজুরি পরিশোধ কিংবা বাগানগুলোতে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু’র কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।
গত বুধবার শ্রমিক নেতারা লালচান্দ চা বাগানে সমাবেশ করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সমস্যা সমাধানে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেবেন তাঁরা। এরপরও দাবি পূরণ না হলে ঢাকায় গিয়ে সচিবালয় ঘেরাও করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।
বাগান কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, এক সময় তাঁদের আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল। কিন্তু ২০২১ সালে করোনাকাল থেকে বাগানগুলোতে সংকট শুরু হয়। চার বছর আগে লালচান্দ চা বাগানের কারখানা আগুনে পুড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়। দুই বছর আগে নোয়াপাড়া চা বাগানের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে কারখানায় চা প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হয়নি।
এ ছাড়া চা উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাস, বিদ্যুৎ, সার, যন্ত্রপাতি ও পরিবহন ব্যয়সহ শ্রমিকদের মজুরি বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে চায়ের দাম বাড়েনি। ফলে বছরের পর বছর লোকসান গুনতে হচ্ছে বাগানগুলোকে। ব্যাংক থেকেও প্রত্যাশিত ঋণ পাওয়া যায়নি। নানা ধরনের ব্যয় সংকোচন করে বাগান চালু রাখার চেষ্টা করলেও আর্থিক সংকটের কারণে সময়মতো শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে কর্মবিরতির কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন চা শ্রমিকেরা। সপ্তাহ শেষে দৈনিক ১৭৮ টাকা হাজিরা এবং সাড়ে তিন কেজি চাল-আটা পেতেন তাঁরা। তা দিয়েই কোনো রকমে সংসার চালাতেন। অনেক পরিবারের আয়ের বিকল্প কোনো উৎস নেই। বাগানগুলো দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে শত শত শ্রমিক পরিবার মানবিক সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হঠাৎ করে এত শ্রমিকের পক্ষে বাগানের বাইরে বিকল্প কাজ খুঁজে পাওয়াও কঠিন।
নোয়াপাড়া চা বাগানের সভাপতি কমেড নায়েক বলেন, ‘বাগানের শ্রমিকেরা কাজ করতে আগ্রহী। কিন্তু মালিকপক্ষ বাগান পরিচালনা করতে পারছে না। এতে শ্রমিকেরা বিপদে পড়েছেন। এ বড় সমস্যা সমাধানে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। বাগান বন্ধ হয়ে গেলে সাধারণ শ্রমিকেরা মানবিক সংকটে পড়বেন।’
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল বলেন, ‘৫ টি চা বাগানের চলমান সমস্যা সমাধানে মালিকপক্ষ ও সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। অন্যথায় হাজারো শ্রমিক চরম সংকটে পড়বেন।’
দেউন্দি কোম্পানির উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) রিয়াজ রহমান বলেন, ‘সমস্যা সমাধানে আমরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছি। ইচ্ছাকৃতভাবে আমরা কোনো সমস্যা তৈরি করিনি। সংকট নিরসনে কাজ করে যাচ্ছি।’
শ্রীমঙ্গল শ্রম অধিদপ্তরের উপপরিচালক মহব্বত হোসাইন বলেন, ‘গত সোমবার থেকে পাঁচটি চা বাগানে কাজ বন্ধ রয়েছে। শ্রমিকদের মজুরি বকেয়া থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শ্রমিক নেতা ও মালিক শ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আশা করি, সমস্যার সমাধান হবে।’

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ
© All rights reserved © 2013-2026 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com