মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:২০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
শহরে চাঁদের হাসি হাসপাতালের ভুল চিকিৎসায় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ॥ গোলাম মোস্তফা রফিক’র মৃত্যু ॥ তদন্ত কমিটি গঠন ॥ আজ মঙ্গলবার ২টায় কেন্দ্রীয় ইদগাহে জানাযা ॥ বিভিন্ন মহলের শোক ১৮২ কোটি টাকার উন্নয়ন গ্রকল্প গ্রহণ হবিগঞ্জে হুইপ জি কে গউছের উদ্যোগে বদলে যাচ্ছে পৌরসভা ও ৩ উপজেলা বিএনপি নেতা গোলাম মোস্তফা রফিকের মৃত্যুতে হুইপ জি কে গউছের শোক প্রধানমন্ত্রী পক্ষ থেকে চা শ্রমিকদের মাঝে ঘরের চাবি প্রদান করেন এমপি ফয়সল বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু-কিশোরদের নিয়ে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত মাধবপুরে কৃষি কাজের ট্রাক্টরে বডি সংযোজন করে বালু-মাটি পরিবহন বাহুবলে মুজতবা আলী স্মৃতি পরিষদের ‘মুজতবাচরিত’ প্রকাশনা উৎসব রেমা-কালেঙ্গায় বন বিভাগের অভিযান ॥ মুলি বাঁশ জব্দ বানিয়াচং সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে পূবালী ব্যাংকের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি লস্করপুর এলাকায় আবারো খোয়াই নদীর বাঁধে ভাঙ্গন

নবীগঞ্জে ৩ মেয়র প্রার্থী হলফনামায় যা উল্লেখ করেছেন

  • আপডেট টাইম মঙ্গলবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৫১৯ বা পড়া হয়েছে

ছনি চৌধুরী, নবীগঞ্জ থেকে ॥ আগামী ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে নবীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন। ইতোমধ্যেই পৌর নির্বাচনের দামামা বেজে উঠেছে। মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা। এবার মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বি তিন প্রার্থীই মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এবারের আসরে প্রতিদ্বন্দ্বি তিনজনই অবস্থানগতভাবে বেশ শক্তিশালী। প্রচারণায় বেশ সরব বিএনপির মনোনীত প্রার্থী বর্তমান মেয়র ছাবির আহমদ চৌধুরী, আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী গোলাম রসুল রাহেল চৌধুরী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহবুবুল আলম সুমন।
পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বি তিন প্রার্থীর হলফনামা ঘেঁটে দেখা গেছে অর্থসম্পদ, ঋণ, মামলা ও আয়ের দিক থেকে সব চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন বর্তমান মেয়র বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ছাবির আহমেদ চৌধুরী। আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী গোলাম রসূল রাহেল চৌধুরী শিক্ষাগত যোগ্যতায় সর্বোচ্চ। স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহবুবুল আলম সুমন এর রয়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, নবীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়ন চূড়ান্ত যাচাই-বাচাই শেষে মেয়র পদে এবার ৩ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৭ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীরা হলফনামায় আয়-ব্যয়, সম্পদের বিবরণ, শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ বিস্তারিত তথ্য নির্বাচন কমিশনে দাখিল করেছেন। প্রত্যেক প্রার্থীই নোটারি পাবলিক করে তাদের সকল তথ্য দিয়ে হলফনামা দাখিল করেছেন নির্বাচন কমিশনে।
বিএনপির প্রার্থী ঃ
হলফনামা সূত্রে জানা যায়, বর্তমান মেয়র ও বিএনপির মনোনীত প্রার্থী পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ¦ ছাবির আহমদ চৌধুরী হলফনামায় নিজেকে ব্যবসায়ী বলে উল্লেখ করেছেন।
তিনি বর্তমানে ৩টি মামলার আসামী। ৩টি মামলাই বিচারাধীন। অতীতে আরো ৩টি মামলার আসামী ছিলেন। এর মধ্যে আইন শৃংখলা বিঘœকারী অপরাধ আইনের মামলায় খালাস পেয়েছেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের সম্বলিত একটি মামলায় অনুসন্ধানে প্রমাণিত না হওয়ায় কমিশনার কর্তৃক পরিসমাপ্ত, জিআর এক মামলায়ও অব্যাহতি প্রাপ্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ব্যবসা ঃ তার ৩টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। নবীগঞ্জ-হবিগঞ্জ রোডে মেসার্স চৌধুরী অটো রাইছমিল, নবীগঞ্জের বাউশা ইউনিয়নে শান্তিপুর এগ্রো ডেভেলপমেন্ট লিঃ ও সিলেট উপশহরে ভিলাক ফারফিউমস্ লিঃ নামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
আয় ঃ এ তিন ব্যাবসা থেকে ছাবির আহমেদের প্রতি বছরের আয় ৩ লাখ ৬২ হাজার ২৫০ টাকা। কৃষি খাতে আয় ৩৫ হাজার টাকা। পৌর মেয়র হিসেবে বার্ষিক সম্মানী ভাতা পান ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
অস্থাবর সম্পদ ঃ হলফনামায় উল্লেখ করেছেন- ছাবির আহমদের নগদ টাকা আছে ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা। স্ত্রীর আছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিজের নামে জমা আছে ৫০ হাজার টাকা ও স্ত্রীর নামে আছে ২০ হাজার টাকা। নিজের নামে স্বর্ণ আছে ১ ভরি ও স্ত্রীর নামে আছে ১৫ ভরি এবং নির্ভরশীলের নামে আছে ৩ ভরি। নিজের নামে ২টি মোবাইল ফোন ছাড়া কোন ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী না থাকলেও স্ত্রীর নামে আছে- ১টি টিভি, ১টি ফ্রিজ, ২টি মোবাইল ফোন। আসবাবপত্র নিজের নামে আছে ১টি খাট, ১টি সোফা সেট, ১টি ডাইনিং টেবিল, ৮টি চেয়ার। স্ত্রীর নামে আছে ১টি খাট, ১টি ড্রেসিং টেবিল ও ১টি আলমিরা।
স্থাবর সম্পদ ঃ কৃষি জমি নিজের নামে আছে ৬৫২ শতক, স্ত্রীর নামে ১৮২.৫০ শতক। অকৃষি নিজের নামে ১২৫০ শতক, স্ত্রীর নামে ১২৭ শতক।
ঋণ ঃ আইডিএলসি ফাইনান্স লিঃ হবিগঞ্জ শাখায় একক ঋণের পরিমান ৯৯ লাখ টাকা, এনসিসি ব্যাংক নবীগঞ্জ শাখায় ঋণ ৯০ লাখ টাকা। এ ছাড়াও কৃষি ব্যাংক নবীগঞ্জ শাখায় ছাবির আহমদের ঋণের পরিমাণ ৫ কোটি টাকা। আলহাজ¦ ছাবির আহমদ চৌধুরী নবীগঞ্জ পৌর এলাকার চরগাঁও গ্রামের মৃত মোঃ কবির মিয়া চৌধুরীর ছেলে।
আওয়ামী লীগের প্রার্থীঃ
আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নবীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম রসূল রাহেল চৌধুরী হলফনামায় নিজেকে ব্যবসায়ী ও ঠিকাদার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি কোন মামলার আসামী নয়।
আয় ঃ গোলাম রসূল রাহেল চৌধুরী’র কাইন্ট বিজন্সেস থেকে বাৎসরিক আয় ৪ লাখ টাকা।
অস্থাবর সম্পদ ঃ নগদ আছে ৫০ হাজার টাকা, স্ত্রীর আছে ৫০ ভরি স্বর্ণ। ঘরে ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী আছে- রঙ্গিন টিভি, ফ্রিজ, ফ্যান, মোবাইল ইত্যাদি। স্ত্রীর আছে একটি মোবাইল ফোন।
স্থাবর সম্পদ ঃ তার নিজের নামে কোন জমি নেই। যৌথ মালিকানাধীন কৃষি জমি আছে ৪০ একর।
দালান/আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভূমি আছে ২ একর। গোলাম রসূল রাহেল চৌধুরী নবীগঞ্জ পৌর এলাকার হাসপাতাল রোড, শান্তিপাড়ার হাজী গোলাম রব্বানী চৌধুরীর ছেলে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী ঃ
স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মাহবুবুল আলম সুমন। তিনি নবীগঞ্জ উপজেলা মিনি বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক। হলফনামায় উল্লেখ করেছেন তিনি কোন মামলার আসামী নন। পেশা উল্লেখ করেছেন ব্যবসা। তিনি নবীগঞ্জ হাসপাতাল সড়কে অবস্থিত ‘নবীগঞ্জ ডিজিটাল ল্যাব’ এর পরিচালক।
আয় ঃ মাহবুবুল আলম সুমন এর ব্যবসা থেকে বাৎসরিক আয় ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
অস্থাবর সম্পদ ঃ নগদ আছে ১ লাখ ১১ হাজার টাকা, স্ত্রীর আছে ১৫ ভরি স্বর্ণ। নির্ভরশীলের নামে আছে ৫ ভরি। নিজ নামে ঘরে ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী আছে- রঙ্গিন টিভি, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন, ফার্নিচার ইত্যাদি।
স্থাবর সম্পদ ঃ তার নিজের নামে কোন জমি নেই। যৌথ মালিকানাধীন আছে ২৩.৫১ একর।
বাড়ি ও এপার্টমেন্ট ০.১৫ একর।
মাহবুবুল আলম সুমন নবীগঞ্জ পৌর এলাকার রাজাবাদ গ্রামের মোঃ আব্দুল মতলিব এর ছেলে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com