লাখাই প্রতিনিধি ॥ লাখাই উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, হবিগঞ্জের আকস্মিক অভিযানে ফার্মেসি মালিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও হুলস্থুল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অভিযানকালে উপজেলার প্রধান বাজারসহ অন্যান্য বাজারগুলোতে মাত্র ২-৩টি ফার্মেসি খোলা পাওয়া গেলেও বড় ও মাঝারি ধরনের অধিকাংশ ফার্মেসিই ছিল বন্ধ এবং বাইরে থেকে তালাবদ্ধ।
গতকাল বুধবার (১৪ অক্টোবর) ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় হবিগঞ্জের উদ্যোগে লাখাই উপজেলার বিভিন্ন বাজারে এ বিশেষ তদারকি অভিযান পরিচালিত হয়। এতে নেতৃত্ব দেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, হবিগঞ্জের ড্রাগ সুপারিনটেনডেন্ট মোঃ সাজ্জাদ করিম।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের টিম এলাকায় আসার সংবাদ পাওয়ার পরপরই এক শ্রেণীর অসাধু ফার্মেসি মালিক তড়িঘড়ি করে দোকান বন্ধ করে সটকে পড়েন। অনুমোদনহীন ওষুধ, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি এবং বৈধ ড্রাগ লাইসেন্স না থাকার শাস্তি ও জরিমানা থেকে বাঁচতেই মূলত তারা দোকান তালাবদ্ধ রেখে পালিয়ে যান।
অভিযান পরিচালনাকালে কর্মকর্তারা খোলা থাকা দু-একটি ফার্মেসিতে ওষুধের মেয়াদ, মূল্য তালিকা এবং ড্রাগ লাইসেন্স পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন এবং ওষুধ বিক্রেতাদের প্রয়োজনীয় নিয়ম-কানুন মেনে চলার দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তবে অভিযানের সময় বিভিন্ন বাজারের অধিকাংশ ফার্মেসি বন্ধ থাকায় চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় জরুরি ওষুধ কিনতে আসা সাধারণ ক্রেতারা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েন।
অভিযান শেষে ড্রাগ সুপারিনটেনডেন্ট মোঃ সাজ্জাদ করিম জানান, জনস্বার্থে ওষুধ খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং ভেজাল ও নকল ওষুধ রোধে লাখাই উপজেলার বিভিন্ন বাজারে এ ধরনের তদারকি অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যারা অভিযান দেখে দোকান বন্ধ করে পালিয়েছেন, তাদের উপর বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হবে। কোনো অবস্থাতেই নকল, ভেজাল বা অনুমোদনহীন ওষুধ বিক্রি করতে দেওয়া হবে না। নিয়ম অমান্যকারী ও লাইসেন্সহীন ফার্মেসিগুলোর বিরুদ্ধে পরবর্তীতে আইনানুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।