বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
আইফোনের লোভে ঘুমন্ত বন্ধুকে কুপিয়ে হত্যা ॥ ঘাতক গ্রেপ্তার ॥ নিখোঁজের ৬ দিন পর লাখাইয়ে কচুরিপানারনিচ থেকে নবীগঞ্জের তারেকের মরদেহ উদ্ধার শহরতলীর ধুলিয়াখাল গ্রামে কবরস্থান দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ ৩৯ দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরেছেন হুইপ জি কে গউছ চুনারুঘাটে ২০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার নবীগঞ্জে সরকারি গোপাট ও খাল রক্ষার দাবিতে কৃষকদের আবেদন ॥ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ ইউএনওর শহরে মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে যুবক নিহত ॥ আহত ১ যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জহিরুল ইসলাম সেলিমের আনন্দ মিছিল মাদক মামলায় মাধবপুরের ১ জনের ১০ বছরের কারাদণ্ড চুনারুঘাটে বেকারিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ॥ আট হাজার টাকা জরিমানা বানিয়াচংয়ের রত্না নদীতে বৈদ্যুতিক শক ও নিষিদ্ধ জালে মাছ নিধন

মাধবপুর নোয়াপাড়া চা বাগানের শ্রমিকদের কর্মবিরতি

  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে

মাধবপুর প্রতিনিধি ॥ মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া চা বাগানে সাপ্তাহিক মজুরি না পেয়ে কর্মবিরতি পালন করছেন ৮৫০ জন শ্রমিক। গত সোমবার সাপ্তাহিক মজুরি পাওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে টাকা পাননি তাঁরা। ফলে মজুরি ছাড়াই খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়েছে শ্রমিকদের। এর প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার বাগানের কাজে যোগ না দিয়ে কর্মবিরতি পালন করেন তাঁরা। বকেয়া মজুরি পরিশোধ না করা পযন্ত কাজে ফিরতে অনাগ্রহী শ্রমিকরা।
এক সময় দেশের অন্যতম পরিপাটি ও সুনামধন্য চা বাগান হিসেবে পরিচিত ছিল নোয়াপাড়া চা বাগান। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে কয়েক বছর ধরে বাগানটিতে নানা সমস্যা চলছে। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুর্শেদ খানের মালিকানাধীন এ চা বাগানটি বর্তমানে গুরুতর আর্থিক সংকটে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাগানের সাধারণ শ্রমিকদের জীবনে।
বাগান কর্তৃপক্ষের দাবি, গত কয়েক বছর ধরে নোয়াপাড়া চা বাগানের জন্য ব্যাংকঋণ পাওয়া যাচ্ছে না। আর্থিক সংকটের কারণে এক সময় বাগানের গ্যাস সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে চা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায়। প্রায় দুই বছর কারখানাটি বন্ধ ছিল। পরে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও কারখানা চালু করা হয় এবং শ্রমিকদের মজুরিসহ অন্যান্য পাওনা পরিশোধের চেষ্টা করা হয়। তবে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং চায়ের বিক্রয়মূল্য প্রত্যাশিত হারে না বাড়ায় প্রতি বছর লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।
শ্রমিকদের অভিযোগ, বাগানে দীর্ঘদিন ধরেই নানা সমস্যা চলছে। কখনো মজুরি নিয়ে অনিশ্চয়তা, কখনো অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সংকট দেখা দিচ্ছে। এবার সাপ্তাহিক মজুরি না পাওয়ায় তাঁদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
বাগানের শ্রমিক নেতা খেলু নায়েক বলেন, ‘বাগানের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। মালিকপক্ষ নিয়মিত শ্রমিকদের মজুরি দিতে পারছে না। গত সোমবার মজুরি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু টাকা না পেয়ে সবাই খালি হাতে বাড়ি ফিরেছেন। সপ্তাহ শেষে মজুরি পেলে সেই টাকা দিয়ে চাল, ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে সংসার চালাই। এখন মজুরি না পেলে আমাদের চলবে কীভাবে ?
তিনি বলেন, চা শ্রমিকদের অধিকাংশই স্বল্প মজুরিতে কোনো রকমে সংসার চালান। তাঁদের হাতে সঞ্চিত অর্থও থাকে না। সপ্তাহের মজুরি দিয়ে পরিবারের খাবারসহ প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে হয়। নির্ধারিত সময়ে মজুরি না পাওয়ায় শ্রমিক পরিবারগুলো চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
নোয়াপাড়া চা বাগানের সভাপতি কমেড নায়েক বলেন, ‘মজুরি কবে দেওয়া হবে, এ বিষয়ে বাগান কর্তৃপক্ষ আমাদের কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। এ নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। মজুরি না পাওয়ায় গতকাল মঙ্গলবার শ্রমিকরা কাজে যোগ দেননি। বাগানে দীর্ঘদিন ধরেই নানা সমস্যা চলছে। মালিকপক্ষ বাগান পরিচালনা করতে হিমশিম খাচ্ছে। এর ফলে শ্রমিকদের দুর্ভোগ বাড়ছে।’
তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার থেকে বাগানে কর্মবিরতি চলছে। কত দিন এ কর্মসূচি চলবে, তা বলা যাচ্ছে না। শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা হলে তাঁরা কাজে ফিরতে রাজি আছেন। বিষয়টি মাধবপুর উপজেলা প্রশাসন ও শ্রীমঙ্গলের শ্রম অধিদপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে নোয়াপাড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক সোহাগ মাহমুদ বলেন, ‘অর্থের অভাবে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। কোম্পানি চলমান পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। প্রতি বছরই আমাদের লোকসান হচ্ছে। চা উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় সবকিছুর দাম বেড়েছে, কিন্তু চায়ের দাম সেভাবে বাড়ছে না। এ অবস্থায় বছরের পর বছর লোকসান দিয়ে বাগান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।’

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ
© All rights reserved © 2013-2026 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com