মাধবপুর প্রতিনিধি ॥ মাধবপুর উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের ধাপ ও নির্বাচন কমিশনের দিকনির্দেশনা ঘোষণার পরপরই ১১টি ইউনিয়নে নির্বাচনী তৎপরতা বেড়েছে। সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা নিজেদের প্রার্থিতা জানান দিতে শুরু করেছেন। গণসংযোগ, ব্যানার-পোস্টার টাঙানো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তাঁরা সরব হয়ে উঠেছেন।
এবার সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপির নেতাকর্মীদের তৎপরতা বেশি দেখা যাচ্ছে। কেউ এলাকায় উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে অংশ নিয়ে, কেউ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে, আবার কেউ দলীয় সমর্থন পেতে নানা কৌশলে প্রচার চালাচ্ছেন। সম্প্রতি দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিভিন্ন পূজামন্ডপে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য পদ প্রত্যাশীদের উপস্থিতি ও ছিল চোখে পড়ার মতো। এবার নতুন মুখের সংখ্যাও বেশ উল্লেখযোগ্য।
নির্বাচন সরাসরি দলীয় প্রতীকে না হলেও দলীয় সমর্থন প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তবে শেষ পর্যন্ত কারা নির্বাচনে থাকবেন এবং কারা দলীয় সমর্থন পাবেন, তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।
প্রাকৃতিক সম্পদ, চা-বাগান, হাওর, গ্যাসত্রে, পর্যটন এলাকা ও শিল্পকারখানার কারণে মাধবপুর একটি সম্ভাবনাময় উপজেলা। তবে মাদক, শিক্ষায় পিছিয়ে থাকা, জনস্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগব্যবস্থা ও দারিদ্র্যসহ নানা সমস্যা রয়েছে এখানে। এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন-এমন প্রার্থীকেই বেছে নিতে চান ভোটাররা। তাঁদের প্রত্যাশা, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবেন, দারিদ্র্য বিমোচনে কাজ করবেন এবং সরকারি সহায়তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেবেন।
১১ ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থী ১নম্বর ধর্মঘর ইউনিয়ন: সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান শামসুল ইসলাম কামাল, বর্তমান চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ পারুল, বিএনপি নেতা সাইফুর রহমান টিটু, সাদেকুর রহমান সাদেক এবং রাজা মিয়া, মিজবাহুল বর পলাশ আহমেদ।
২ নম্বর চৌমুহনী ইউনিয়ন: আলোচনায় রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান সোহাগ, সাবেক চেয়ারম্যান আপন মিয়া, সাবেক ছাত্রনেতা আতাউস সামাদ এবং শাহ সৈয়দ মহিবউল্লাহ মুবিন ও লিটন শাহ।
৩ নম্বর বহরা ইউনিয়ন: সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন, সাবেক চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান, বিএনপি সভাপতি শাহিন আলম রিপন এবং আমজাদ আলী শাহিন।
৪ নম্বর আদাঐর ইউনিয়ন: বর্তমান চেয়ারম্যান মীর খুর্শেদ আলম, সাবেক চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম, সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক পাঠান, বিএনপি নেতা আল আমিন, সাবেক ছাত্র নেতা আশিকুর রহমান দুলাল ও হাজী ফিরোজের নামও শোনা যাচ্ছে।
৫ নম্বর আন্দিউড়া ইউনিয়ন: প্রচারণায় রয়েছেন বিএনপি নেতা মোস্তাফা কামাল বাবুল, মোত্তাকিন চৌধুরী, সাবেক ছাত্র নেতা মিজানুর রহমান, বর্তমান চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান, ফকির কায়সার ও নেভি সদস্য ফখরুল ইসলাম।
৬ নম্বর শাহজাহানপুর ইউনিয়ন: সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি পারভেজ হোসেন চৌধুরী, সাবেক চেয়ারম্যান বাবুল হোসেন খান, বিএনপি নেতা আলফাজ মহালদার, হোসাইন মো. রফিক, সাইমুন চৌধুরী ও শফিউদ্দিন মোল্লা।
৭ নম্বর জগদীশপুর ইউনিয়ন: বর্তমান চেয়ারম্যান মাসুদ খান, বিএনপি সভাপতি এখলাছ ভূঁইয়া ও যুব নেতা এনায়েত উল্লাহর নাম আলোচনায় রয়েছে।
৮ নম্বর বুল্লা ইউনিয়ন: সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি নেতা শামসুল ইসলাম মামুন, হাজী আনিছুর রহমান, কবির খান চৌধুরী, বর্তমান চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান ও সাবেক চেয়ারম্যান তাইজ উদ্দিন টেনু।
৯ নম্বর নোয়াপাড়া ইউনিয়ন: বর্তমান চেয়ারম্যান সৈয়দ আতাউল মোস্তাফা সোহেল, সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ জাবেদ, শফিকুর রহমান মহালদার, আদম খাঁ ও রাজা মিয়ার নাম শোনা যাচ্ছে।
১০ নম্বর ছাতিয়াইন ইউনিয়ন: সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান মিনহাজ উদ্দিন চৌধুরী কাসেদ, শেখ মো. কামরুল হাসান, অ্যাডভোকেট মো. জসীম উদ্দিন, মো. ফজলুর রহমান, অ্যাডভোকেট আবু বক্কর সিদ্দিক, মো. আব্দুর রউফ, মোহাম্মদ বায়জিদ মিয়া, জিয়াউর রহমান।
১১ নম্বর বাঘাসুরা ইউনিয়ন: সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি নেতা শহিদ মিয়া, অ্যাডভোকেট সাজিদুর রহমান সজল, গিয়াস উদ্দিন তালুকদার এবং রোকন উদ্দিন নজরুল গাজী।
নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা বাড়লেও ভোটাররা তাঁদের অতীত কর্মকান্ডের হিসাব-নিকাশ করতে শুরু করেছেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কে কতটা জনসেবা করেছেন, এলাকার উন্নয়নে কার কী ভূমিকা ছিল এবং মানুষের বিপদে কে পাশে দাঁড়িয়েছেন-এসব বিষয় বিবেচনায় নিতে চান তাঁরা।
মনতলা শাহজালাল সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিরাজুল হক বলেন, ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা কিংবা দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে সৎ, যোগ্য, ন্যায়পরায়ণ ও জনবান্ধব প্রার্থীরা নির্বাচিত হবেন। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, দারিদ্র্য বিমোচন এবং এলাকার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন-এমন জনপ্রতিনিধিই চান তাঁরা। তবে নির্বাচনের তফসিল, প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়া এবং দলীয় সমর্থনের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে মাধবপুরের নির্বাচনী মাঠের চূড়ান্ত চিত্র।