প্রেস বিজ্ঞপ্তি ॥ নবীগঞ্জ উপজেলার ১২নং কালিয়ার ভাংগা ইউনিয়নের লহরজপুর গ্রামের এক অন্যতম সাহসী ও উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন মোহাম্মদ আকল মিয়া চৌধুরী। ব্রিটিশ আমলে আভিজাত্য, সমাজসেবা ও শিক্ষার ঐতিহ্য বহনকারী এই মুন্সী চৌধুরী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালে মহান ক্লান্তি লগ্নে তিনি সাধারণ মানুষের সাথে কাধে কাধ মিলিয়ে দেশের স্বাধীনতার জন্য অস্র তুলে নিয়েছিলেন। তৎকালীন সময়ে ঘাটের বাজার নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন এই দেশপ্রেমিক ব্যক্তিত্ব। যেহেতু তিনি একটি আঞ্চলিক স্তরের বীর এবং তিনির জীবনের অনেক ব্যাক্তিগত বিবরণ কোন জাতীয় ইতিহাস বইয়ে বিস্তারিত ভাবে নথিবদ্ধ হয়নি। তাই স্থানীয় ইতিহাস প্রবীণদের স্মৃতিচারণ এবং পারিবারিক সূত্র থেকে প্রাপ্ত তিনির গৌরবময় জীবন কাহিনী নিচে বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরা হলো।
পারিবারিক ঐতিহ্য ও প্রারম্ভিক জীবন মোহাম্মদ আকল মিয়া চৌধুরী লহরজপুর গ্রামের এক সমভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে বড়ো হন। তার পরিবার ছিল এই অঞ্চলের প্রধান সমাজপতি ও সম্মানিত বিচারক। তার চাচা মোহাম্মদ আছকির মিয়া চৌধুরী ১৯৩৯ সালে বিখ্যাত শ্রীমতপুর আছকির চৌধুরী প্রাথমিক বিদ্যালয় (বর্তমানে শ্রীমতপুর সরকরি প্রাথমিক বিদ্যালয়) প্রতিষ্ঠা করে। এলাকায় শিক্ষানুরাগের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে ছিলেন তা তরুণ আকল মিয়া কে গভীর ভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। আভিজাত্য আর সামাজিক মর্যাদার মাঝে বড়ো হলেও তাঁর মন ছিল দেশপ্রেম ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে নিবেদিত। ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে যখন পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী বাঙ্গালীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং স্বাধীনতার ডাকে সারা দেন। তখন লহরজপুর গ্রামের এই কৃতি সন্তান ঘরে বসে থাকতে পারেননি। নিজের আরাম আয়েশ বিসর্জন দিয়ে তিনি দেশের টানে বাড়ী থেকে বের হয়ে পড়েন। নবীগঞ্জের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের রসদ জোগান দেওয়া নিরাপদ আশ্রয় তৈরি এবং স্থানীয় রাজাকার ও পাকিস্তানি সেনাদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে তিনি অসীম সাহসীকতার পরিচয় দেন। দেশ স্বাধীন ও পরবর্তী জীবন আকল মিয়া চৌধুরী কোন প্রকার ক্ষমতার লোভ বা অহংকারে জরাননি। তিনি আবার নিজের জন্ম ভিটা লহরজপুরে ফিরে আসেন তাঁর পূর্বপুরুষদের মতো তিনি ও এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো সমাজ সেবা করা এবং পারিবারিক ঐতিহ্য কে পরম শ্রদ্ধায় টিকিয়ে রাখার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি একজন গর্বিত ও নিঃস্বার্থ দেশপ্রেমিক হিসাবে লহরজপুর ও কালিয়ার ভাংগা ইউনিয়নের মানুষের মনে বেঁচে ছিলেন।
লহরজপুর চৌধুরী বংশের ইতিহাস যদি ব্রিটিশ আমলে মোহাম্মদ আছকির মিয়া চৌধুরীর শিক্ষা বিস্তারের জন্য অমর হয়ে থাকে তবে ১৯৭১ সালে আকল মিয়া চৌধুরীর বীরত্বগাঁথা সেই গৌরব কে দিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি প্রমাণ করে গেছেন যে এই চৌধুরী বংশ আভিজাত্যের প্রতীক নয় বরং দেশের প্রয়োজনে বুকের রক্ত ও জীবন বাজি রাখার মতো সর্বোচ্চ দেশ প্রেমের ও অন্যান্য এক উদাহরণ।