শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১১:০৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
হবিগঞ্জে নাছির উদ্দিন পাটোয়ারী ও সারজিস আলম সহ ১০ এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের শায়েস্তাগঞ্জে পানিতে ডুবে ২ ভাইয়ের মৃত্যু হুইপ জি কে গউছের প্রচেষ্টায় ঢাকা-সিলেট ৬ লেন মহাসড়ক নির্মাণে দীর্ঘদিনের জটিলতার অবসান ঘটবে নবীগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ সদস্য আহত বানিয়াচং উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন আগামীকাল মাধবপুরে র‌্যাবের অভিযানে ৫০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২ শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নতুন ইউএনও মোঃ আসাদুজ্জামান চুনারুঘাটে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ জেলা ছাত্রদল সভাপতি রিংগনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে ১’শ জনের বিরুদ্ধে এনসিপির মামলা নবীগঞ্জে পথসভা শেষে বিএনপি ও জাসাস নেতার মধ্যে বাকবিতন্ডা ও সংঘর্ষ ॥ আহত ২০

ড্যান্ডি ঃ নবীগঞ্জে শিশুদের নেশার জগতে নিয়ে যাচ্ছে

  • আপডেট টাইম শুক্রবার, ৬ জানুয়ারী, ২০১৭
  • ৪২৯ বা পড়া হয়েছে

এটিএম সালাম, নবীগঞ্জ থেকে ॥ ‘ড্যান্ডি’ এখন মরন নেশা। নবীগঞ্জ শহরতলীসহ আশপাশ এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে এর ব্যাপকতা। শহরের একশ্রেণীর রং ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফার আশায় কোমলমতি শিশুদের হাতে ছড়া মুল্যে বিক্রি করছে। ফলে স্কুল পড়ুয়া ও পথশিশুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে গ্রামের স্কুল পড়ুয়া শিশু শিক্ষার্থী এবং ছিন্নমূল শিশুদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে এ নেশা। এ সব শিশুরা গ্রহণ করছে ড্যান্ডি নেশা। নবীগঞ্জ উপজেলায় নতুন মরণঘাতী নেশা ড্যান্ডিতে আসক্ত হয়ে পড়ছে স্কুলগামী ও পথশিশুরা। শিশুদের মাদকে এটি নতুন করে সংযোযিত হয়েছে ড্যান্ডি। জুতা কিংবা ফোমে ব্যবহৃত সলিউশন (আঠা) পলিথিনে ভরে কিছুক্ষণ পরপর মুখের সামনে নিয়ে শ্বাস টেনে নেশা করছে তারা। প”কাশ্যে ফুটপাথে কিংবা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে তারা পলিথিন মুখে ধরে শ্বাস নেয়।
জানা গেছে, জুতা কিংবা ফোমে ব্যবহৃত সলিউশনটি (আঠা) তৈরিতে ব্যবহৃত হয় স্প্রিট। দীর্ঘক্ষণ এটি নাকে-মুখে শ্বাস নিলে মাথা ঝিম ঝিম করতে থাকে। পাশাপাশি আসক্তি তৈরি হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জুতা তৈরি ও ইলেকট্রনিকস যন্ত্রপাতি মেরামতে একধরনের আঠা ব্যবহার করা হয়। স্থানীয়ভাবে এটি ড্যান্ডি আঠা নামে পরিচিত। ইলেকট্রনিকস এবং রং এর দোকানগুলোতে এ সব আঠা বিক্রি করা হয়। এ সব শিশু আঠা পলিথিনে ভরে নিঃশ্বাসের সঙ্গে সেই আঠা গ্রহণ করছে নেশা হিসেবে। দামে কম হওয়ায় সবাই এই নেশার দিকে ঝুঁকছে। ড্যান্ডি প্যাকেট এর দাম ৩০ টাকা। দোকানীরা এ সব ড্যান্ডির প্যাকেট ছড়া মুল্যে তোলে দিচ্ছে শিশুদের হাতে। ড্যান্ডি নেশাগ্রস্থ শিশুদেরকে আইনের আওতায় আনতে গিয়েও নানা জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে যে সব দোকান গুলো ওই সব ড্যান্ডির প্যাকেট শিশুদের কাছে বিক্রি করছে, তাদের বিরুদ্ধ কঠোর ব্যবস্থা নিলে হয়তো বা এই সব কোমলমতি শিশুদের মরন নেশা ড্যান্ডি থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ প্রত্যন্ত গ্রামে যদি এই নেশা বন্ধ করা না যায় তাহলে অনেক সন্তান নষ্ট হয়ে যাবে। নেশাগ্রস্থ শিশুরা জানান, নবীগঞ্জ শহরের ওসমানী রোডস্থ জে.কে হাইস্কুল মার্কেটে, মধ্যবাজার ও শেরপুর রোডসহ শহরের বিভিন্ন রং এর দোকান গুলোতে অবাধে শিশুদের কাছে প্রকাশ্যে ড্যান্ডি বিক্রি হচ্ছে। যাদের কাছে ওই ড্যান্ডি বিক্রি করা হচ্ছে তাদের বয়স ৭/ ১০ বছর হবে।
এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল বাতেন খানঁ বলেন, কিছু সংখ্যাক পথ শিশুর ড্যান্ডি আসক্তির ব্যাপারে আমাদের কাছে তথ্য আছে। কিছু দিন আগে কয়েকজন ড্যান্ডি আসক্ত পথ শিশুকে আটক করি। আটককৃত শিশুদের বয়স ৭ থেকে ১০ বছর। পরে তাদের মা বাবাকে ডেকে এনে তাদের জিম্মাায় দেয়া হয়। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিৎ বলেও তিনি মনে করেন।
অভিজ্ঞ মহল মনে করেন, সমাজের সকল শ্রেণী-পেশার মানুষদের এই বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। যারা ড্যান্ডি সেবন করে তাদের বয়স খুব কম তাই প্রতিটা পরিবারকে খেয়াল রাখতে হবে তাদের ছেলে কোথায় যায় কি করে । এছাড়া যে, দোকান থেকে কোমলমতি শিশুরা ড্যান্ডি খরিদ করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিলে শিশুদের এই মরন নেশা ড্যান্ডি থেকে তাদেরকে রক্ষা করা যেতে পারে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com