স্টাফ রিপোর্টার ॥ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) সমাবেশ ঘিরে হবিগঞ্জে ছাত্রদলের সাথে এনসিপির সংঘর্ষ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শহরের থানার মোড় এলাকায় সংঘর্ষ হয়। এ সময় দুই পরে মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমকে সোনালী ব্যাংকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। রাত ৮টায় তাদেরকে পুলিশ উদ্ধার করে সার্কিট হাউজে নিয়ে যায়। হামলায় এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম ও জেলা সদস্য সচিব মাহবুবুর রহমান মুবিন, সাংবাদিক নাহিদসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। তাদেরকে বহনকারী গাড়িও ভাংচুর করা হয়। জুলাই জাগরণ পদযাত্রা ২০২৬ উপলক্ষে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী ও মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম মঙ্গলবার হবিগঞ্জ আসেন। সকালে তারা আজমিরীগঞ্জ উপজেলা সদরে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় সংক্ষিপ্ত সমাবেশও হয়। বিকেল সাড়ে ৫টায় জেলা শহরের সাইফুর রহমান টাউন হলের সামনে সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বক্তৃতা করেন। সমাবেশ শেষে সন্ধ্যায় তারা সার্কিট হাউজে ফিরছিলেন। তারা সদর হাসপাতাল এলাকায় পৌঁছলে একদল যুবক ধাওয়া দেয়। তখন তাদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। একপর্যায়ে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী ও সারজিস আলমসহ নেতাকর্মীরা সোনালী ব্যাংক কেন্দ্রীয় শাখার অভ্যন্তরে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে তাদেরকে সেখানে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও র্যাব দীর্ঘ চেষ্টা চালিয়ে উত্তেজিত লোকজনকে শান্ত করে রাত ৮টায় তাদেরকে উদ্ধার করে নিরাপদে সার্কিট হাউজে নিয়ে যায়। রাত ৯টার দিকে সার্কিট হাউজ একাংশের বিদ্যুত চলে যায়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ্যাম্বুলেন্সযোগে সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা পুলিশ প্রহরায় ঢাকার উদ্দেশ্যে চলে যান। এনসিপি জেলা শাখার আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, “সন্ধ্যায় সমাবেশ শেষ করে কেন্দ্রীয় নেতা নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী ও সারজিস আলমকে নিয়ে সার্কিট হাউজে যাওয়ার সময় থানার মোড় এলাকায় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা হামলা করে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।”
জেলা ছাত্রদল সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন বলেন, “শান্তিপূর্ণ হবিগঞ্জ শহরে কেউ যদি এসে অশালীন বক্তব্য দিয়ে শহরকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তার দায়ভার তাকেই নিতে হবে। অন্য কেউ এর দায়ভার নেবে না। তবে আজকে অপ্রীতিকর একটি ঘটনার খবর আমি শুনেছি। এর সাথে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের কোনো সম্পর্ক নেই। শুনেছি কোনো অশালীন বক্তব্যকে ঘিরে বিক্ষুব্ধ মানুষজন ধাওয়া দিয়েছে। এ ঘটনার সাথে ছাত্রদল বা বিএনপির কেউ জড়িত নয়।” এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেন, “আমাদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। কারও হাত ভেঙে গেছে, কারও মাথা ফেটে গেছে। জেলা সদস্য সচিবকে রড দিয়ে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে। একজনের চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় হাসপাতালের সামনেই আমাদের উপর হামলা করা হয়।”
সদর মডেল থানার ওসি মো. জাহিদুল হক জানান, ঘটনা শুনার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের উদ্ধার করে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে।