বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৫২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
বানিয়াচংয়ে ৯ ছাত্র-জনতা হত্যা মামলা ॥ ২ বছরেও শুরু হয়নি বিচার শহীদ পরিবারে তীব্র ক্ষোভ দেউন্দি-রঘুনন্দন বনাঞ্চলের গাছ কেটে সাবাড় ॥ হুমকির মুখে জীববৈচিত্র্য আজ “জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস” এই আন্দোলনে হবিগঞ্জ জেলায় ১২ ছাত্র-জনতা ও পুলিশ প্রাণ হারান মাধবপুরে লোডশেডিং বিপর্যস্ত জনজীবন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম হবিগঞ্জ জেলা শাখার নয়া কমিটি বানিয়াচঙ্গে শিক্ষার্থী সংবর্ধনায় ডা. জীবন ॥ আজকের কৃতিরাই আগামী দিনের স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের কারিগর হবিগঞ্জ সোসাইটি ইউ.কে এর উদ্যোগে বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ ও বস্ত্র বিতরণ ইংল্যান্ড আলাল মহসিনের চুরি যাওয়া ২টি আইফোন ২৪ ঘণ্টায় উদ্ধার পুলিশ ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানে ডাকাতি মামলার আসামি গ্রেপ্তার তেতৈয়ায় নানার বাড়িতে বেড়াতে এসে লাশ হলো শিশু

স্থায়ী হতে চান ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তারা

  • আপডেট টাইম বুধবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৩
  • ৫২৯ বা পড়া হয়েছে

বাহুবল প্রতিনিধি ॥ ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্র গ্রামীণ মানুষের একটি অপরিহার্য্য প্রতিষ্ঠান। জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনসহ নানামুখী ই-সেবাদানের মাধ্যমে এ প্রকল্পটি ৩ বছরে জনসাধারণের কাছে এ অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে। তথ্যসেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তারাও হয়ে উঠেছেন নিত্যসেবক। দু’য়ের মাঝে গড়ে উঠা আত্মীক সম্পর্ক হয়ে উঠেছে গভীর থেকে গভীরতর। ফলে শিক্ষিত বেকার এসব উদ্যোক্তাদের কেউই আর এ স্থানটি ছেড়ে যেতে চাচ্ছেন না। তারা উদ্যোক্তাদের নিয়োগ স্থায়ীকরণের দাবি জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার ৭টি তথ্যসেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা যৌথভাবে জেলা প্রশাসকের কাছে এ ব্যাপারে স্মারকলিপি দিয়েছেন।
হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার স্নানঘাট গ্রামের কৃষক জুনাব আলীর পুত্র মনির হোসেন দাখিল ও আলিম পাশ করার পর বর্তমানে ফাজিল (৩য় বর্ষে) অধ্যয়ন করছেন। এছাড়াও তিনি উপজেলার ১নং স্নানঘাট ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন গত ২০১১ সনের ২০ আগস্ট থেকে। উপজেলার সবচেয়ে দূরবর্তী ও দুর্গম এ ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স-এর দ্বিতীয় তলায় স্থাপিত তথ্যসেবা কেন্দ্র তার হাত ধরেই ই-সেবা শুরু করে। এর আগে অর্থাৎ ২০১০ সনের ১১ নভেম্বর থেকে ওই কাজটি ভাসমানভাবে চালাতেন তখনকার ইউপি কার্যালয়ের কালেক্টর আব্দুল হক। মনির হোসেন তথ্যসেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে গত ১৮ নভেম্বর দুপুর পর্যন্ত অনলাইনে ৩ হাজার ৬৯২টি জন্মনিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। ২৬ হাজারের অধিক জনসংখ্যা অধুষিত এ ইউনিয়নে এ পর্যন্ত জন্ম নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে ২২ হাজার ৪২৩টি। ওই তথ্যসেবা কেন্দ্রে ফটোস্ট্যাট মেশিন না থাকলেও অনলাইনে পরীক্ষার ফলাফল, ডিজিটাল ক্যামেরায় ছবি তোলা, লেমিনেটিং, কম্পিউটারে কম্পোজ, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, অনলাইনে ভর্তি ফরম পূরণ, মোবাইল ব্যাংকিং, দেশ-বিদেশে ই-মেইলে ছবি ও ডকুমেন্ট প্রেরণের ব্যবস্থা রয়েছে। এসব সেবাদানের মাধ্যমে উদ্যোক্তা মনির হোসেন মাসে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা আয় করে থাকেন। এ আয়ের দ্বারা তিনি তার এবং তার ভাই-বোনদের শিক্ষা ব্যয় সম্পন্ন করে থাকেন। আলাপচারিতায় তিনি জানান, মা-বাবা ছাড়াও ৪ ভাই ৩ বোনকে নিয়ে তাদের পরিবার। তার পিতা একজন দরিদ্র কৃষক। কৃষিই তার পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। এ অবস্থায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম-এর সহযোগিতায় এ কাজটি পেয়ে তার খুব উপকার হয়েছে। অন্যতায় তার এবং তার ভাই-বোনদের শিক্ষা জীবন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হতো না।
২০১০ সনের শেষের দিকে সরকার ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্র চালু করে। বেতন নয় সেবা বিক্রির লব্ধ অর্থেই তথ্যসেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তার আয়ের উৎস্য হওয়ায় অনেকেই এ দায়িত্ব নিতে আগ্রহ দেখাননি। ফলে স্ব স্ব ইউপি চেয়ারম্যান তাদের শিক্ষিত বেকার স্বজন-পরিজনকে এ দায়িত্ব দেয়ার মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করেন। শুরুতে ব্যয় নির্বাহ করে উদ্যোক্তাদের ভাগে কিছুই থাকতো না। এতে অনেকেই হতাশ হন। সময়ের পরিবর্তনে এ দুর্দিন কেটে গেছে। বর্তমানে প্রায় প্রতিটি তথ্যসেবা কেন্দ্রেরই সুদিন চলছে। এ অবস্থায় অধিকাংশ উদ্যোক্তাই এ কাজটি ছেড়ে দিতে চান না। তাদের ধারণা ইউপি চেয়ারম্যানের পরিবর্তন হলে তারা বাদ পড়তে পারেন। এ আশঙ্কা থেকে ইতোমধ্যে বাহুবল উপজেলার ৭টি তথ্যসেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা যৌথভাবে জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপির মাধ্যমে তাদের পদটি স্থায়ীকরণের দাবি জানিয়েছেন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com