শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
হবিগঞ্জে নাছির উদ্দিন পাটোয়ারী ও সারজিস আলম সহ ১০ এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের শায়েস্তাগঞ্জে পানিতে ডুবে ২ ভাইয়ের মৃত্যু হুইপ জি কে গউছের প্রচেষ্টায় ঢাকা-সিলেট ৬ লেন মহাসড়ক নির্মাণে দীর্ঘদিনের জটিলতার অবসান ঘটবে নবীগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ সদস্য আহত বানিয়াচং উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন আগামীকাল মাধবপুরে র‌্যাবের অভিযানে ৫০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২ শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নতুন ইউএনও মোঃ আসাদুজ্জামান চুনারুঘাটে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ জেলা ছাত্রদল সভাপতি রিংগনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে ১’শ জনের বিরুদ্ধে এনসিপির মামলা নবীগঞ্জে পথসভা শেষে বিএনপি ও জাসাস নেতার মধ্যে বাকবিতন্ডা ও সংঘর্ষ ॥ আহত ২০

শ্রীমতপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়ে কুচক্রী মহলের চক্রান্ত ॥ শিক্ষার পরিবেশ নষ্টের আশংকা

  • আপডেট টাইম বুধবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০১৫
  • ৫৯৯ বা পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নবীগঞ্জ উপজেলার শ্রীমতপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়ে চক্রান্ত শুরু হয়েছে। এ চক্রান্তের ফলে বিদ্যালয়টির শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্টের আশংকা করছেন গ্রামের বিশিষ্টজনরা। বিদ্যালয়টি স্থানান্তর এবং সম্প্রতি ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে একটি কুচক্রী মহল এ চক্রান্তে মেতে উঠেছেন।
সূত্রে জানা গেছে-সম্প্রতি গ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট আব্দুল মুছাব্বির বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য সংসদ সদস্য এমএমুনিম চৌধুরী ও নবীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর চৌধুরীকে আমন্ত্রণ জানান এবং তাঁদেরকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। এ সময় বিদ্যালয়ের উন্নয়নের ব্যাপারে সংসদ সদস্য এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে আলাপ হয়। তাঁরা বিদ্যালয় পরিদর্শন করার পর স্থান পরিবর্তন ও জায়গা নির্ধারণ করে উপজেলা শিক্ষা কমিটির বরাবরে আবেদন করার পরামর্শ দেন। বর্তমানে যে জায়গায় বিদ্যালয়টি রয়েছে ওই জায়গায় সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে জানান। সেই অনুযায়ী গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে মাঠের পাশে তাঁদের দু’জনকে উপযুক্ত স্থানও দেখানো হয়। ওই স্থানটি তাঁদের মনপূত হয়। কিন্তু এ বিষয়টি মেনে নেননি বিদ্যালয়ের আশেপাশের লোকজন। তাদের দাবী হচ্ছে, বিদ্যালয়টি স্থানান্তর করতে হলে গ্রামের উত্তর হাটি মাঠে করতে হবে। কিন্তু তাদের দাবী মোতাবেক উত্তর হাটি মাঠে স্থানান্তর করা হলে তা পুরো গ্রামের শিশুদের জন্য বিদ্যালয়ে গমণ সম্ভব হয়ে উঠবে না। আর এ নিয়েই চক্রান্তের জাল বুনা শুরু হয়।
এর সাথে যোগ হয় নতুন ম্যানেজিং কমিটি গঠন। সূত্রে জানা গেছে, ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় গত ১ জানুয়ারী তারিখে সহকারী শিক্ষা অফিসার বিদ্যালয় পরিদর্শনে এসে প্রধান শিক্ষককে নতুন কমিটি গঠনের তাগিদ দেন। সেই মোতাবেক প্রধান শিক্ষক পুরনো কমিটিকে নিয়ে সভা করেন এবং তারা নতুন কমিটি গঠনের সম্মতি দেন যা রেজুলেশনে লিপিবদ্ধ করা হয়। পরে ১৯ জানুয়ারী তারিখে প্রধান শিক্ষক সাধারণ সভা আহ্বান করেন। সভায় সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট আব্দুল মুছাব্বির সভাপতিত্ব করেন। টানা ২বারের অধিক কোন ব্যক্তি ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নিযুক্ত হওয়ার বিধান না থাকায় সাবেক চেয়ারম্যান সালেহ আহমেদ চৌধুরীকে সভাপতি করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা হয়। আর এতে করে ক্ষুব্ধ হন বাদ পড়া সদস্যরা। এর পর থেকেই নানাভাবে অপ্রচার ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তারা চক্রান্তে মেতে উঠে। প্রধান শিক্ষককে বদলী করতে তারা উঠেপড়ে লেগেছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে-প্রধান শিক্ষক গোলাম আহমেদ ১৯৮৮ সালে ওই বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। তার যোগদানের পর থেকে বিদ্যালয়ের পড়ালেখার মান পাল্টে যায়। আগে যেখানে বিদ্যালয়ের ফলাফল ২৫ভাগ ছিল সেখানে ৯৮ভাগ থেকে শতভাগে উন্নীত হয়। গ্রামের কয়েকজনের সাথে আলাপ করে জানা গেছে-বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য পরীক্ষাকে সামনে রেখে প্রধান শিক্ষক সন্ধ্যারাতেও শিক্ষার্থীদেরকে পড়ালেখা করিয়েছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মো: আরিছ মিয়া বলেন-স্কুলের শুধুমাত্র বিল্ডিংটি রয়েছে। এর বাইরে কোন জায়গা নেই। গ্রীল লাগিয়ে স্কুলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্কুলের উন্নয়ন করতে হলে এখান থেকে স্থানান্তর করা প্রয়োজন বলে তিনি বলেন। তিনি আরো বলেন-প্রাথমিক বিদ্যালয়কে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত উন্নীত করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বর্তমানে যেখানে স্কুলটি রয়েছে সেখানে উন্নীত করা সম্ভব হবেনা। ম্যানেজিং কমিটি সম্পর্কে তিনি বলেন, এর মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় প্রধান শিক্ষককে তাগিদ দিয়েছি। সে মোতাবেক নতুন কমিটি গঠন করে তা জমা দেয়া হয়েছে। একটানা ২বারের অধিক কোন ব্যক্তি ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে পারেন না বলে তিনি জানান।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুর রাজ্জাক বলেন-যে জায়গায় স্কুলটি আছে সে জায়গাটি খুবই কনজাসষ্টেট।
এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর চৌধুরীর সাথে চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, ১৯৩৯ সালে শ্রীমতপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। ১৯৮৮ সালে বিদ্যালয়টির স্থান পরিবর্তন করে যে জায়গায় বিদ্যালয়ের ঘরটি ছিল সেখান থেকে অল্প দুরে পূর্বদিকে সরকারীভাবে একটি নতুন ভবন নির্মাণ করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে যে জায়গায় বিদ্যালয়টি রয়েছে এমন জায়গায় বিদ্যালয় স্থাপন এবং পড়ালেখার কোন ধরণের পরিবেশ নেই। বিদ্যালয় ঘরের চার দেয়ালের ভিতরেই সীমাবদ্ধ। এর বাইরে এক ইঞ্চি জায়গাও নেই। বিদ্যালয়ের বারান্দার সাথে রয়েছে গভীর রাস্তা। বারান্দা থেকে রাস্তায় পড়ে গেলে বড় ধরণের দুর্ঘটনার আশংকায় গ্রীল লাগানো হয়েছে। বিদ্যালয়ের আশপাশে রয়েছে বাড়িঘর। রয়েছে খোলা পায়খানা ও গরুঘর।  শিক্ষার্থীদের খেলুধুলা কিংবা চিত্ত বিনোদনের জন্য এক ইঞ্চি জায়গাও নেই। বর্তমানে শিশু শ্রেণীসহ ৬টি ক্লাস করার মত কোন অবস্থা নেই। ফলে শিশুদের বারান্দায় পড়ালেখা করাতে হচ্ছে। বিদ্যালয়টি আরো বর্ধিত করা হবে এমন জায়গাও নেই।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com