স্টাফ রিপোর্টার ॥ নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের রোকনপুর গ্রামে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে মারধর অতঃপর মৃত সন্তান প্রসবের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এদিকে এ ঘটনার পর আসামিদের হুমকি-ধমকির কারণে গত ১৫ দিন ধরে অসুস্থ স্ত্রী, বৃদ্ধ মা ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাড়ি ছাড়া হাদিস উল্লা। গত ১৬ জুলাই হবিগঞ্জের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের রোকনপুর গ্রামের হাদিস উল্লা বাদী হয়ে ৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। মামলায় একই গ্রামের ইছমত উল্লা (৬৫), সোহেল মিয়া (৩৫), হান্নান মিয়া (৩২), আলাল মিয়া (৩০), জালাল মিয়া (২৮), মিলন মিয়া (২৬) ও রুমন মিয়া (২৫)-কে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে হাদিস উল্লার সঙ্গে প্রতিবেশী ইছমত উল্লাহ ও তার লোকজনের মধ্যে বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এছাড়া পাহাড় কেটে এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি বিক্রির অভিযোগে হাদিস উল্লা প্রশাসনকে অবহিত করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা বন্ধ করে দেয়।
এরপর থেকেই আসামিরা ক্ষুব্ধ হয়ে তার ও পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার সুযোগ খুঁজছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩ জুলাই দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে আসামিদের একটি হাঁস বাদীর বসতঘরে ঢুকে নোংরা করলে বিষয়টি নিয়ে বাদীর স্ত্রী ফাহিমা বেগমের সঙ্গে আসামি পক্ষের নারী সদস্যের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আসামিরা সংঘবদ্ধ হয়ে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ফাহিমা বেগমের ওপর হামলা চালায়। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, হান্নান মিয়া ফাহিমা বেগমকে মারধর করেন, সোহেল মিয়া তার কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন এবং আলাল মিয়া তার তলপেটে আঘাত করেন। জালাল মিয়া, মিলন মিয়া ও রুমন মিয়াও হামলায় অংশ নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। স্ত্রীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাদের ছেলে জাবেদ মিয়াকেও মারধর করা হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় ফাহিমা বেগমকে প্রথমে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে এবং সেখান থেকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৭ জুলাই তিনি একটি মৃত সন্তান প্রসব করেন। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে বাদী দাবি করেছেন, হামলার কারণে রক্তক্ষরণ হয়ে তার স্ত্রীর গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়েছে।
বাদী হাদিস উল্লার অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর থেকে আসামিরা তাকে ও তার পরিবারকে নিয়মিত ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। এতে তিনি, তার অসুস্থ স্ত্রী, বৃদ্ধ মা ও পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। নিজের বসতবাড়ি থাকা সত্ত্বেও গত ১৫ দিন ধরে সেখানে ফিরতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে তারা শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
তিনি বলেন, “আমরা এখন আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। নিজেদের বাড়িতে যেতে পারছি না। প্রশাসনের কাছে আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নিজ বাড়িতে ফেরার ব্যবস্থা এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।