বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
বানিয়াচংয়ে ৯ ছাত্র-জনতা হত্যা মামলা ॥ ২ বছরেও শুরু হয়নি বিচার শহীদ পরিবারে তীব্র ক্ষোভ দেউন্দি-রঘুনন্দন বনাঞ্চলের গাছ কেটে সাবাড় ॥ হুমকির মুখে জীববৈচিত্র্য আজ “জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস” এই আন্দোলনে হবিগঞ্জ জেলায় ১২ ছাত্র-জনতা ও পুলিশ প্রাণ হারান মাধবপুরে লোডশেডিং বিপর্যস্ত জনজীবন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম হবিগঞ্জ জেলা শাখার নয়া কমিটি বানিয়াচঙ্গে শিক্ষার্থী সংবর্ধনায় ডা. জীবন ॥ আজকের কৃতিরাই আগামী দিনের স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের কারিগর হবিগঞ্জ সোসাইটি ইউ.কে এর উদ্যোগে বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ ও বস্ত্র বিতরণ ইংল্যান্ড আলাল মহসিনের চুরি যাওয়া ২টি আইফোন ২৪ ঘণ্টায় উদ্ধার পুলিশ ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানে ডাকাতি মামলার আসামি গ্রেপ্তার তেতৈয়ায় নানার বাড়িতে বেড়াতে এসে লাশ হলো শিশু

চুনারুঘাটের বনে গাছচোরদের কালো থাবা ॥ জীব বৈচিত্র ধ্বংস

  • আপডেট টাইম বৃহস্পতিবার, ৬ মে, ২০২১
  • ৭৫০ বা পড়া হয়েছে

চুনারুঘাট প্রতিনিধি ॥ দেশের ২য় বৃহত্তম প্রাকৃতিক বনভূমি চুনারুঘাট রেমা-কালেঙ্গা সংরক্ষিত বন। এটি একটি শুকনো ও চিরহরিৎ বন। প্রায় ১ হাজার ৭৯৫ হেক্টর আয়তনের এই বনভূমি থেকে প্রতিদিন উজাড় হচ্ছে মহামূল্যবান সব গাছ। ফলে পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়ছে রেমা-কালেঙ্গা বনটি। বন বিভাগের লোকজন মাঝেমধ্যে চোরাই কাঠ আটক করলেও চোরাকারবারিরা রয়ে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।
গত ২৪ এপ্রিল কালেঙ্গা রেঞ্জ অফিসের এক কিলোমিটারের মধ্যে তালতলা টিলা থেকে শতবর্ষী ১১টি গাছ কেটে ফেলেছে গাছ চোরেরা। এর মধ্যে পাহাড়ি মেহগনি ৫টি ও ৬টি ডাগি জামগাছ। বন বিভাগের লোকজন কাটা গাছগুলোর কিছু অংশ উদ্ধার করতে পাড়লেও চোরেরা বেশির ভাগ গাছই পাচার করে ফেলেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঘটনার ১১ দিন পরও এ বিষয়ে কোনো মামলা হয়নি। কালেঙ্গা-রেমা ও ছনবাড়ি বিট থেকে প্রতিদিনই পাচার হচ্ছে সেগুনগাছ। বেশ কিছুদিন গাছ পাচার বন্ধ ছিলো। করোনার সুযোগে বিগত ১ বছর ধরে আবারো গাছ পাচার চলছে। চোরেরা ইতোমধ্যে রশিদপুর সংরক্ষিত বন উজাড় করে দিয়েছে। সেই বনে নতুন করে লাগানো হয়েছে গাছের চারা। চোরেরা চারা গাছও পাচার করছে।
কালেঙ্গা রেঞ্জ কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন, ২৪ এপ্রিল গাছ কাটা হলেও চোরেরা গাছ নিতে পারেনি। কাটা গাছ জব্দ করা হয়েছে। যার পরিমাণ ১৪০ ঘনফুট। এ ব্যাপারে বিট অফিসার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু বন বিভাগের লোক, বন বিভাগ দ্বারা লালিত ভিলেজার (চুক্তিভিত্তিক বনপ্রহরী) স্থানীয় প্রভাবশালী লোকজনই মূলত রেমা-কালেঙ্গা বন ধ্বংসের পেছনে দায়ী। তাদের সহযোগিতায়ই বছরের পর বছর ধরে প্রকাশ্যে চলছে গাছপাচারের মহোৎসব। এক সময় এই বনে ৫০০ প্রজাতির গাছ ছিলো। এখন তা ১০/১২ প্রজাতিতে নেমে এসেছে। অব্যাহতভাবে গাছ কাটার কারণে অনেক প্রজাতির গাছ বন থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন কয়েক শত বনমজুর রেমা-কালেঙ্গা বনে প্রবেশ করে বনজ সম্পদ লুট করছে। ওই বনমজুরদের কাছ থেকে জনপ্রতি আদায় করা হচ্ছে ৩০ টাকা। বন বিভাগের কর্মকর্তাদের বক্তব্য হলো, আমাদের লোকবল কম। তাই গাছ পাচার রোধ করা যাচ্ছেনা।
এদিকে চুনারুঘাটে বৈধ ও অবৈধ ৫১টি করাতকলে প্রতিদিন হাজার হাজার ঘনফুট কাঠ চিরাই হচ্ছে। এতে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে বন। বনাঞ্চলের কাছাকাছি স্থানেও করাতকল স্থাপিত হয়েছে। করাত কল থেকে বন বিভাগের লোকজন মাসোয়ারা আদায় করে।
গাছপাচার রোধে ১৯৯৮ সালে চুনারুঘাটে বন বিভাগের স্পেশাল টহল বাহিনী গঠন করা হয়েছিল। এ বাহিনী গঠনের পর উপজেলায় গাছ চোরাকারবারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছিল। এ বছর জানুয়ারীতে এখান থেকে টহল বাহিনী উঠিয়ে নেওয়া হয়। ফলে বন বিভাগ দ্বারা বেষ্টিত এ উপজেলায় বেড়ে যায় গাছপাচার। স্থানীরা গাছপাচার রোধে চুনারুঘাটে টহল বাহিনী পুনঃস্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com