শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
হবিগঞ্জে নাছির উদ্দিন পাটোয়ারী ও সারজিস আলম সহ ১০ এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের শায়েস্তাগঞ্জে পানিতে ডুবে ২ ভাইয়ের মৃত্যু হুইপ জি কে গউছের প্রচেষ্টায় ঢাকা-সিলেট ৬ লেন মহাসড়ক নির্মাণে দীর্ঘদিনের জটিলতার অবসান ঘটবে নবীগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ সদস্য আহত বানিয়াচং উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন আগামীকাল মাধবপুরে র‌্যাবের অভিযানে ৫০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২ শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নতুন ইউএনও মোঃ আসাদুজ্জামান চুনারুঘাটে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ জেলা ছাত্রদল সভাপতি রিংগনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে ১’শ জনের বিরুদ্ধে এনসিপির মামলা নবীগঞ্জে পথসভা শেষে বিএনপি ও জাসাস নেতার মধ্যে বাকবিতন্ডা ও সংঘর্ষ ॥ আহত ২০

হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন ॥ শালিকা-দুলাভাই’র অনৈতিক কাজ দেখে ফেলায় নবীগঞ্জে ছালেমা হত্যাকান্ড

  • আপডেট টাইম বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২০
  • ৬৮৭ বা পড়া হয়েছে

মোঃ আলমগীর মিয়া/ছনি চৌধুরী, নবীগঞ্জ থেকে ॥ নবীগঞ্জে ছালেমা হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ঘাতক মেয়ে শান্তি ও প্রবাসী মেয়ের জামাতা লম্পট মোগল হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে লোমহর্ষক বর্ননা দিয়েছে। ঘাতক সেজমিন আক্তার শান্তি বেগম ও মোগল মিয়া হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেছে। গতকাল বুধবার দুপুরে হবিগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ঘাতকদের দেয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকান্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মোঃ সেলিম, নবীগঞ্জ থানার ওসি আজিজুর রহমান।
ঘাতকদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা জানান, নবীগঞ্জ উপজেলার করগাও ইউনিয়নের করগাও গ্রামে হিরন মিয়ার বড় মেয়ে জেসমিন বেগমকে একই গ্রামের মোগল মিয়ার নিকট বিয়ে দেয়া হয়। তাদের একটি ইয়াসিন নামে পুত্র সন্তান রয়েছে। প্রায় ৩ বছর আগে মগল মিয়ার স্ত্রী জেসমিন সৌদি আরব চলে যান। এর পর মগল মিয়া শিশু সন্তানসহ শশুরবাড়ি অবস্থান করে। এ সুবাদে শালিকা সেজমিন আক্তার শান্তি বেগমের সাথে মগল মিয়ার অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। এরা প্রায় মেলামেশায় মেতে উঠে। একবার ছালেমা বেগম মেয়ে শান্তি ও জামাতা মোগলকে মেলামেশায় ধরে ফেলেন। এ সময় তাদের কঠিন ভাবে শাসিয়ে দেয়া হয়। সাম্প্রতিক বন্যায় হিরণ মিয়ার বাড়িতে পানি উঠে যায়। এতে মিলন মিয়ার স্ত্রী ছালেমা বেগম, মেয়ে শান্তি বেগম এবং বিদেশ অবস্থানরত মেয়ের সন্তান নিয়ে একই গ্রামে হিরণ মিয়া ভাগ্নে আব্দুর রহমানের বাড়িতে আশ্রয় নেন। আর হিরণ মিয়া ও তার এক ছেলে এবং মেয়ের জামাই মগল মিয়াকে নিয়ে নিজ বাড়িতেই অবস্থান করেন।
এদিকে ঈদের দিন শালিকা শান্তি বেগম ও দুলাভাই মোগল মিয়ার কামভাব জেগে উঠে। রাত ১০ টার দিকে ফোনালাপের মাধ্যমে শালিকা-দুলাভাই রাতে শারিরিক মিলনের সময় নির্ধারণ করে। রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে ছালেমা অন্যান্যদের নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী রাত দেড়টার দিকে শালিকা শান্তিকে ফোন দিয়ে মোগল মিয়া ওই বাড়িতে যায়। শান্তি দরজা খুলে দিলে মগল ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় ছালেমা ছেলে-মেয়ে, নাতী-নাতনী নিয়ে গভীর ঘুুমে আচ্ছন্ন। এ অবস্থায় একই রোমের মেঝেতে দুলাভাই মোগল মিয়া ও শালিকা শান্তি বেগম দৈহিক মিলনে লিপ্ত হয়। এ সময় শব্দ পেয়ে ছালেমা বেগমের ঘুম ভেঙ্গে গেলে তিনি তাদেরকে অবৈধ মেলামেশারত দেখতে পেয়ে চেচামেচি শুরু করেন। তাদের এ কাজের প্রতিবাদ করেন। এতে মেয়ে শান্তি ও লম্পট জামাতা মোগল মুখ চেপে ধরে ছালেমা বেগমের। এরই মাঝে কিছু বুঝে উঠার আগেই মোগল পাশে থাকা বটি দা দিয়ে ছালেমা বেগমের ঘাঢ়, বুক ও গলায় কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে। এ সময় শান্তি ওড়না দিয়ে তার মায়ের মুখ ছেপে ধরে রাখে। এক পর্যায়ে ছালেমা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। মৃত্যু নিশ্চিত হবার পর মোগল শালিকা শান্তিকে বলে আমি চলে যাবার পর চিৎকার করে পাশের বাড়ির রোমান ও নোমান মিয়া এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে প্রকাশ করার পরামর্শ দিয়ে চলে যায়। পরে মোগল মিয়া শ্বশুর বাড়ি গিয়ে রক্তমাকা কাপড় পরিবর্তন করে ঘুমিয়ে পড়ে। আর শান্তি তার রক্তমাখা কাপড় পরিবর্তন করে ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার শুরু করে। এতে আশাপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে পাশের বাড়ির আব্দুল মমিন ওরপে রোমান ও নোমান মিয়া এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে লোকজনকে জানায়। এরা তাদের ঘর থেকে দেড় লাখ টাকাও নিয়ে যায় বলে প্রকাশ করে।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে নবীগঞ্জ-বাহুবল সার্কেলের এসএসপি পারভেজ আলম চৌধুরী, নবীগঞ্জ থানার ওসি আজিজুর রহমানসহ একদল ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এ ঘটনায় মেয়ে শান্তি বেগমের দেয়া বর্ণনা অনুযায়ী পাশের বাড়ির আব্দুল মমিন ওরপে রোমান ও নোমান মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা ২জনকে আসামী করে হিরণ মিয়া বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা অনুযায়ী রোমান ও নোমানকে আটক করা হয়। পরে ওই দিনই মামলার স্বাক্ষী হিসেবে মেয়ের জামাই মোগল মিয়াকে ঘটনার ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মোগল মিয়ার কথাবার্তায় সন্দেহ হয়। তখর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয় শান্তি বেগমকে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে মোগল মিয়া ও শান্তি বেগম হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ঘটনার বর্ণনা দেয়।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com