স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাহুবল উপজেলার সদর ইউনিয়নের হরিতলা এলাকায় রাতের আঁধারে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। বালু উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধে রাত ১১টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুলিশি টহল জোরদারের জন্য হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারকে অনুরোধ করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির আহমেদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ অনুরোধ জানানো হয়। বাহুবল সদর ইউনিয়নের হরিতলা এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে একটি চক্র রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। উত্তোলিত বালু পরিবহনের কাজে সাতকাপন ইউনিয়নের ‘বাহুবল টু মধুপুর চা বাগান ভায়া হামিদনগর’ সড়কটি ব্যবহার করা হচ্ছে। অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার টাস্কফোর্স অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। তবে এসব অভিযান পরিচালনার আগেই গোপন তথ্য পেয়ে যাওয়ায় অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে সরে যাওয়ায় অনেক সময় অভিযান কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে না বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে গত ১১ জুন অনুষ্ঠিত বাহুবল উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে বালু পাচারের রুটগুলোতে রাত ১১টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত পুলিশি টহল জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সিদ্ধান্তের আলোকে পরিবেশ ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষা এবং অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহনের সঙ্গে জড়িত চক্রের কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারকে অনুরোধ জানিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে বালু উত্তোলনের কারণে পরিবেশ ও সরকারি সম্পদের ক্ষতির পাশাপাশি সড়ক দিয়ে অতিরিক্ত বালুবাহী যান চলাচল করছে। নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার হলে অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করছেন তারা।