স্টাফ রিপোর্টার ॥ হবিগঞ্জ শহরের চৌধুরী বাজার নুরুল হেরা জামে মসজিদে (১৬ অক্টোবর শুক্রবার) জুমার খুৎবায় মাওলানা মাসরুরুল হক বলেছেন- কোনো মুসলমান অন্য ধর্মের আচার অনুষ্ঠানে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে না। যার ধর্ম সে তার মতো করে পালন করুক, তাতে বাধা দেয়া যাবে না। তবে দুর্গা পূজায় কোনো মুসলমান অংশ গ্রহণ করতে পারবে না, মন্ডপে মন্ডপে যেতে পারবে না, দেবদেবী বিসর্জনের সময় ঘাটলায় কোনো মুসলমান যেতে পারেব না, আর্থিকভাবে তাদেরকে সহযোগিতা করতে পারবে না, শুভেচ্ছা জানিয়ে পোষ্টার লিফলেট করা যাবে না। দুর্গা পুজায় আগতদের রাস্তাঘাট নির্বিঘ্ন করে দেয়া, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যে কোনো মুসলমান করতে পারবে। ধর্মীয় স্বাধীনতা আমরা রাসুল (সা) এর আদর্শ থেকে পাই। মক্কা বিজয়ের পর রাসুল (সা) ঘোষনা দেন- ভিন্ন ধর্মের মানুষেরা তাদের নিজেদের মতো করে উপাসনা করতে পারবে, তাদের উপাসনলয়ের নিরাপত্তার দায়িত্ব রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে। মাওলানা মাসরুরুল হক বলেন- হযরত আলী (রা) খলিফাতুন মুসলিমিন, রাষ্ট্রের ক্ষমতায়। এমতাবস্থায় তার একটি বর্ম চুরি হয়ে যায়। হযরত আলী (রা) বুঝতে পেরেছিলেন বর্মটি একজন বেদুঈন চুরি করে নিয়ে গেছে। তারপরও তিনি নিজে বিচার করেননি। বিচার দিলেন স্থানীয় কাজী (বিচারকের) কাছে। কাজী সাহেব জানতে চাইলেন- আপনার বর্ম চুরি হওয়ার বিষয়ে আপনার কাছে কী স্বাক্ষী আছে। খলিফাতুন মুসলিমিন হযরত আলী (রা) বললেন-আমার ছেলে ও আমার খাদিম এর স্বাক্ষী। কাজী সাহেব হযরত আলী (রা) এর নালিশটি খারিজ করে দিলেন এই কারনে যে, নিজের পুত্র ও নিজের খাদিম হযরত আলী (রা) এর বর্ম চুরি হওয়ার বিষয়ে নিরপেক্ষ স্বাক্ষী নন। তারা পক্ষপাতিত্ব করতে পারে। হযরত আলী (রা) কাজী সাহেবের সিদ্ধান্ত মেনে নিলেন। বর্ম চুরির সাথে সম্পৃক্ত বেদুঈন বুঝতে পারল, এটা যদি ইসলাম হয়, যে ইসলামে খলিফাতুন মুসলিমিনের একটি নালিশ শুধু নিরপেক্ষ স্বাক্ষীর অভাবে বিচারক খারিজ করে দিতে পারেন, সেই বিচারকের বিরুদ্ধে খলিফা কোনো পদক্ষেপই নিলেন না, তাহলে ইসলামই সেরা ধর্ম। সেই বেদুঈন মুসলমান হয়ে গেলেন, বর্মটিও ফেরত দিলেন। ইসলাম কারো উপর জুলুম করে না, ইনসাফ নিশ্চিত করে। কোনো মুসলিম পরিবারের ডান পাশে যদি একটি হিন্দু পরিবার থাকে, বাম পাশে আরেকটি মুসলিম পরিবার থাকে, তাহলে মধ্যের মুসলিম পরিবারের উচিৎ হবে, তার দুই পাশের হিন্দু ও মুসলিম পরিবারকে সমান দৃষ্টিতে দেখা। সামাজিকতায় কিংবা সুযোগ সুবিধার ক্ষেত্রে যদি মধ্যের মুসলিম পরিবার তার পাশের মুসলিম পরিবারকে প্রাধান্য দেয় তাহলে বুঝতে হবে এখানে ইনসাফ বিঘ্নিত হচ্ছে। আর যারা ইনসাফ কায়েম করতে পারবে না, তাদেরকে জবাবদিহী করতেই হবে। মুসলমান পিতা মাতার উচিৎ তাদের সন্তানদেরকে ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলা। ভিন্ন ধর্ম সম্পর্কে ইনসাফ, অংশগ্রহণ, সহযোগিতা এসবের ব্যবধান বুঝতে সকলের প্রতি আহবান জানান মাওলানা মাসরুরুল হক।