স্টাফ রিপোর্টার ॥ লাখাই উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামে যৌথ পুকুরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে ফুলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে এ সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফুলবাড়িয়া গ্রামের একটি যৌথ পুকুরে পারভেজ মিয়া (২৭), জাল দিয়ে মাছ ধরতে গেলে একই গ্রামের গিয়াস উদ্দিন (৪০) তাঁকে বাধা দেন। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে তাঁরা নিজ নিজ বাড়িতে চলে যান।
পুলিশের তথ্যমতে, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল শনিবার সকালে দুই পক্ষের মধ্যে পুনরায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, দা, ফিকল, টেটা, লাঠি ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। প্রথম পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন বাচ্চু মিয়া (৬০)। অপর পরে নেতৃত্বে ছিলেন ফুল মিয়া (৬৫)।
সংঘর্ষে প্রথম পক্ষের আহতরা হলেন, ফুলবাড়িয়া গ্রামের মৃত তাহের মিয়ার ছেলে বরকত আলী (৩৫), মৃত মুচন মিয়ার ছেলে ইমন (১৮), মারাজ মিয়ার ছেলে নাইম মিয়া (১৯) এবং মৃত ছাবু মিয়ার ছেলে রমজান মিয়া (৩০)।
দ্বিতীয় পক্ষের আহতরা হলেন, ফুলবাড়িয়া গ্রামের মৃত আব্দুল আলীর ছেলে ছালিম উদ্দিন (৬০), নাজিম উদ্দিন (৫৫) ও ফুল মিয়া; মৃত ছফিল মিয়ার ছেলে নাসির মিয়া (৫৫), জমসু মিয়ার ছেলে বায়েজিদ মিয়া (৩৫), ফুল মিয়ার ছেলে গিয়াস উদ্দিন (৪০) এবং জমসু মিয়ার ছেলে সুমন মিয়া (৩২)। আহতদের সবার বাড়ি লাখাই উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামে।
পুলিশের তথ্যমতে, প্রথম পক্ষের বরকত আলী, নাইম মিয়া ও ইমনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অপর পক্ষের ছালিম উদ্দিন, নাজিম উদ্দিন, বায়েজিদ মিয়া ও ফুল মিয়ার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পক্ষের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁদের হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে লাখাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কৃষ্ণ চন্দ্র মিত্র, বিট কর্মকর্তা এসআই মো. মুন্না মিয়া, এসআই প্রণয় কুমার সরকার, এএসআই মো. আব্দুস সালামসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে ওই এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অভিযোগ পাওয়া সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।