মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
মাধবপুরে বোয়ালিয়া খালের উপর ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ॥ আতঙ্কে এলাকাবাসী নবীগঞ্জে অধ্যক্ষ হুমায়ুনকে শোকজ টিউশন ফি নিয়ে টালবাহানা, সরকারি নির্দেশনা অমান্যসহ বিস্তর অভিযোগ হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা রোটারিয়ান ইঞ্জিনিয়ার ফনি ভুষন দাশ আর নেই নবীগঞ্জে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে ড্রেজার মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নবীগঞ্জে বসতঘর থেকে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হবিগঞ্জে অনুষ্ঠিত হলো “গানে গানে জুলাই” শীর্ষক সংগীতানুষ্ঠান বাহুবলে মাছের খামারে মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার ॥ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল নেতা রিংগনকে হুমকিদাতা মানসিকভাবে অসুস্থ-পুলিশ র‌্যাবের অভিযানে অপহরণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার ॥ স্কুলছাত্রী উদ্ধার

নবীগঞ্জে মহাসড়কে ব্রীজের নিচে এখনও এক মহিলা মেম্বারের মানবেতর বসবাস ॥ ভূমি বরাদ্দ হলেও দখল পাননি রহিমা খাতুন

  • আপডেট টাইম রবিবার, ২৭ আগস্ট, ২০১৭
  • ৬৭৬ বা পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রীজের নিচে বসবাসকারী ভূমিহীন মহিলা মেম্বার রহিমা খাতুন সরকারের পক্ষ থেকে মাথা গোজার ঠাই পেলেও দখল এখনো সমজিয়ে দেয়া হচ্ছে না।
মহিলা মেম্বার রহিমা খাতুন বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে শুধু নামেই মাথা গোজার জায়গা পেলেন। কিন্তু আজও ওই জায়গা বুঝে পেলেননা। রহিমা খাতুন আক্ষেপ করে বলেন, দৈনিক এক্সপ্রেস পত্রিকায় খবর প্রচার হওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজিনা সারোয়ার স্যার আমার খোঁজ খবর নেন এবং আমাকে সরকার পক্ষ থেকে কয়েক শতক ভূমি দেওয়া হবে বলে জানান। কয়েক দিন পর আবারো স্যারের (নির্বাহী কর্মকর্তা) কাছ থেকে জানতে পারি সরকারের পক্ষ থেকে আমাকে (আমার স্বামীর নামে) ১২ শতক ভূমি রেজিষ্টারী করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ওই খবর শুনার পর থেকে অনেক দিন নবীগঞ্জ সাবরেজিষ্টার অফিসে যোগাযোগ করেও ভূমির কোন কাগজ পত্র পেলাম না।
এদিকে, রহিমা মেম্বারের স্বামী মকদুছ মিয়া গত দু’মাস পূর্বে অসুস্থ হয়ে মারা যান। স্বামীর মৃত্যুতে জীবন যুদ্ধে পরাজিত রহিমা খাতুন ভেঙ্গে পড়েছেন। রহিমা খাতুন দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, পুলের তলে (ব্রীজের নিজে) পানির উপরেই ভাসতে ভাসতে অসুস্থ স্বামীর মৃত্যু হলো। তিনির (স্বামীর) বড় স্বপন ছিল সরকরের কাছ থেকে পাওয়া ওই ভূমিতে একটি ঘর করে কয়টা দিন শান্তিতে ঘুমাবেন! কিন্তু সে ম্বপ্ন আর পুরন হলো না। পলের তলেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ হলো। রহিমা খাতুন আরো জানান, তাকে যে ভূমি দেওয়া হয়েছে ওই ভূমির পার্শ্ববর্তী একটি বাড়ির মালিক জায়গাটি তাদের বলে বাধা প্রদান করছে। আর এতেই থমতে পড়েছে ভূমি বুঝে পাওয়ার কাজ।
উল্লেখ্য, নবীগঞ্জের আউশকান্দি ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামের মৃত মকদুছ মিয়ার স্ত্রী। রহিমা খাতুনের দুই ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলে মেয়ে বড় হওয়ার আগেই বিভিন্ন রোগে অসুস্থ হয়ে পড়েন তার স্বামী। তিনিই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। অসুস্থ স্বামী ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়ে নিয়ে বেঁচে থাকার তাগিদে দিশেহারা রহিমা অসীম সাহস আর দৃঢ়প্রত্যয়ে নেমে পড়েন ঘটকের কাজে। মাসে দু-একটা বিয়ে সাজিয়ে চলত তার চার সদস্যের সংসার। দু-এক বেলা পান্তাভাত জুটলেও জুটেনি মাথা গোঁজার জায়গা। রহিমা খাতুনের স্বামীর বাড়িঘর না থাকায় মহাসড়কের ব্রিজের নিচে বসবাস করে আসছেন ১২ বছর ধরে! দিন রাত হাজার হাজার যানবাহন চলাচলা করছে রহিমা ও তার পরিবারের মাথার ওপর দিয়ে। ১২ বছর ধরে ব্রিজের নিচেই বসবাস করে আসছিলেন। এর মধ্যে বয়স থেকেই সংসারের দায়িত্ব কাঁধে আসতেই নেমে পড়ি জীবনযুদ্ধে, স্বামী-সন্তানসহ। শুরু থেকেই কোনো উপায় না পেয়ে নেমে পড়েন ঘটকালিতে। এ থেকে দেখা সাক্ষাৎ হতো এলাকার শিক্ষিত মহিলাদের সাথে। গ্রাম এলাকার লোকজনের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ আর বিভিন্ন গ্রামের মহিলা ও পুরুষের অনুপ্রেরণায় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। নির্বাচনে বিজয়ীও হন। আউশকান্দি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচনে বিজয়ী হলেও জীবনযুদ্ধে আজো পরাজিত রহিমা। রহিমা খাতুনের ভূমি পাওয়ার বিষয়ে, দৈনিক হবিগঞ্জের জনতার এক্সপ্রেস পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার কিবরিয়া চৌধুরী গত ১২ মার্চ “নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাজিনা সারোয়ার সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলেন, তিনি তখন জানিয়েছিলেন, বিষয়টি আগে কেউ জানায়নি। এক্সপ্রেস পত্রিকায় দেখে বিষয়টির খোঁজ খবর নিয়ে রহিমা বেগমকে পুনর্বাসন করার উদ্যোগ নেয়া হয়। অতঃপর তাকে ১২ শতক খাস জমি বরাদ্দ দিয়েছি এবং এই ১২ শতক ভূমি খুব শীঘ্রই রহিমা খাতুনকে আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে দেয়া হবে বলে জানান তিনি।
এব্যাপারে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাজিনা সারোয়ার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, রহিমা খাতুনকে দেয়া জমি উপর ২/১ টা অভিযোগ এসেছে এবং ওই এলাকার নতুন ভলিয়ম বই আমাদের কাছে এখনও আসেনি। এবং সব বিষয় নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করেছি। তিনি বলেন, আশা করি ঈদের পর পরই রহিমা খাতুনকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভূমি বুঝিয়ে দেয়া হবে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com