শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
হবিগঞ্জে নাছির উদ্দিন পাটোয়ারী ও সারজিস আলম সহ ১০ এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের শায়েস্তাগঞ্জে পানিতে ডুবে ২ ভাইয়ের মৃত্যু হুইপ জি কে গউছের প্রচেষ্টায় ঢাকা-সিলেট ৬ লেন মহাসড়ক নির্মাণে দীর্ঘদিনের জটিলতার অবসান ঘটবে নবীগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ সদস্য আহত বানিয়াচং উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন আগামীকাল মাধবপুরে র‌্যাবের অভিযানে ৫০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২ শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নতুন ইউএনও মোঃ আসাদুজ্জামান চুনারুঘাটে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ জেলা ছাত্রদল সভাপতি রিংগনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে ১’শ জনের বিরুদ্ধে এনসিপির মামলা নবীগঞ্জে পথসভা শেষে বিএনপি ও জাসাস নেতার মধ্যে বাকবিতন্ডা ও সংঘর্ষ ॥ আহত ২০

বৃষ্টির সাথে বিদ্যুতের অসম প্রেম! ভোগান্তিতে হবিগঞ্জ জেলাবাসী

  • আপডেট টাইম রবিবার, ১২ মার্চ, ২০১৭
  • ৫৭৮ বা পড়া হয়েছে

পাবেল খান চৌধুরী ॥ শহর কিংবা গ্রাম নয় জেলার যে কোন প্রান্তে সামান্য বৃষ্টি বা হালকা বাতাস বয়ে গেলেই পাল্টে যায় শহরসহ বিভিন্ন উপজেলার চিত্র। পুরো জেলাই যেন অন্ধকারের ভূতুরে গলিতে পরিনত হয়ে উঠে। সামান্য বৃষ্টি হলেই বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যুৎ সরবরাহ। এ যেন বৃষ্টির সাথে বিদ্যুতের অসম এক প্রেম কাহিনী। বিদ্যুৎ আর বৃষ্টির অসম প্রেমের ফলে প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তিতে পরতে হয় হবিগঞ্জ শহরসহ জেলাবাসীকে। একদিকে বৃষ্টির ফোটা মাটিতে পড়া শুরু হয় আর অন্যদিকে জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হওয়াও শুরু হয়। এভাবে বৃষ্টির ফোঁটা মাটিতে পড়ার সাথে সাথেই বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার ঘটনাটি হবিগঞ্জে যেন চিরাচড়িত নিয়মে পরিনত হয়েছে। ঘন্টার ঘন্টা শহরবাসী বিদ্যুৎ বিহীন থাকলেও এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ থাকে একেবারেই উদাসিন। ফোন করলে কেউ রিসিভ করে না। কর্তৃপক্ষের মোবাইলে ফোন করলেও একই অবস্থা। সুভাগ্যক্রমে হবিগঞ্জ আবাসিক বিদ্যুৎ সরবারাহ কেন্দ্রে দায়িত্বরত লোক পাওয়া গেলেও তার নিকট থেকে পাওয়া যায় একটি মূখস্থ বক্তব্য “শাহজীবাজার ৩৩ কেবি বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রে সমস্যা দেখা দিয়েছে” অথবা “৩৩ কেবি লাইনে সমস্যা, খোজতে লোকজন গেছে, লাইন চেক করা হচ্ছে, আমাদের লোকজন কাজ করছেন, চেষ্টা চলছে”। কখন বিদ্যুৎ আসবে এর জবাব দিতে পারেন না তারা। আবাসিক প্রকৌশলীর ব্যবহৃত সরকারী মোবাইলটিতে বার বার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেন না। তারও তাকে অন্তহীন অযুহাত।
অনেকেই বলেন, মানুষের দুই হাত থাকলেও হবিগঞ্জ বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের হাত রয়েছে তিনটি। যেমন ডান হাত-বাম হাত আর হবিগঞ্জ বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রে তৃতীয় হাতটি হল অযুহাত। কিছু হলেই শাহজীবাজারের মেইন লাইনে সমস্যার কথা বলে উড়িয়ে দেন মানুষজনকে। কিন্তু বাস্তবে এ চিত্রটি একটি ভিন্ন। তারা শাহজীবাজারে সমস্যার কথা বলা সাথে সাথে শাহজীবাজারে ফোন করে জানা যায় ভিন্ন খবর। সেখান থেকে জানানো হয় শাহজীবাজারে কান সমস্যা নেই। তাহলে সমস্যাটা কোথায় ?
এবারে মৌসুমের প্রথম গত ৫ মার্চ দুপুরে থেমে থেমে প্রায় এক ঘন্টার মতো বৃষ্টি হয় জেলার বিভিন্ন স্থানে। ওই দিন সন্ধ্যায় আবারো প্রায় আধ ঘন্টার মতো দ্বিতীয় বার বৃষ্টি হয়। অনেকদিন পর কাঙ্খিত বৃষ্টির দেখা পাওয়ায় শহরবাসীর মাঝে আনন্দের সীমা ছিলনা। হালকা গরম এর পর রিমঝিম বৃষ্টির এমন ছন্দ কার না ভালো লাগে ? কয়েক দিনের হালকা গরমে জেলাবাসী যখন অতিষ্ট তখনই মেঘের কোল থেকে ধরায় নেমে আসে বৃষ্টি। কাঙ্খিত বৃষ্টির দেখা পেয়ে ভিজে ভিজে উল্লাস করেন এলাকার যুবক সহ সাধারন লোক। কেউবা প্রিয় জনদের নিয়ে মোটরসাইকেল দিয়ে ভিজে আনন্দ উল্লাস করেন। কৃষকরা জমিতে বৃষ্টির পানি পড়ায় আল্লাহ কাছে সন্তোষ প্রকাশ করেন। সেই সঙ্গে নাগরিক জীবনে ফিরে আসে একরাশ স্বস্তির নিঃশ্বাস। তবে মৌসুমের প্রথম বৃষ্টিতে জেলাবাসী স্বস্থিতে থাকলেও অস্বস্থির কারন হয়ে দাড়ায় বিদ্যুৎ। কোন প্রকার ঝড়-তুফান বা ভারী বর্ষণ না হলেও ঘন্টার পর ঘন্টা জেলার বিভিন্ন স্থান ছিল বিদু্যুৎ বিহীন। বিরাজ করছিল ভূতূরে পরিবেশ।
মৌসুমের প্রথম বৃষ্টির ফলে শহরবাসী সহ জেলার কৃষকের মূখে আনন্দ হাসি শোভা পায়। কিন্তু মহুর্তের মধ্যেই আবারো সেই হাসি-আনন্দ ম্লান করে দেয় হবিগঞ্জ বিদ্যুৎ বিভাগ।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com