সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
অর্থের অভাবে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরছে না দুলনের মরদেহ হবিগঞ্জে এনসিপির দায়েরকৃত মামলায় ছাত্রদলের নেতাদের জামিন লাভ হবিগঞ্জে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাসহ ৯ জনকে আসামী করে ছাত্রদল নেতার মামলা রুজু বাহুবলে শ্যামলী বাসের সাথে সিএনজির সংঘর্ষে নিহত ১ হবিগঞ্জ আদালতে কোর্ট ফি সংকট ॥ ভোগান্তি সুরমা চা বাগানে ৫০ বছরের পুরোনো সেতুতে ভোগান্তি শহরে ভাঙ্গারী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সাড়াশি অভিযান ॥ আটক ১ শায়েস্তাগঞ্জে গরুবাহী পিকআপে ডাকাতি র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ১ বাহুবলে দ্বৈত হত্যা মামলার আরও ১ আসামি নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার চুনারুঘাটে র‌্যাবের অভিযানে ৫২ কেজি গাঁজাসহ আটক ২

নবীগঞ্জে প্রেমিক শিক্ষকের বাড়িতে ছাত্রীর অনশন ॥ অতঃপর বিয়ে

  • আপডেট টাইম বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০১৫
  • ৬০২ বা পড়া হয়েছে

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ নবীগঞ্জে মাদ্রাসার এক শিক্ষকের সাথে ছাত্রীর প্রেম এবং বিয়ের দাবীতে শিক্ষকের বাড়িতে ছাত্রীর অনশন অতঃপর বিয়ের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের পাঞ্জারাই গ্রামের জি.কে.আই দাখিল মাদ্রাসায়। এ ঘটনায় গতকাল রবিবার সকালে ৩ গ্রামের লোকজন প্রতিবাদ সভা করেছেন। উক্ত সভা থেকে শিক্ষককে ৩ দিনের মধ্যে স্বেচ্ছায় মাদ্রাসা থেকে চাকুরি ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যতায় বরখাস্থ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
সূত্রে জানা যায়, পাঞ্জারাই গ্রামের রফিক মিয়ার বাড়ি থেকে ছোট বেলা থেকেই লেখাপড়া করে আসছিল তার ভাগ্নি গুতগাঁও গ্রামের সেবলু মিয়ার কন্যা সুমি বেগম। পাঞ্জারাই গ্রামের জি.কে.আই দাখিল মাদ্রাসায় প্রথম শ্রেণী থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত লেখা পড়া করে। সেই সুবাদে মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের ইমামবাঐ গ্রামের সাইদুল হকের সাথে পরিচয় অতঃপর ধীরে ধীরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে সুমি বেগমের। ২০১২ সালে প্রাথমিক সমাপনী পরীকষায় উত্তীর্ণ হয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে উঠে লেখাপড়া বাদ দেয় সুমি। কিন্তু সুমি মাদ্রাসায় না আসলেও শিক্ষকের নজর রয়ে যায় সুমির দিকে। বহাল থাকে তাদের প্রেমের সম্পর্ক। বাড়তে থাকে শিক্ষক ও ছাত্রীর প্রেমের বয়স। এর মধ্যে উক্ত শিক্ষক প্রেমিকা সুমিকে বাদ দিয়ে অন্যত্র বিয়ে প্রস্তুতির খবর পেয়ে গত ৫ সেপ্টেম্বর সুমি বেগম বিয়ের দাবীতে অনশন করে শিক্ষক সাইদুল হকের নিজ বাড়িতে। তার আত্মীয় স্বজন গিয়েও তাকে ফিরিয়ে আনতে চান। কিন্তু সে আসতে না চাইলে এক পর্যায়ে গ্রামের মুরুব্বিদের সাথে কথা বলে তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ফিরিয়ে আনা হয়। শেষে এর পরের দিন ৬ সেপ্টেম্বর রবিবার তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্ঠি হয়। বিভিন্ন মহলে চলে নানা রসালো আলোচনা। শিক্ষক ও ছাত্রীর এ ঘটনায় ফুসে উঠেছে এলাকাবাসী। গতকাল রবিবার সকাল ১০টায় উক্ত মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে ৩ গ্রামের বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি মফিজ উদ্দিন।
প্রতিবাদ সভায় সকলের মতের প্রেক্ষিতে শিক্ষক সাইদুল হককে ৩ দিনের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। ৩দিনের মধ্যে মাদ্রাসা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।
উক্ত প্রতিবাদ সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- গুমগুমিয়া গ্রামের মেম্বার দিলাওর মিয়া, পাঞ্জারাই গ্রামের মেম্বার মনর মিয়া, সাবেক মেম্বার সিরাজুল ইসলাম, সজ্জাত মিয়া, ফুরুক তালুকদার, অলিউর রহমান, মুজিবুর রহমান, আনছার মিয়া প্রমুখ।
ঘটনাটির সত্যতা শিকার করে উক্ত মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল এবিএম মখলিছুর রহমান বলেন-ম্যানেজিং কমিটি ও এলাকাবাসী উক্ত শিক্ষককে অপসারনের দাবী জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের প্রস্তুতি চলছে।
এ ব্যাপারে শিক্ষক সাইদুল হকের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com