বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র‌্যালী পূর্ব সমাবেশে হুইপ জি কে গউছ দেশের গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে বিএনপি ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন দেশ গড়ার প্রত্যয়-সৈয়দ ফয়সল এমপি নজরুল বর্ষ উপলক্ষে নবীগঞ্জে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা উদ্বোধন হবিগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হলেন জিয়াউল আহসান সদস্য সচিব হুমায়ূন কবির গ্রাহক সেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংকের যাত্রা শুরু নবীগঞ্জে সাবেক মহিলা কমিশনার ও তার ছেলের বিরুদ্ধে রাস্তা দখলের অভিযোগ নিষিদ্ধ মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে যুবলীগ নেতা শাহ্ এমরান গ্রেফতার চুনারুঘাটে প্রবাসীর ড্রাগন বাগানের ফুল ও ফল পচে মরে যাচ্ছে মহাসড়কের নসরতপুরে ট্রাক চাপায় আহত নারীকে উদ্ধার করলো দমকল বাহিনী

মৌলভীবাজারের গহিন অরণ্যে থেকে ওসি নির্মলেন্দুর হাতে যেভাবে বন্দি হল বানিয়াচঙ্গের রাজাকার রাজ্জাক (শেষ অংশ)

  • আপডেট টাইম শুক্রবার, ২২ মে, ২০১৫
  • ৭৩৮ বা পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মানবতা বিরোধী অপরাধ মামলার গ্রেফতারী পরোয়ানা প্রাপ্ত পলাতক আসামী বানিয়াচঙ্গ উপজেলার কাগাউড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বড় মিয়া ও বতৃমান চেয়ারম্যান আঙ্গুর মিয়ার চাচাতো ভাই রাজাকার রাজ্জাক এর বিরুদ্ধে গত ১৭ মে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আদালত। তাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়া হয় পুলিশকে। কিন্তু গ্রেফতারী পরোয়ানা জারীর খবর প্রকাশের সাথে সাথে আত্মগোপন করে রাজাকার রাজ্জাক। এদিকে তাকে গ্রেফতারে বানিয়াচঙ্গ থানা পুলিশ মাঠে নামে। বানিয়াচঙ্গ থানার চৌকস ওসি নির্মলেন্দু চক্রবর্তী রাজ্জাককে গ্রেফতারে জাল বিস্তার করেন জেলার সর্বত্র। দেশ থেকে যাতে পালাতে না পারে সে জন্য লোক নিয়োগ করেন হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার সীমান্ত এলাকায়। আর ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই ওসি নির্মলেন্দু চক্রবর্তীর জ্বালে আটকা পড়ে রাজাকার রাজ্জাক। নিম্নে রাজাকার রাজ্জাককে গ্রেফতারের বর্ণনার শেষ অংশ দেয়া হলো।
(গতকাল বৃহস্পতিবারের পর) রাজ্জাকের স্বীকারোক্তিই তখন বলে দেয়, যে ’৭১ এ তার অবস্থান কেমন ছিলো। পাহাড়ের ঝোপঝাড়ে আড়াল করা পুলিশের গাড়ীটি ইতিমধ্যে ফোন করে আরো ভিতরে আনা হল। তখনও রাজ্জাক বুঝতে পারে নি আসলেই সে বিবাদী। রাজ্জাক তখন একজন পুলিশ সদস্যকে বলে- তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হবে ? থানায়, তখন উত্তরে পুলিশ সদস্য জানান। তখন রাজ্জাক আরো বিচলিত হয়। তখন মাথায় টুপি এত ভোর সকালে ও গলায় মাফলার জড়ানো খোঁচা খোঁচা দাড়ি ওয়ালা অহিদ (ছদ্দনাম) বলে “আর কিছুক্ষণ পর হলে তো আর পাওয়া যেত না। সীমান্তের দিকে চলে যেতেন। কথা বার্তা বলতে বলতে কিছু হেটে গাড়ীর কাছে আনা হল রাজ্জাককে। যারা রাজাকার রাজ্জাককে সহযোগীতা করার জন্য পুলিশের পিছু নিয়ে ছিল তারা আস্তে আস্তে সরে গেল। পুলিশকে এ বিপদে জনৈক মেম্বার সহ আরো কজন সাহায্য করেন। রাজ্জাককে পুলিশের ভ্যানে উঠানো হল। তখনও বুঝতে পারেনি পুলিশ সদস্যরা যে রাজ্জাককে যাহারা পলায়নোর জন্য সাহায্য করেছিল তারা বিষয়টি তখনও তৎপর। কিন্তু ওসি নির্মল চক্রবর্তী সঠিকই বুঝে ছিলেন যে সেখানে দাড়িয়ে থাকলে অসুবিধা সুষ্টি হতে পারে। কিন্তু জনৈক সাহায্যকারী চা-নাস্তা খাওয়ার জন্য বার বার অনুরোধ করেন। একটি ছোট্ট চা দোকান খুলে ১টি ছোট চেয়ার ও ব্রেঞ্চ বের করে বসতে দেন। ওসি সাহেব বসে পানি দিয়ে মুখে ঝাপটি দেন। চা তৈরী হচ্ছে। এমন সময় যে চিন্তা সেই কাজ সোর্স বলল, যারা রাজ্জাককে পালাতে সাহায্যে করছে ওদের কানে সংবাদ পৌছে গেছে। এরা একত্রিত হয়ে আতানগিরি দিয়েই আসছে। পূর্বের ধারনা সঠিক হয়ে যাচ্ছে ভেবে ওসি আর চা-নাস্তার অপেক্ষা না করেই গাড়ীতে উঠেন এবং অত্যন্ত দক্ষ ও সাহসী মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার এএসআই শাহীন ও সোর্সকে ধন্যবাদ দেন। সাথে যাহারা সাহায্য করে ছিল তাদেরকেও ধন্যবাদ জানান। গাড়ীতে উঠে হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়ে কিছুদুর আগাতেই পাহাড়ি সরু পথের মাঝখানে ১টি ছোট ট্রাক দাড়ানো। ওসি সাহেব তাৎক্ষনিক ড্রাইভারকে বললেন- কোন চিন্তা না করে যে পাশে জায়গা আছে সে পাশে হঠাৎ টান দিয়ে বের হয়ে যাওয়াই উত্তম। পুলিশের চতুর গাড়ি চালক ওসি সাহেবের বক্তব্য বুঝতে পেরে ট্রাকের কাছ ঘেষে টান দিয়ে সাইড দিয়ে কোন রকম গাড়ী বের করে আনেন। সুরু রাস্তা দিয়ে আর কোন বাধা আছে কি-না এমন চিন্তা করতে করতে অগ্রসর হন। ওসি নির্মলেন্দু জানান, রাস্তা যাওয়ার সময় তেমন সময় অনুভূত হয় নি। কিন্তু সে রাস্তাই যেন আর শেষ হয় না। অত্যন্ত কম সংখ্যক ফোর্স নিয়ে যখন ঢাকা-সিলেট হাইওয়ে উঠা মাত্র ওসি নিমলেন্দু চক্রবর্তী সহ সকল অফিসার ও ফোর্সের মুখে আনন্দের হাঁসি ফুটে উঠে। ওসি সাহেব ড্রাইভারকে ধন্যবাদ দেন তাৎক্ষনিক তাহার কথা বুঝতে পারায়। হাইওয়ে রোডের টোলপ্লাজার কাছে এসে নাস্তা করার জন্য গাড়ী থামানো হল। ইতমধ্যে বিষয়টি পুলিশ সুপার মহোদয়কে জানান। তিনিও ধন্যবাদ জানান। একই সাথে তখন মিডিয়া কর্মীরা ফোন করতে থাকেন। সরকারী ও পারসোনাল ফোন একত্রে বাজতে থাকায় ওসি সাহেব তখন অনেকেরই প্রশ্নের জবাব দেন। তখন তিনি মিডিয়া ও কর্মীদের জানান, তিনি থানায় দুপুর অনুমান ১টার দিকে মিডিয়া কর্মীদের সামনে হাজির করবেন রাজাকার রাজ্জাককে। এই লোমহর্ষক অভিযানে যাহারা সাহায্য করেছেন তাদেরকে তিনি ধন্যবাদ জানান। বিশেষ করে তার সহকারী এসআই শাহজাহান, এসআই হাসানুজ্জামান, মৌলভী বাজারের এএসআই শাহীন সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানান। তাকে অভিযানে সাহস দেয়ার জন্য পুলিশ সুপার জয়দেব কুমার ভদ্র ও জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সহীদুল ইসলামের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিশেষ অভিযানে সকল ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া আন্তরিকতার সাথে সহযোগীতা করায় তাদেরকেও ধন্যবাদ জানান। বানিয়াচঙ্গ থানার সফল ওসি নির্মলেন্দু চক্রবর্তী ভবিষ্যতে পুলিশের সকল ভাল কাজে সকলের সহযোগীতা কামনা করেন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com