স্টাফ রিপোর্টার ॥ হবিগঞ্জ শহরে কালিগাছতলা এলাকায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধার জায়গা দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য হুইপ জিকে গউছ, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নিকট লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। গত ২২ জুলাই বীর মুক্তিযোদ্ধা অনিল কুমার চৌধুরী এই লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন।
এছাড়াও আবেদনপত্রটি হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ সাখাওয়াত হাসান জীবন, জেলা পরিষদ প্রশাসক আহমেদ আলী মুকিব, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদকে দেয়া হয়েছে।
এদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অনিল কুমার চৌধুরীর রেকর্ডীয় ভূমি দখল ও প্রাণনাশের হুমকীর প্রতিকার চেয়েছেন সংখ্যালঘু এ সিনিয়র সিটিজেন। বিষয়টি চাউর হলে মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক সমাজ ও সংখ্যালঘুদের মাঝে আতঙ্ক ও মারাত্নক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। হবিগঞ্জের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন, মানববন্ধনসহ দখল বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও সংখ্যালঘুদের জীবন সম্পদ রক্ষার দাবীতে স্মারকলিপি প্রদানের আয়োজন চলছে।
লিখিত অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা অনিল কুমার চৌধুরী উল্লেখ করেন, পেনশনের টাকা দিয়ে বিগত ২১ সালের ২২ মার্চ ১৯৮৯নং দলিল মূলে সাড়ে ৩ শতক ভূমি সুলতান মামদপুর মৌজার কালিগাছতলা এলাকায় ক্রয় এবং নাম খারিজ খাজনা পরিশোধ করে দকলে রয়েছেন। একই সময় একই খতিয়ানের অন্যান্য ক্রেতারা দালান কোঠা নির্মাণ করে শান্তিপূর্ণ বসবাস করছে। তিনি অর্থাভাবে শুধু বৃক্ষরোপন করে পিলার দিয়ে বেরিয়ে রেখেছেন।
সম্প্রতি রাতের আধারে বিএনপি নেতা আব্দুল হান্নান ফরিদ, তোফাজ্জুল খান, সিরাজ মিয়া গংরা বীর মুক্তিযোদ্ধা অনিল কুমার চৌধুরীর ভূমিটি দখল করে ছাপটা ঘর নির্মাণ করেছেন। খবর পেয়ে মুক্তিযোদ্ধার পুত্র আশুতোষ তার ভূমিতে গিয়ে ছাপটায় কয়েকজনকে দেখতে পান। তারা তাকে প্রবেশ করতে নিষেধ করে। তারা তাকে বিএনপি নেতা ফরিদ এর সঙ্গে দেখা করতে বলে। ফরিদ এর সঙ্গে দেখা করলে তিনি বলেন, ভূমিটি বাস্তবে আমার আত্মীয় লেবুর।
আবেদনে তিনি আরও উল্লেখ করেন, শহরের বহু সমাজপতির দ্বারস্থ হয়ে সুফল না পেয়ে প্রতিকারের প্রত্যাশায় সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। এ ব্যাপারে মোবাইলে আব্দুল হান্নান ফরিদের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ভূমিটি তার আত্মীয় লেবুর ও ভূমির বিষয়ে যেকোন আলোচনার জন্য তিনি ক্ষমতাপ্রাপ্ত।
বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি স্বরাজ বিশ^াস, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষক এর রেকর্ডীয় ভূমি দখলের নিন্দা প্রকাশ করে জানান, জাতীয় কমিটি স্মারকলিপি প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে সময় চাওয়া হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি কঠোর কর্মসূচী ঘোষণার পূর্বে স্মারকলিপি প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সিনিয়র সিটিজেন শিক্ষক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অনিল চৌধুরীর রেকর্ডীয় ভূমিটি দখল বানিজ্যে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ পূর্বক দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবীতে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেবে বলে জেলা কমান্ড সূত্রে প্রকাশ।