স্টাফ রিপোর্টার ॥ শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার ৩ কর্মচারীর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, দাপ্তরিক কাজে বাঁধা সৃষ্টি এবং পৌর নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শায়েস্তাগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নুরুল আমিন।
অভিযোগে উল্লেখ করেন, তিনি শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার অধীনে কর্মরত কার্যসহকারী মো. নুরুল ইসলাম (৫০), অফিস সহায়ক মো. জহিরুল ইসলাম ও অফিস সহায়ক মো. মুকিত আলীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার বিভিন্ন যানবাহনের তেল, ভুয়া মেরামত বিল এবং অন্যান্য খাতে অনিয়ম ও আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এসব বিল যাচাই-বাছাইয়ের সময় অসঙ্গতি ধরা পড়লে তারা বিল পরিশোধের জন্য চাপ সৃষ্টি করতেন। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও তারা অফিসের শৃঙ্খলা পরিপন্থী আচরণ এবং উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আসছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা দাবি করেন, এসব অনিয়ম প্রতিরোধের ফলে পৌরসভার রাজস্ব আয় পূর্বের তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দীর্ঘদিনের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করে বর্তমানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় পৌরবাসীরাও সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ৫ আগস্ট ২০২৪ সালের পর থেকে অভিযুক্তরা তার প্রতি আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। অন্যায় সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় তারা তাকে সামাজিক ও মানসিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার বিভিন্ন অপচেষ্টা চালান। এরই ধারাবাহিকতায় ১২ মার্চ ২০১৮ সালে পৌরসভা কার্যালয় সংলগ্ন বিএডিসি ভবনের নিচতলায় অবস্থিত তার বাসভবনে নিরাপত্তাকর্মীদের বাধা উপেক্ষা করে একজন নারীকে পাঠিয়ে তাকে বিব্রত করার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনার বিষয়ে পৌর এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, সাংবাদিক এবং পৌরসভার সংশ্লিষ্টরা অবগত রয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, সর্বশেষ ১৯ অক্টোবর ২০২০ সকাল প্রায় ১১টার দিকে শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভা কার্যালয়ের করিডোরে পূর্ব বিরোধের জের ধরে অভিযুক্তরা তাকে প্রকাশ্যে হুমকি দেন। তারা প্রতি মাসে পৌরসভা থেকে ২ লাখ টাকার বিল তাদের অনুকূলে ছাড় না দিলে তাকে পৌরসভা কার্যালয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না এবং সুযোগ পেলে হাত-পা ভেঙে প্রাণে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেন।
এ ঘটনায় তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথা উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিভিন্ন সময়ে মৌখিক ও লিখিতভাবে অবহিত করেছেন এবং অন্যত্র বদলির আবেদনও করেছেন বলে অভিযোগে জানান। এছাড়া হুমকির কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে গোপনে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করে আসছেন বলেও উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি শায়েস্তাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।