স্টাফ রিপোর্টার ॥ শিশুদের দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষা, প্রাথমিক পর্যায়ে চোখের সমস্যা শনাক্তকরণ এবং মানসম্মত চক্ষু সেবার সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঊহযধহপব ছঁধষরঃু ধহফ ওহপষঁংরাব চৎরসধৎু ঊফঁপধঃরড়হ (ঊছটওচ) চৎড়লবপঃ-এর উদ্যোগে আয়োজিত ঝবৎরবং ঊুব ঈধসঢ়, ১৫ জুলাই থেকে ২১ জুলাই ২০২৬ বাহুবলের হাওর ও চা-বাগানের ৯টি বিদ্যালয়ে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রচেষ্টা (চৎড়পযবংঃধ) কর্তৃক বাস্তবায়িত এবং ঈযরষফ অরফ ঘবঃড়িৎশ-এর সহযোগিতায় পরিচালিত এই কার্যক্রমে কারিগরি সহায়তা প্রদান করেছে মৌলভীবাজার চক্ষু হাসপাতাল (ইঘঝখ)। পুরো কার্যক্রমে প্রায় ৫৯৬ জন বালক এবং ৪১৩ জন বালিকা মোট ১০০৯ জন শিক্ষার্থী বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা, বিশেষজ্ঞ পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নির্দেশনা গ্রহণের সুযোগ পায়। যেসব শিক্ষার্থীর উন্নত চিকিৎসা বা চশমার প্রয়োজন শনাক্ত হয়েছে, তাদের পরবর্তী চিকিৎসা সেবার জন্য প্রয়োজনীয় রেফারেল প্রদান করা হয়েছে। এবং বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীদের কডলিভার ওয়েল ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। আই ক্যাম্প সিরিজের উদ্বোধনী কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয় হাওর এলাকার পশ্চিম স্নানঘাট প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং চা বাগান এলাকার রামপুর চা বাগান প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তন্ময় দেব, ডিভিশনাল ডাক্তার, ফিনলে টি রশিদপুর ডিভিশন, দেলোয়ার হোসেন, টি গার্ডেন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং উম্মে ইয়াসমিন, মিডওয়াইফ। তাঁদের আন্তরিক সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। পরবর্তীতে এই আই ক্যাম্প সিরিজের আওতায় খাগাউড়া কমিউনিটি শিক্ষণ স্কুল এবং খাগাউড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়স, ফয়জাবাদ, রালুছড়া, শীতলাছড়া, রশিদপুর,বৃন্দাবন চা বাগান প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধারাবাহিকভাবে চক্ষু পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ক্যাম্প চলাকালীন সময় ক্যাম্পগুলো পরিদর্শন করেন মো. আশিক ইকবাল, প্রোগ্রাম ম্যানেজার, ইকুইপ প্রজেক্ট এবং মোহাম্মদ আলী, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, বাহুবল, রশিদপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য বাবুল শুক্লবৈদ্য, রশিদপুর চা বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক সাজ্জাদুল ইসলাম। পরিদর্শনকালে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, ডিভিশনাল ডাক্তার, স্থানীয় ইপি সদস্য চক্ষু পরীক্ষা কার্যক্রম পর্যবেক্ষন ও ক্যাম্পের সার্বিক কায্যক্রম পরিদর্শন করেন। ইকুইপ প্রকল্পের এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দৃষ্টিজনিত সমস্যা প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ, সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণে উৎসাহ প্রদান এবং চোখের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে বলে তারা মত প্রকাশ করেন। সুস্থ দৃষ্টিশক্তি নিশ্চিত হলে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে অংশগ্রহণ, শেখার আগ্রহ এবং শিক্ষাগত ফলাফল আরও উন্নত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন। সেই সাথে প্রকল্পের এই রকম কাজে তাদের সহযোগীতা প্রদানের আশ্বাস প্রদান করেন প্রচেষ্টা ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানসমূহ ভবিষ্যতেও চা বাগান ও হাওর অঞ্চলের শিশুদের জন্য মানসম্মত, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।