স্টাফ রিপোর্টার ॥ শায়েস্তাগঞ্জ পৌর শহরে সড়ক ও ফুটপাথ দখল করে আবারও গড়ে উঠেছে অবৈধ ভ্রাম্যমাণ দোকান ও কাঁচা বাজার। কিছুদিন আগে জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার যৌথ সাঁড়াশি অভিযানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও কয়েক দিনের ব্যবধানে আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো। রাস্তার ওপর ফলের দোকান, কাঁচা বাজার ও বিভিন্ন ভ্রাম্যমাণ ব্যবসা বসে থাকায় প্রতিদিনই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারী, যাত্রী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, শায়েস্তাগঞ্জ-দাউদনগর বাজার সড়কের দুই পাশে এবং ফুটপাথজুড়ে সারিবদ্ধভাবে বসেছে ফলের দোকান। শুধু ফুটপাথই নয়, অনেক ব্যবসায়ী সড়কের একটি অংশও দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। ফলে যানবাহন চলাচলের জন্য সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ব্যস্ত সময়ে রিকশা, সিএনজি অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, পিকআপ ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। পথচারীদের বাধ্য হয়ে যানবাহনের সঙ্গে একই সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক সপ্তাহ আগে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভা যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে সড়ক ও ফুটপাথ থেকে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করেছিল। ওই অভিযানের পর কিছুদিন স্বস্তি ফিরে এলেও বর্তমানে আবারও আগের মতো রাস্তা দখল করে দোকান বসানো শুরু হয়েছে। প্রশাসনের অভিযানের স্থায়িত্ব না থাকায় অবৈধ দখলদাররা পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।
শুধু দাউদনগর বাজার সড়কই নয়, পৌর শহরের প্রধান বাজার এলাকার বিভিন্ন সড়ক ও ফুটপাথও এখন অবৈধ কাঁচা বাজারে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রাস্তার ওপরই সবজি, মাছ, ফলসহ বিভিন্ন পণ্যের বেচাকেনা চলছে। এতে বাজার এলাকায় যানজট এখন নিত্যদিনের চিত্র।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পৌরসভার ইজারা বা দরপত্র অনুযায়ী কাঁচা বাজার নির্ধারিত স্থানে বসার কথা। কিন্তু সেই নিয়ম উপেক্ষা করে প্রভাবশালী একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রধান সড়কের ওপর বাজার পরিচালনা করছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের নজরদারির অভাব এবং নিয়মিত তদারকি না থাকায় এসব অবৈধ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ বলেন, নির্ধারিত বাজারে ক্রেতার সংখ্যা কম হওয়ায় বাধ্য হয়ে তারা সড়কের পাশে দোকান বসান। তবে তারা স্বীকার করেন, এতে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ফুটপাথ দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীরা নিরাপদে চলাচল করতে পারছেন না। বিশেষ করে নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। একই সঙ্গে রাস্তার পাশে সারিবদ্ধ ফলের দোকান ও অবৈধ বাজারের কারণে পৌর শহরের সৌন্দর্যও নষ্ট হচ্ছে।
শহরের বাসিন্দা মো আব্দাল মিয়া বলেন, “প্রশাসন অভিযান চালিয়ে দোকান সরিয়ে দেয়, কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই আবার আগের জায়গায় দোকান বসে যায়। স্থায়ী সমাধান না হলে এই সমস্যা কখনোই দূর হবে না।”
এ বিষয়ে সচেতন নাগরিকরা বলছেন, মাঝে মধ্যে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না। নিয়মিত নজরদারি, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং নির্ধারিত স্থানে বাজার স্থানান্তরের কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় বারবার অভিযান চালিয়েও কাঙ্খিত সুফল পাওয়া যাবে না।
শায়েস্তাগঞ্জ পৌর শহরের নাগরিকরা সড়ক ও ফুটপাথ দখলমুক্ত রাখতে জেলা প্রশাসন, পৌরসভা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত অভিযান ও কঠোর মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, জনস্বার্থে অবৈধ দখল উচ্ছেদের পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী ও কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।