বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
জেলা ছাত্রদল সভাপতি রিংগনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে ১’শ জনের বিরুদ্ধে এনসিপির মামলা নবীগঞ্জে পথসভা শেষে বিএনপি ও জাসাস নেতার মধ্যে বাকবিতন্ডা ও সংঘর্ষ ॥ আহত ২০ চুনারুঘাটের এক মাদক ব্যবসায়ীকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত শায়েস্তাগঞ্জে ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার ২ লুণ্ঠিত পিকআপ ও ১২টি গরু উদ্ধার নবীগঞ্জে নতুন ইউএনও সুলতানা জেরিন চা-বাগানে এমপির প্রচেষ্টায় নতুন ঘর পেল আদিবাসী পরিবার শহরে এনসিপির সাথে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ ॥ আহত ১০ হবিগঞ্জ কারাগার পরিদর্শনে হুইপ জি কে গউছ ॥ বন্দিদের জন্য ১০টি টেলিভিশন, ৩০টি সিলিং ফ্যান ও ২টি ডিপ টিউবওয়েল দেওয়ার ঘোষণা হবিগঞ্জ শহরে মুক্তিযোদ্ধা অনিল কুমার চৌধুরীর জায়গা দখলের অভিযোগ হুইপ, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নিকট লিখিত অভিযোগ হবিগঞ্জ পৌরসভার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান

বানিয়াচঙ্গে দায়িত্ব পালন নিয়ে চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যানের দ্বন্দ্ব দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত শতাধিক

  • আপডেট টাইম মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬
  • ১১ বা পড়া হয়েছে

মখলিছ মিয়া, বানিয়াচং থেকে ॥ বানিয়াচং উপজেলার ৭নং বড়ইউড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব পালন নিয়ে চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ বনাম প্যানেল চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন এর দ্বন্দ্বে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ওসিসহ শতাধিক লোক আহত হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালীন কৃষি প্রনোদনার চাল ও টাকা লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা যায়, গতকাল সোমবার (৮ জুন) সকাল ১০ টার দিকে বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদে ইউনিয়ন পরিষদে অবস্থান করে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষদের মধ্যে অনুদানের টাকা ও চাল বিতরণ করছিলেন এ সময় প্যানেল চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন এসে ফরিদ আহমেদকে বৈধ চেয়ারম্যান নয় বলে জানান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক বির্তকের জেরে উভয়পক্ষের লোকজনের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ বাঁেধ। প্রায় ৩ ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত শতাধিক লোক আহত হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ নাজমুল হকসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ৩ রাউন্ড টিয়ারসেল এবং ৫টি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এ ঘটনায় বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ নাজমুল হকসহ ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়। ফরিদ আহমেদ ও কফিল উদ্দিনের পক্ষের অন্তত শতাধিত লোক আহত হয়েছে। তন্মধ্যে গুরুতর টেটাবিদ্ধ এনামুল, মুকিত, রকিব, আঙ্গুর, বাচ্চু, বাবলু, রিপনসহ ১০ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্য আহতরা হবিগঞ্জ, নবীগঞ্জসহ স্থানীয় প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এ বিষয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মহামান্য হাইকোর্ট আমাকে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য আদেশ দিয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক এবং বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা বেগম সাথী স্বাক্ষরিত এক পত্রে আমাকে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য লিখিতভাবে আদেশ প্রদান করেন। কিন্তু প্যানেল চেয়ারম্যান আমার সব কাগজপত্র ভূয়া বলে আমাকে দায়িত্ব পালনে তার দলবল নিয়ে বাঁধা প্রদান করে এবং আমার উপর হামলা চালায়।
এ বিষয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার উপর ফরিদ আহমেদ কর্তৃক উত্তাপিত সকল অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবী করে জানান, ফরিদ আহমেদ দীর্ঘদিন যাবত পলাতক থাকায় আমি অত্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমার এবং পরিষদের কোন সদস্যের সাথে কোন ধরনের যোগাযোগ ছাড়াই হঠাৎ করে ফরিদ আহমেদ ইউনিয়ন পরিষদে চলে আসায় এ পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে। ইউএনও কর্তৃক দায়িত্ব হস্তান্তরের কোন চিঠি পেয়েছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান কফিল উদ্দন।
এ বিষয়ে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ নাজমুল হক এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রনে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এলাকায় পুলিশ টহল অব্যাহত আছে। কৃষি প্রনোদনার টাকা ও চাল লুটপাটের ঘটনার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা বেগম সাথী’র বক্তব্য জানতে সরকারী মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে অত্র ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোঃ ইকবাল হোসেন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার প্রতিনিধি হিসেবে আমার কার্যালয়ের পরিদর্শক মিহির চন্দ্র পুরকায়স্থ সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় ইউনিয়ন অফিসে দুপক্ষের মারমুখী অবস্থা দেখে আত্মরক্ষার্থে তিনি সেখানে থেকে চলে আসেন।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com