স্টাফ রিপোর্টার ॥ শীত আসতে না আসতেই হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে হঠাৎ বেড়ে গেছে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা। গত কয়েকদিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন প্রায় একশোর বেশি রোগী। তাদের অধিকাংশই শিশু ও প্রবীণ নাগরিক। বাড়তি চাপের কারণে চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতালের সার্বিক তৎপরতা আরও জোরদার করা হলেও রোগীর ঢল সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
হাসপাতালের শিশু ও মেডিসিন ওয়ার্ডে সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক রোগীকে বেড না পেয়ে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। শিশু ওয়ার্ডে কান্নার শব্দ, নেবুলাইজারের গুনগুন ধ্বনি আর অভিভাবকদের উৎকণ্ঠা, সব মিলিয়ে অন্যরকম এক চাপা অস্থিরতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
হাসপাতালের ডিউটি ডাক্তারদের একজন জানান, গত ৪-৫ দিনে হঠাৎ রোগীর চাপ বেড়েছে। মূলত ঠান্ডাজনিত জ্বর, কাশি, সর্দি, শ্বাসকষ্ট ও ব্রঙ্কিওলাইটিসে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেশি। প্রবীণদের ক্ষেত্রে দেখা দিচ্ছে নিউমোনিয়া, হাঁপানি ও শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতা।
বৃদ্ধ রশিদ মিয়া (৭২) শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁর পাশে বসে থাকা ছেলে বলেন, “বাবার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। গ্রামে ডাক্তার দেখালাম। কিন্তু কাজ হলো না। শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে আনতেই হলো।”
তবে সবচেয়ে দুঃসংবাদ এসেছে নবজাতক ওয়ার্ড থেকে। গত কয়েকদিনে ঠান্ডাজনিত জটিলতাসহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া দুই নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। এসব মৃত্যুতে চিকিৎসকরাও শোকাহত।
হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, “শীতের শুরুতে সাধারণত ঠান্ডাজনিত অসুস্থতা বাড়ে। কিন্তু এবার রোগীর সংখ্যা হঠাৎ বেশি বেড়ে গেছে। বিশেষ করে নবজাতক ও শিশুদের ক্ষেত্রে অভিভাবকরা একটু অসচেতন থাকলে জটিলতা দ্রুত বৃদ্ধি পায়।”
চিকিৎসকদের মতে, শীতের সময় শিশুকে অতিরিক্ত ঠান্ডা অথবা অতিরিক্ত গরম পরিবেশে না রাখা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, ধুলোবালি থেকে দূরে রাখা এবং হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টে ভুগছেন এমন প্রবীণদের জন্য বাড়তি সতর্কতা জরুরি। কোনো উপসর্গ দেখা দিলে সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়াই উত্তম।
হবিগঞ্জে শীত আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় সামনে দিনগুলোতে রোগীর চাপ আরও বাড়ার আশংকা করছেন চিকিৎসকরা। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত বেড ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
জীবনের ঠান্ডা হাওয়ার কাছে অসহায় হয়ে পড়া মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি নিজ নিজ পরিবার ও সমাজের সচেতনতার ওপরই জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।