শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
নবীগঞ্জের ইনাতগঞ্জ সড়ক এখন মরণ ফাদঁ কাজ নিয়ে তদন্তের দাবী ॥ আজ মানববন্ধন হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবে গোলাম মোস্তফা রফিকসহ ৩ জনের মৃত্যুতে শোকসভা ও দোয়া মাহফিল গোলাম মোস্তফা রফিকের মৃত্যুতে এমপি ফয়সল ও শাম্মী আক্তারের শোক নবীগঞ্জে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চার গ্রামের পঞ্চায়েতের কবরস্থান দখলের অভিযোগ শহরে রাজনগর ও আনোয়ারপুরে দুই দল যুবকের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া বানিয়াচং দক্ষিণ আঞ্চলিক শ্রমিক কমিটি গঠন আবুল কাশেম আহবায়ক, রুবেল মিয়া সদস্য সচিব বাহুবলের রাবার বাগান কর্মী মোশাররফের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও সরকারি সম্পদ লুটের অভিযোগ নবীগঞ্জে সারের ডিলার পয়েন্টে বিশেষ অভিযান ॥ জরিমানা চুনারুঘাটে গ্রামীণ ব্যাংক কর্মকর্তার বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি ॥ মালামাল লুট হবিগঞ্জ সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ॥ গ্রেপ্তার ৪

চুনারুঘাটে স্বামী স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যু ॥ বেঁচে যাওয়া এতিম ৩ শিশুর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

  • আপডেট টাইম শনিবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৩
  • ৩২০ বা পড়া হয়েছে

নুরুল আমিন, চুনারুঘাট থেকে ॥ চুনারুঘাটে দিনমজুর সুরুজুল হক (৩২) প্রতিবন্ধি ছেলে ইয়াসিন (১০) ও স্ত্রী জেসমিন (২২) এর মৃত্যু নিয়ে এখনও সরব আলোচনা সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। কি কারণে দিন মজুর গৃহকর্তা সুরুজুল হক এবং তার স্ত্রী সন্তানকে হত্যা ও অপর ৩ সন্তানকে হত্যার চেষ্ঠা করে নিজে আত্মহত্যা করলেন এর রহস্য এখনো অন্ধকারে। তিন জনের মৃত্যু রহস্য নিয়ে এলাকায় এখন নানা আলোচনা সমালোনার ঢালপালা মেলেছে। সুরুজুল হক মাদকাশক্ত ও অভাব অনটনে অতিষ্ঠ হয়ে এ হত্যাকান্ড ও আত্মহত্যার ঘটনা ঘটিয়েছেন পুলিশ এমন ধারনা করলেও এ কথা বিশ্বাস করতে চান না এলাকাবাসি। এ ছাড়া এতিম সন্তানদের দান করা টাকা কার পকেটে যাচ্ছে, দানের টাকা এতিম সন্তানরা আদৌ পাবে কিনা তা নিয়ে রয়েছে আলোচনা। এলাকাবাসী বলছেন, সুরুজুল হক ও তার স্ত্রী জেসমিন ও তার ভাসুরের মোবাইল টেক করলে এ পেছনের আসল কারণ জানা যেতে পারে।
গত ২৩ মার্চ উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের গাদিশাল গ্রামের দিন মজুর সুরুজুল হকের বসত ঘর থেকে তার স্ত্রী জেসমিন (২২) ও প্রতিবন্ধি ছেলে ইয়াসিন (১০) এর মরদেহ উদ্ধার করে চুনারুঘাট থানা পুলিশ। এর সাথে নিহত জেসমিনের ছোট কন্যা আইরিন (২) কে আহত ও গৃহকর্তা সুরুজুল হক (৩২) এর মরদেহ গাছের ডালে ঝুলন্ত অবস্থায় মৃত উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নানা কথা বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে তবে ভয়ে কেউই মুখ খুলতে চাইছেন না। এলাকাবাসিরা জানান, গাদিশাল গ্রামের আঃ হক তার পুত্র নুরুল হক, সুরুজুল হক ও কন্যা সাহেদাকে রেখে প্রায় ৪০ বছর আগে মারা যান। মা তৈয়ব চাঁন সন্তানদের বড় করে তুলেন। বড় ছেলে নুরুল হক বিয়ে করেন এলাকাতেই। ছোট ছেলে সুরুজুল হক বিয়ে করেন হবিগঞ্জে। পরিবার নিয়ে সুরুজুল হক ও নুরুল হক মায়ের বসত ভিটায় বসবাস করতে থাকেন। সরুজুল-জেসমিনের সংসারে জন্ম নেয়া ইয়াসিন, জিহান, শিউলি ও আইরিনের কথা চিন্তা করে বিগত বছর খানেক পুর্বে মা তৈয়বা খাতুন তার ২য় পুত্র সুরুজুল হক ও কন্যা সাহেদাকে বসতভিটাসহ শেষ সম্বল সাড়ে ৫ শতক জমি লিখে দেন। বড় সন্তানের সাথে বনিবনা না থাকায় তার নামে কোন জমি দলিল করে দেননি তার মা। নাম প্রকাশে অনিশ্চিক একাধিক গ্রামবাসি জানান, অভাবের তাড়নায় সুরুজুল হকের স্ত্রী জেসমিন প্রতিবন্ধি সন্তানকে নিয়ে বাজারে বাজারে ভিক্ষা করা শুরু করেন। ভিক্ষাবৃত্তির বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যে প্রকাশিত হলে বিষয়টি ভাইরাল হয়। এ কারনে জেসমিনকে নানা ভাবে সহায়তা করেন দেশ বিদেশের মানুষজন। ইউরোপ প্রবাসি এক নারী জেসমিনকে নিয়মিত অর্থকড়ি বিকাশে প্রেরণ করতেন। এ কারনে জেসমিনের ভাগ্যের উন্নতি ঘটে কিন্তু তার ভিক্ষাবৃত্তির বিষয়টাকে নেতিবাচক ভাবে দেখতে থাকেন ভাসুর নুরুল হক ও তার স্ত্রীসহ পাড়ার অনেকে। এ নিয়ে জেসমিনের সাথে প্রায়শই ঝগড়া হতো নুরুল হকের। এতে সহজ সরল স্বামী সুরুজুল হকের মন বিষিয়ে উঠে। বিষয়টি মেনে না নিয়ে তিনি মাঝে মাঝে গৃহত্যাগ করতেন। ফিরতেন এক দুই মাস পর। আস্তে আস্তে গাঁজা সেবনেও অভ্যস্থ হয়ে উঠেন সুরুজুল। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নুরুল হক সুরুজুলের বসত ভিটার অর্ধকটাতে টিউবওয়েল, লেট্টিন নির্মান স্থাপন করে স্থায়ীভাবে বসতি গাড়েন। এ কারনে ৪ সন্তানের জননী জেসমিনের সাথে ভাসুর নুরুল হকের ঝগড়া চরমাকার ধারন করে। বিগত ২/৩ মাস আগে জেসমিনকে কেবা কারা জবাই করার চেষ্ঠা চালায়। এ বিষয়টা গোপন ছিলো তবে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছিলো তখন।
গত ২৩ মার্চ সকালে জেসমিন ও তার প্রতিবন্ধি পুত্র ইয়াসিনকে মৃত অবস্থায় বসত ঘর থেকে এবং সুরুজুল হককে বাড়ির পাশে একটি গাছের ডালে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে মৃত উদ্ধার করে পুলিশ। জেসমিনের ছোট কন্যা শিশু আইরিন (২) কে গলা কাটা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ঘটনা জানাজানি হলে ভাসুর বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। পরে পুলিশের আশ্বাসে তিনি বাড়ি ফেরেন।
জেসমিনের ভাসুর নুরুল হক এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ঘটনার দিন রাতে তার শ্যালিকার “কন্যা দেখা” অনুষ্ঠান চলছিলো তার ঘরে এ কারনে সুরুজুল হকের ঘরে কি হচ্ছিলো তা তিনি শুনতে পাননি বা আঁচ করতে পারেননি। তিনি জেসমিনদের ঘরে পা মাড়াননা বলেও জানান তবে বাড়িটি ছোটভাই সুরুজুল হকের বলে স্বীকার করেন। এতিম সন্তানদের দানের টাকা তার কাছে রয়েছে বলে জানান। এ বিষয়ে চুনারুঘাট থানায় একটি আত্মহত্যা ও একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ মামলার তদন্ত করছে। নিহত জেসমিনের বেঁচে যাওয়া অবুঝ সন্তান জিহান ও আইরিন অভিভাবকহীন। তাদের পৈত্তিক সম্পত্তি যাতে হাত ছাড়া না হয় এ বিষয়ে প্রশাসনিক ভাবে নজর রাখার দাবী জানান এলকাবাসী।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com