বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৩৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
বানিয়াচংয়ে ৯ ছাত্র-জনতা হত্যা মামলা ॥ ২ বছরেও শুরু হয়নি বিচার শহীদ পরিবারে তীব্র ক্ষোভ দেউন্দি-রঘুনন্দন বনাঞ্চলের গাছ কেটে সাবাড় ॥ হুমকির মুখে জীববৈচিত্র্য আজ “জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস” এই আন্দোলনে হবিগঞ্জ জেলায় ১২ ছাত্র-জনতা ও পুলিশ প্রাণ হারান মাধবপুরে লোডশেডিং বিপর্যস্ত জনজীবন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম হবিগঞ্জ জেলা শাখার নয়া কমিটি বানিয়াচঙ্গে শিক্ষার্থী সংবর্ধনায় ডা. জীবন ॥ আজকের কৃতিরাই আগামী দিনের স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের কারিগর হবিগঞ্জ সোসাইটি ইউ.কে এর উদ্যোগে বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ ও বস্ত্র বিতরণ ইংল্যান্ড আলাল মহসিনের চুরি যাওয়া ২টি আইফোন ২৪ ঘণ্টায় উদ্ধার পুলিশ ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানে ডাকাতি মামলার আসামি গ্রেপ্তার তেতৈয়ায় নানার বাড়িতে বেড়াতে এসে লাশ হলো শিশু

মিরপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শামীমের বিরুদ্ধে মহিলা মেম্বারকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ মহিলা মেম্বার চম্পা পরিষদে অবাঞ্ছিত

  • আপডেট টাইম বৃহস্পতিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২২
  • ৩৩৮ বা পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাহুবল উপজেলার মিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা মেম্বার মোছাঃ রহিমা খাতুনকে অবাঞ্ছিত ঘোষনা করা হয়েছে। অপর দিকে ওই মহিলা মেম্বার লিখিত অভিযোগে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তাকে ধর্ষনের চেষ্টার অভিযোগ এনেছেন। একদিকে পরিষদের চেয়ারম্যান ও ১১ জন মেম্বার গত ২২ নভেম্বর মহিলা মেম্বার রহিমা খাতুন চম্পার বিরুদ্ধে দুর্নীতি অনিয়মের অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসকের নিকট অভিযোগ দায়ের করেন। এবং তাকে পরিষদে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। অপর দিকে হিলা মেম্বার রহিমা খাতুন চম্পা তাকে চেয়াম্যান শামীম ধর্ষণের চেষ্টা কেেছন মর্মে জেলা প্রশাসকের নিকট অভিযোগ দায়ের করেন। এ নিয়ে সর্বত্র আলোচনার ঝড় বইছে। বিষয়টি নিয়ে আজ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে উভয় পক্ষের উস্থিতিতে তদন্ত অনুষ্ঠিত হবে বলে সূত্রে জানা গেছে।
বাহুবল উপজেলার বাহুবল মিরপুর ইউনিয়নের ১,২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার রহিমা খাতুন চম্পার বিরুদ্ধে ভিজিডি কার্ড, বয়স্ক ভাতা, বিধবা, প্রতিবন্ধী, হত দরিদ্র কার্ড ও টিউবওয়েল দেওয়ার কথা বলে টাকা আতœসাতের অভিযোগ উঠে। এ অভিযোগ উঠায় তাকে মিরপুর ইউনিয়ন পরিষদে অবাঞ্ছিত ঘোষনা করেছে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সহ সকল সদস্য সদস্যাবৃন্দ। চেয়ারম্যান ও ১১ সদস্য গত ২২ নভেম্বর জেলা প্রশাসকের অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে স্বাক্ষর করেন চেয়ারম্যান মোঃ শামীম, মহিলা সদস্য মোছাঃ মিনারা খাতুন, রাজিয়া আক্তার, সদস্য মোঃ ফুল মিয়া, ঈসমাইল আলী, মোঃ কদর আলী, হাজি মোঃ আবিদ আলী, মোঃ আফরোজ তালুকদার, মোঃ সফিকুর রহমান, মোঃ দরবেশ আলী ছায়েদ, মোঃ কদ্দুছ আলী, মোঃ দরবেশ আলী।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের মহিলা সদস্যা মোছাঃ রহিমা খাতুন চম্পা বিভিন্ন এলাকার জনগণের নিকট থেকে নগদ টাকা নিয়ে ভিজিডি কার্ড, বয়স্ক ভাতা, বিধবা, প্রতিবন্ধী, হত-দরিদ্র কার্ড, টিউবওয়েল ইত্যাদি দেয়ার প্রলোবন দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করেছে। এ বিষয়গুলো নিয়ে প্রতিদিনই ইউনিয়ন পরিষদে এসে তার সাথে জনগণ ঝগড়া বিবাধে লিপ্ত হয়। এই বিষয়গুলো নিয়ে পরিষদ তার সাথে বেশ কয়েকবার বসে জনগণের সাথে এগুলো না করার জন্য বলা হয়। কিন্তু বার বারই তার কাছে ব্যর্থ হয়েছে পরিষদ। অভিযোগে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে জেলা প্রশাসককে অনুরোধ জানানো হয়।
অপর দিকে মোছাঃ রহিমা খাতুন ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শামীমের বিরুদ্ধে তাকে ধর্ষণ চেষ্টা ও শ্লীলতাহানীর অভিযোগ করেছেন। গতকাল বুধবার জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার শাখার সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশাদল হককে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
অভিযোগে রহিমা খাতুন উল্লেখ করেন, বিগত নির্বাচনে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তাকে প্রায়ই সুযোগে পেলে কু-প্রস্তাব দিত। মান-সম্মানের কথা চিন্তা করে ও চেয়ারম্যান প্রভাবশালী হওয়ায় তার কুপ্রস্তাব এড়িয়ে যান রহিমা। গত ১৯ নভেম্বর রাত ১০টার দিকে ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শামীম তার বাড়িতে যান। এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান হঠাৎ তাকে ঝাপটে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করতে থাকেন। অভিযোগে তিনি আরো বলেন, আমি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে সম্মান বাঁচাতে বারবার চেষ্টা করি। নিরূপায় হয়ে এক পর্যায়ে শোর চিৎকারে লোকজন আসলে অবস্থা বেগতিক দেখে চেয়ারম্যান ঘর থেকে বের হয়ে যান।
ঘটনার পরদিন সকাল ১১টার দিকে রহিমা পরিষদ অফিসে গেলে চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বের করে দেন।
অভিযোগের বিষয়ে রহিমা খাতুন বলেন, চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শামীম তাকে হুমকি দিচ্ছেন এবং তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে যাচ্ছেন।
অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান শামীম জানান, অভিযোগকারী নারী সদস্য চম্পা বেগম সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে ভাতা দেয়ার নাম করে। বিষয়টি আমি শালিসে নিস্পত্তি করে দিয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের কারনে সকল জনপ্রতিনিধি অভিযোগ দায়ের করেছে। এ কারনে ক্ষিপ্ত হয়ে তার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে ইউনিয়ন পরিষদের সকল সদস্য সদস্যেরা অবাঞ্ছিত ঘোষনা করেছি।
জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান অভিযোগপ্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হবে। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে তদন্তভার দেয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com