শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২৯ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
চুনারুঘাট সীমান্তে বিজিবির অভিযান ১ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণকালে হুইপ জি কে গউছ ॥ শেখ হাসিনার অপকর্মের বিচার মানুষ দেখতে চায় সিলেট ওসমানীনগরে দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত ৯ মাধবপুরে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু মাধবপুর তেলিয়াপাড়ায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ পরিদর্শন করেছেন সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান নবীগঞ্জের কায়স্থগ্রাম-দেবপাড়া সড়ক সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত রেকর্ড দামে চা বিক্রি উমেদনগরে বিদ্যুতের তার কাটতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু বানিয়াচংয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু বাহুবলে হত্যা মামলার আসামি নারায়ণগঞ্জে গ্রেপ্তার

৬ কারনে প্রবাসী শাহিন মিয়ার বন্দুক জব্দের দাবী জানালেন প্রবাসী ছালেক

  • আপডেট টাইম সোমবার, ৪ এপ্রিল, ২০২২
  • ৩৬১ বা পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যে কোনো সময় ঘটতে পারে প্রাণহানীর মতো ঘটনা। বন্দুক আতংকে দিন কাটাচ্ছেন হবিগঞ্জ সদর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের দুই ভাই ও এক ভাতিজা। কথায় কথায় বন্দুক প্রদর্শনে আতংকিত পরিবারটি বন্দুক জব্দের আবেদন করেন জেলা প্রশাসক বরাবরে। বন্দুক জব্দের আদেশও জারী হয়। মাঝ পথে থেমে যায়। উল্টো তলব করা হয় আবেদনকারীদের। হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মুহাম্মদ সাদিকুর রহমানের একই টেবিলে বসানো হয় আবেদনীকারী ও অভিযুক্ত ব্যক্তিকে। আনুষ্ঠানিকভাবে ৬টি কারণে বন্দুক জব্দের দাবী জানান বৃটিশ নাগরিক জয়নাল আবেদীন ছালেক। এর মধ্যে রয়েছে- অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট এর বন্দুক জব্দের আদেশ প্রতিপালিত না হওয়া, একটি ইন্ডাষ্ট্রিয়াল ফ্লট শাহিন মিয়া কর্তৃক জোরপূর্বক মাটি ভরাট করা, একটি কৃষি জমি শাহিন মিয়া কর্তৃক মাটি ভরাট করা, তাদের নিজেদের জায়গার ফলিত গাছ শাহিন মিয়া কর্তৃক দেদারছে কর্তন করা, সেচ প্রকল্পের পানি সেচ বন্ধ করে দেয়া। ছালেক মিয়ার দাবী তার আপন ভাই আমেরিকা প্রবাসী শাহিন মিয়া যে কোনো সময় গুলি ছুড়তে পারেন তার বুক লক্ষ্য করে। লিস্টে আছেন তার আরেক ভাই হবিগঞ্জ সদর উপজেলার তেঘরিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আনু মিয়া ও আনু মিয়ার কলেজ পড়–য়া যুবক ইবনাত হোসেন প্লাবন। এই তিনজনই আমেরিকা প্রবাসী শাহিন মিয়ার টার্গেট। বিরোধ পারিবারিক, সহায় সম্পত্তি ও ইগু সংক্রান্ত এবং ক্ষমতা প্রদর্শন।
ছালেক মিয়া দাবী করেছেন- আগে শাহিন মিয়ার বন্দুক জব্দ করা হউক। আগে জানে বাচি তারপর সমঝোতা বৈঠক। মরে গেলে তো বিচার চাওয়ার ও পাওয়ার কিছু নেই। আনু মিয়া চেয়ারম্যান বলেছেন- অর্ধ শতাধিক যুবক নিয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আমেরিকা প্রবাসী শাহিন মিয়ার আসার কারণ একটাই ক্ষমতা প্রদর্শন। ইবনাত হোসেন প্লাবন জানান- অপ্রাপ্ত বয়সে আমেরিকা প্রবাসী চাচা শাহিন মিয়ার অর্ধ ডজন মিথ্যা মামলার আসামী সে। জেলও খেটেছে, সরকারী চাকুরীর পথ রুদ্ধ করতেই চাচার এসব ষড়যন্ত্র।
শাহিন মিয়া জানান- আমি দেশে আসার পর ২৩ মার্চ হবিগঞ্জ সদর থানা থেকে লাইসেন্স করা বন্দুকটি গ্রহণ করি, সাথে ২০ রাউন্ড গুলির অনুমোদন নেই। ২০ রাউন্ড গুলি ক্রয়ও করি। তবে কোনো গুলি কাউকে লক্ষ্য করে ছুড়িনি এমনকি ফাকা গুলিও ছুড়িনি। কাজেই আমার বন্দুক দ্বারা কারো আতংকিত হবার কিছুই নাই।
উভয় পক্ষের কথা শুনে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মুহাম্মদ সাদিকুর রহমান জানান- ভীতি সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে লাইসেন্সকৃত বন্দুক প্রদর্শন করলে বন্দুক জব্দের বিধান রয়েছে। তাছাড়া ২০ রাউন্ড গুলি ক্রয় করে থাকলে তা থেকে কোনো গুলির অস্তিত্ব না পেলে ধরে নেয়া যাবে লাইসেন্সকৃত বন্দুক দিয়ে গুলি ছুড়া হয়েছে। সার্বিক বিষয়গুলো বিবেচনায় আনা হবে।
বৈঠকে উপস্থিত হবিগঞ্জ সদর থানার ওসি মাসুক আলী জানান- শাহিন মিয়া ও ছালেক মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ। পুলিশ প্রশাসনের সজাগ দৃষ্টিতে তারা আছেন। যে কোনো অঘটনরোধে পুলিশ সতর্ক। গতকাল রবিবার বিকালে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট জানান- একই টেবিলে সব সমস্যার সমাধান হয়তো হবে না। তবে সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে শান্ত থাকতে হবে। পারিবারিক বিরোধগুলো মিটিয়ে ফেলতে বিভিন্নভাবে উদ্যোগ নিতে হবে।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com