বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৪৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের দাফন সম্পন্ন খোয়াই নদীর বাঁধ পরিদর্শনে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আজাদ ॥ হবিগঞ্জ যেন কোনো বন্যায় প্লাবিত না হয় তার জন্য প্রকল্প গ্রহন করা হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ নবীগঞ্জে মেরামতের ৩ মাসেই রাস্তার বেহাল দশা নবীগঞ্জ পৌরসভায় কোটি টাকার সরকারি যানবাহন অযত্নে নষ্ট নবীগঞ্জে মাঠ থেকে মরদেহ উদ্ধার ॥ হত্যার অভিযোগ চুনারুঘাটে চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও ভূমির অধিকারের দাবিতে মানববন্ধন সাংবাদিক বদরুল আলমের পিতার ইন্তেকাল ॥ শোক হবিগঞ্জে সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের অভিযান ॥ টাকা ও মোবাইল উদ্ধার চুনারুঘাট আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতির গণসংযোগ

মোহনপুর থেকে গ্রেফতারকৃত ফারুকের মৃত্যু ॥ পুলিশ বলছে হার্টএ্যাটাক পরিবারের দাবী পিটিয়ে হত্যা

  • আপডেট টাইম মঙ্গলবার, ১ অক্টোবর, ২০১৯
  • ৮৬০ বা পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পুলিশের হাতে গ্রেফতারের পর ফারুক মিয়া (৪৫) নামে এক নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ বলছে, গ্রেফতারের পর হার্টএ্যাটাক করে ফারুক। অপর দিকে তার পরিবারের দাবী পুলিশী নির্যাতনের কারণে ফারুক নিহত হয়েছে। হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের চিকিৎসক বলছেন ময়নাতদন্ত ছাড়া মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বলা যাবেনা। এদিকে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী। মৃত ফারুক হবিগঞ্জ সভার মোহনপুর এলাকার সঞ্জব আলীর ছেলে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানা যায়, ফারুক মিয়া একই এলাকার আব্দুল মান্নানের নিকট থেকে ৬/৭ মাস পূর্বে ১৫ হাজার টাকা সুদে নেয়। তখন সে ব্যাংকের দু’টি চেক দেয়। সম্প্রতি সুদে আসলে ওই টাকার পরিমাণ দাড়ায় ৩৫ হাজা টাকা। পরে সে আসল ১৫ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও আব্দুল মান্নান সুদের টাকার জন্য চাপ দেয়। পরে চেক দিয়ে দু’টি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় তার ৩ মাস করে ৬ মাসের সাজা হয়। এর প্রেক্ষিতে রোববার দিবাগত রাতে মোহনপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে থানায় নিয়ে আসার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে রাতেই তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তার পরিবারের অভিযোগ তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে পুলিশ। খবর পেয়ে সদর হাসপাতালে ছুটে যান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা (বিপিএম-পিপিএম)। এ সময় তার সাথে ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রবিউল ইসলাম, সদর থানার ওসি মোঃ মাসুক আলী, পুলিশ পরিদর্শক গোলাম কিবরিয়া হাসান, সদর থানার (ওসি তদন্ত) মোঃ জিয়াউর রহমানসহ পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
নিহতের ছেলে সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র শাহরিয়ার মাসুক জানান, তার বাবার বিরুদ্ধে চেকের মামলা ছাড়া অন্য কোন মামলা নেই। রাতে পুলিশ তার বাবাকে সুস্থ অবস্থায় নিজ বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায়। থানায় নিয়ে তাকে নির্যাতন করলে তিনি মারা যান। তিনি বলেন, আমরা এ হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।
হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের দায়িত্বপালনকারী চিকিৎসক ডা. মিঠুন রায় জানান, পুলিশ অসুস্থ অবস্থায় ফারুক মিয়াকে হাসপাতালে নিয়ে এলে তার মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে হার্ট অ্যাটাকেই তার মৃত্যু হয়েছে। তার হাতে এবং পায়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ আঘাতের কারনে তার মারা যাওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
হবিগঞ্জ সদর থানার ওসি মাসুক আলী জানান, মৃত্যুবরণকারী ফারুক মিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় সাজা পরোয়ানা রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন পুলিশের চোখ ফাকি দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। এছাড়া তিনি একজন হার্টের রোগী। রাতে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করলে তিনি হার্ট এ্যাটাক করেন। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যু বরণ করেন।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা জানান, ময়নাতদন্তে নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া গেলে পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোন ছাড় দেয়া হবেনা।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com