স্টাফ রিপোর্টার ॥ আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে হবিগঞ্জে বিভিন্ন রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ ডায়রিয়া, জ্বর, সর্দি-কাশি, পাতলা পায়খানা ও হামসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিতে আসায় হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে। অনেক েেত্র শয্যা সংকটের কারণে রোগীদের হাসপাতালের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। রোগী ও তাঁদের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে প্রয়োজনের তুলনায় শয্যা কম থাকায় ভর্তি হওয়া রোগীদের নিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে। অনেক রোগীকে মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। দীর্ঘদিনের পুরোনো বিছানা ও চাদর দিয়েই চলছে হাসপাতালের কার্যক্রম। এতে রোগীদের দুর্ভোগ বাড়ছে। চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগীর স্বজনের অভিযোগ, হাসপাতালে খাবার স্যালাইন ও কয়েক ধরনের ইনজেকশন ছাড়া প্রয়োজনীয় অনেক ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। এতে দরিদ্র ও অসচ্ছল রোগীদের বাড়তি আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। চিকিৎসাসেবা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন রোগী ও তাঁদের স্বজন। তাঁদের অভিযোগ, চিকিৎসকেরা নিয়মিত ও সময়মতো ওয়ার্ডে এসে রোগীদের দেখেন না। অনেক েেত্র ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মাধ্যমে ওষুধের নাম লিখে দেওয়া হয় এবং নার্সরা সে অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা দেন বলে তাঁদের দাবি। এতে সঠিক চিকিৎসা ও ওষুধ প্রয়োগ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। ভুল ওষুধ প্রয়োগের আশঙ্কায় রোগীদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। এ ছাড়া রোগীদের অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে সামান্য সমস্যা দেখা দিলেও উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা কিংবা সিলেটে রেফার করা হচ্ছে। এতে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের বাড়তি খরচ ও দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের রোগীদের জন্য অন্য জেলায় গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ চিকিৎসার জন্য হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। এ অবস্থায় রোগীর চাপ সামাল দিতে প্রয়োজনীয় শয্যা বৃদ্ধি, ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসকদের নিয়মিত ওয়ার্ডে উপস্থিতি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। রোগী ও তাঁদের স্বজনদের প্রত্যাশা, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীদের এসব অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।