সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৮ পূর্বাহ্ন

সুতাং নদীর খনন করা বালু-মাটির স্তুুপ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ

  • আপডেট সময় রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩৬ বার পড়া হয়েছে

লাখাই প্রতিনিধি ॥ লাখাইয়ে সুতাং নদী খননের পর বিভিন্ন স্থানে স্তূপ করে রাখা বালু-মাটি নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী খননের বালু-মাটি ঘিরে অনিয়ম ও বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কৃষকের ফসলি জমিতে বালু-মাটি স্তূপ করে রাখার পাশাপাশি পরে সেগুলো বিক্রি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী নদী খননের পর বিভিন্ন স্থানে স্তূপ করে রাখা বালু-মাটি নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে। নিলামের অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তারেক হাসান বলেন, সুতাং নদী খননের কাজে শুধু উপজেলা প্রশাসনের একার দায়িত্ব নেই; পানি উন্নয়ন বোর্ডেরও দায়িত্ব রয়েছে। নিলামকারী আজম মিয়া বলেন, নিলামে পাওয়া বালু-মাটি নিতে গেলে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে নিলামের টাকা পরিশোধের জন্য সময় চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বিঘ্নে বালু-মাটি নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলে নিলামের সমুদয় টাকা পরিশোধ করবেন তারা। ইউএনও তারেক হাসান বলেন, নিলামকারীরা নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ না করলে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত করা হবে। এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নদী খননের পর স্তূপ করে রাখা বালু-মাটি নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে অর্থ জমা দেওয়া হবে।
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী একরামুল হক বলেন, কিছু দিনের মধ্যে নিলামকৃত বালু-মাটি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এরপর লাখাই, বামৈ ও বুল্লা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে স্তূপ করে রাখা নদী খননের বালু-মাটি নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে। বামৈ ইউনিয়নের ভাদিকারা অংশ থেকে বুল্লা ইউনিয়ন পর্যন্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী শামীম ভূঁইয়া বলেন, সাইফুল ইসলাম লিখিত আবেদন করে কৃষকের ফসলি জমিতে নদী খননের বালু-মাটি স্তূপ করে রাখার দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানান। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই সেখানে বালু-মাটি স্তূপ করে রাখা হয়েছে। হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান বলেন, বোর্ডের সভায় আলোচনা করে সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী নদী খননের সব বালু-মাটি নিলামের আওতায় এনে বিক্রি করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ আগস্ট বিদায়ী ইউএনও সৈয়দ মুরাদ ইসলাম লাখাই ইউনিয়নের ১১টি স্থানে স্তূপ করে রাখা বালু-মাটির মধ্যে ছয়টি স্থানের বালু-মাটি প্রকাশ্যে নিলাম দেন। এদিকে সুতাং নদীর খনন করা বালু-মাটি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা ও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের একটি অংশ এসব বালু-মাটি নিয়ে ব্যবসা করছেন। কৃষকের ফসলি জমিতে মাটি ফেলে সেখানে অবৈধভাবে বালু-মাটি স্তূপ করে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে এসব বালু-মাটি বিক্রি করা হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত নদী খননের পর স্তূপ করে রাখা সব বালু-মাটি সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী নিলামের আওতায় এনে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন।

 

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ
© All rights reserved © 2013-2026 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com