ছনি আহমেদ চৌধুরী ॥ নবীগঞ্জে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা শাহ তপুসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর থানার হাজতে থাকা অবস্থায় শাহ তপুর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। হাজতের মতো স্পর্শকাতর স্থানে কীভাবে ভিডিও ধারণ করা হলো, তা নিয়ে পুলিশের ভূমিকা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গতকাল শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের উমরপুর গ্রাম থেকে শাহ তপুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের শাহ ফিরোজ মিয়ার ছেলে। পরে একই গ্রামের শাহ শুকুর আলীর ছেলে শাহ জুয়েলকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নবীগঞ্জ থানার এসআই আসিফের নেতৃত্বে একদল পুলিশ উমরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছাত্রলীগ নেতা শাহ তপুকে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে করা মামলায় সন্দিগ্ধ আসামী হিসেবে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পর থানায় নিয়ে আসা হয় ছাত্রলীগ নেতা শাহ তপুকে। এক পর্যায়ে শাহ তপু থানার হাজতে থাকা অবস্থায় তাঁর সহযোগী শাহ জুয়েল কৌশলে শাহ তপুর একটি ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিওতে জয়বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধুসহ বিভিন্ন বক্তব্য দেন শাহ তপু। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এ ঘটনার পর তাৎক্ষনিক অভিযান চালিয়ে ভিডিও ধারণকারী শাহ জুয়েলকে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁকেও সন্ত্রাস বিরোধী আইনে করা মামলায় সন্দিগ্ধ আসামী হিসেবে দেখানো হয়। এদিকে পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় কীভাবে ভিডিও ধারণ করা সম্ভব হলো, ভিডিও ধারণের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা কোথায় ছিলেন এবং হাজতের নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না—এসব প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হোসেন বলেন, থানার হাজতখানার মতো স্পর্শকাতর স্থানে অবৈধভাবে ভিডিও ধারণ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ঘটনায় শাহ জুয়েলকে গ্রেপ্তার করে একই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা ডিউটি অফিসারের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে দায়িত্ব পালনে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।