স্টাফ রিপোর্টার ॥ কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হবিগঞ্জ শহরে টানা ছয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শহরবাসী। সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় অফিস-আদালত, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকার পর সরবরাহ চালু হলেও স্বস্তি ফেরেনি গ্রাহকদের মধ্যে। এরপর আবার ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং শুরু হওয়ায় জনজীবনে নেমে আসে চরম ভোগান্তি। এ যেন মরার ওপর খাঁড়ার ঘা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই সকাল ৭টা থেকে হবিগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে সকাল থেকেই বিপাকে পড়েন সাধারণ গ্রাহকরা। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দৈনন্দিন কাজে বিঘ্ন ঘটে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়ির স্বাভাবিক কাজকর্মেও দেখা দেয় নানা সমস্যা।
দুপুর ১টার দিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হলেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। এরপর আবার এক ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং হওয়ায় গ্রাহকদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বন্ধ থাকার পর ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগ, কোনো ধরনের আগাম তথ্য না থাকায় বিদ্যুৎ বন্ধের বিষয়টি নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। কখন বিদ্যুৎ আসবে, আবার কখন চলে যাবে-তা নিয়েও নিশ্চিত করে কিছু জানা যায়নি।
এদিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ উন্নয়ন অফিসে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও গ্রাহকরা সঠিক তথ্য পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি প্রয়োজনের সময় সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ ফোনও রিসিভ করেননি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। ফলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ এবং সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ধারণা পাননি তারা।
শহরবাসীর অভিযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা বা লোডশেডিংয়ের প্রয়োজন হলে অন্তত আগাম জানানো উচিত। এতে সাধারণ মানুষ নিজেদের প্রয়োজনীয় কাজের পরিকল্পনা করতে পারেন। কিন্তু কোনো ঘোষণা ছাড়াই দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা এবং পরে ঘন ঘন লোডশেডিং জনদুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
ভুক্তভোগীরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি অনিবার্য কারণে বিদ্যুৎ বন্ধ রাখতে হলে আগাম ঘোষণা এবং গ্রাহকদের সঠিক তথ্য দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।