শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৩০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
হবিগঞ্জে সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন সবজির দাম বেড়েছে ॥ জনদূর্ভোগ জালালাবাদ এসোসিয়েশনের নির্বাচনে অধ্যাপক কামরুল হাসান সভাপতি ও অ্যাডভোকেট জসিম সম্পাদক নির্বাচিত নবীগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ২২ জনের নাম উল্লেখ করে ৮০ জনের বিরুদ্ধে মামলা আজ বানিয়াচং মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন শহরের বিভিন্ন বাজারে রোগাক্রান্ত গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগ নবীগঞ্জের চোখ হারানো আলিফের পরিবারের পাশে এনসিপি ॥ মায়ের খোঁজ নিলেন নেতৃবৃন্দ মাধবপুরে বিজিবির অভিযানে ৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার বাহুবলের সাটিয়াজুরি বাজারে মাদকের বিরুদ্ধে জনতার প্রতিবাদ সমাবেশ মাধবপুরে মাদ্রাসা ছাত্রী অপহরণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার ভিকটিম উদ্ধার হবিগঞ্জে নাছির উদ্দিন পাটোয়ারী ও সারজিস আলম সহ ১০ এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের

মাধবপুরে ট্রেনের নিচে ঝাপ দিয়ে দুই সন্তানসহ মা’র মৃত্যু ॥ আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলার সকল আসামী খালাস

  • আপডেট টাইম মঙ্গলবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮
  • ৬৩২ বা পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মাধবপুরে ট্রেনের নিচে ঝাপ দিয়ে দুই শিশু সন্তাসহ মা’র মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলায় উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ সকল আসামীকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। মামলায় মোট ২৭ জন আসামী ছিল। গতকাল সোমবার সাড়ে ৩ টার দিকে এ রায় দেন নারী ও শিশু নিযার্তন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক মোহাম্মদ হালিম উল্ল্যা। গত ২০১১ সালে ১৪ আগস্ট রাতে মাধবপুর উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের দুবাই প্রবাসী জিলন মিয়ার স্ত্রী ফেরদৌসী বেগম তার ৪ শিশু সন্তানকে নিয়ে সিলেটগামী সুরমা মেইলের নিচে ঝাঁপ দেন। এতে ২ সন্তানসহ ফেরদৌসী মারা যান। এঘটনায়, ১৬ আগস্ট ফেরদৌসীকে আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগে মাধবপুরর থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এস আই) মোঃ ইয়াছিনুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাত লোকজনদের আসামী করে মামলা দায়ের করেন। (মামলা নং-৪৮৫/১১)। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহজাহান ভূইয়া প্রায় ২ মাস মামলাটি তদন্ত করে আন্দিউড়া ইউপি চেয়ারম্যান ও মাধবপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী আতিকুর রহমান আতিক, গ্রামের মোড়ল তপন চন্দ্র দেব, মলাই মিয়া, আব্দুর রহমান চৌধুরী, ফজলুর রহমান, হাজী মহব্বত খা, করিম খা, ফুরুক মিয়া, রঙ্গু মিয়া, মোহাম্মদ আলী, আবু তাহের, রহিম, সুমন চৌধুরী, ফরিদ চৌধুরীসহ ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে ১৪ অক্টোবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
মামলার সূত্রে জানা যায়, মাধবপুর উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের দুবাই প্রবাসী জিলন মিয়ার স্ত্রী ফেরদৌসী বেগম (৩৫) এর সাথে পাশের বাড়ির আব্দুল কাদির নামে জনৈক যুবকের পরকিয়া প্রেমের সম্পর্ক এবং শারীরিক সম্পর্ক আছে বলে মিথ্যা অভিযোগ তুলেন জিলনের ভাই ও ভাবীরা। এলাকা জুড়ে এ বিষয়টিকে নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন ফেরদৌসি। এদিকে বিষয়টি ফেরদৌসির বাবার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার সেজামুরা গ্রাম পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০১১ সালের ১৪ আগস্ট গ্রাম্য মাতব্বরা মহব্বত হাজীর বাড়িতে এক সালিশ বৈঠকে আয়োজন করেন।
সালিশে স্থানীয় আন্দিউড়া ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান আতিকের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠকে বসেন সাবেক মেম্বার মলাই মিয়া, আব্দুল রহমানসহ গ্রামের অন্যান্য মোড়লরা উপস্থিত ছিলেন। উক্ত সালিশে ফেরদৌসী ও কাদেরকে দোষী সাব্যস্ত করে কান ধরে উঠবস করানো হয় এবং ৫ জন মৌলভী ডেকে তওবা করার নির্দেশ দেয়া হয়। কাদির এ নির্দেশ পালন করলেও ফেরদৌসী তা করেন নি। ফলে মাতব্বররা তাকে সামজচ্যুত করার ঘোষণা দেন। ওই রাতেই প্রায় ৩টার দিকে নিজ ঘর থেকে ৪ সন্তানসহ তার বাবার বাড়ি সেজামুড়া যাওয়ার কথা বলে শাহপুর ষ্টেশনে আসে। এ সময় চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী সুরমা মেইলের নিচে ৪ সন্তানসহ আত্মহত্যার জন্য ঝাঁপ দেয় ফেরদৌসী। এতে ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান ফেরদৌসী ও তার মেয়ে বন্যা। হাসপাতালে নেয়ার সময় মারা যায় তার ছেলে শাওন। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় তার ছেলে কুদ্দুস রহমান জীবন ও মেয়ে ঝর্ণা তবে ২ জনই গুরুতর আহত হয়। ঘটনাটি জানার পরই জিলন মিয়া দুবাই থেকে দেশে চলে আসেন। জিলন মিয়া দেশে আসার পর ফেরদৌসী ও ২ সন্তানের দাফন সম্পন্ন করা হয়। আহত ২ সন্তানকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রেখেই কর্মস্থল দুবাইয়ে ফিরে যান জিলন মিয়া।
হবিগঞ্জের নারী শিশু আদালতের বিশেষ পিপি আবুল হাশেম মোল্ল্যা মাসুম বলেন- মামলার সাক্ষীরা ঠিকমত সাক্ষ্য প্রদান না করায় আসামীরা আজ বেকসুর খালাস পেয়ে গেছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com